বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১২:২১ অপরাহ্ন

বিশ্বব্যাপী সঙ্কট থাকা সত্ত্বেও ২০২২ সালে রেমিট্যান্স ৫% বৃদ্ধি পেয়েছে : বিশ্বব্যাংক

নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোর (এলএমআইসিএস) রেমিট্যান্স ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী সঙ্কট মোকাবেলা করেও আনুমানিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬২৬ বিলিয়ন ডলারে দাড়িয়েছে। সর্বশেষ বিশ্বব্যাংকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্রিফ অনুসারে, এটি ২০২১ সালের ১০.২ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম।
রেমিট্যান্স হলো এলএমআইসিস-এর পরিবারের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস, যা দারিদ্র্য দূর করে, পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নত করে এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের জন্মেকালীন ওজন বৃদ্ধি এবং উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির হারের সঙ্গে যুক্ত।
সমীক্ষাগুলোতে দেখা যায় যে রেমিট্যান্স প্রাপক পরিবারগুলোকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে, যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, উন্নত আবাসনের অর্থায়নের মাধ্যমে এবং দুর্যোগের পরে ক্ষতি মোকাবেলা করার মাধ্যমে এটি হতে পারে।
উন্নয়নশীল অঞ্চলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২০২২ সালে বেশ কয়েকটি কারণে সংগঠিত হয়েছিল। কোভিড-১৯ মহামারী হ্রাস পাওয়ায় স্বাগতিক অর্থনীতিগুলো পুনরায় চালু করা অভিবাসীদের কর্মসংস্থান এবং তাদের পরিবারকে সহায়তা করার ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করেছিল। অন্যদিকে দাম বৃদ্ধি অভিবাসীদের প্রকৃত আয়ের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এছাড়াও রেমিট্যান্সের মূল্যকে প্রভাবিত করে রুবলের মূল্যায়ন, যা রাশিয়া থেকে মধ্য এশিয়ায় বহির্মুখী রেমিট্যান্সের মার্কিন ডলারের প্রকৃতি উচ্চতর মূল্যে রূপান্তরিত হয়।
এতে বলা হয় ২০২২ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্স আনুমানিক ৩.৫ শতাংশ বেড়ে ১৬৩ বিলিয়ন ডলারে দাড়িয়েছে, তবে ভারতের আনুমানিক ১২ শতাংশ লাভ থেকে বিভিন্ন দেশে একটি বড় বৈষম্য রয়েছে- যা এই বছরের জন্য প্রাপ্তিতে ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পথে রয়েছে – নেপালের ৪ শতাংশ বৃদ্ধি এই অঞ্চলের অবশিষ্ট দেশগুলোর জন্য ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
প্রবাহের সহজীকরণ মহামারী চলাকালীন প্রবাহকে আকর্ষণ করার জন্য কিছু সরকার প্রবর্তিত বিশেষ প্রণোদনা বন্ধ করার পাশাপাশি অবৈধ পথে ভালো বিনিময় হার অফার করার সুযোগগুলোকে প্রতিফলিত করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য ওইসিডি দেশগুলোতে মজুরি বৃদ্ধি এবং একটি শক্তিশালী শ্রম বাজারের মাধ্যমে ভারতে রেমিট্যান্স বাড়ানো হয়েছিল। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল গন্তর‌্যমূখী দেশগুলোতে, সরকারগুলো সরাসরি সহায়তা ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে কম মুদ্রাস্ফীতি নিশ্চিত করেছে, যা অভিবাসীদের রেমিট্যান্স করার ক্ষমতা রক্ষা করে। ২০২২ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে এই অঞ্চলে ২০০ ডলার পাঠানোর জন্য গড়ে ৪.১ শতাংশ খরচ হয়েছিল, যা এক বছর আগে ৪.৩ শতাংশ ছিল।
ইউরোপের ক্ষেত্রে, একটি দুর্বল ইউরো উত্তর আফ্রিকা এবং অন্যত্র রেমিট্যান্স প্রবাহের ইউএস ডলারের মূল্যায়ন হ্রাস করার বিপরীত প্রভাব ফেলে। যেসব দেশে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি এবং একাধিক বিনিময় হারের সম্মুখীন হয়েছে, সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ডকৃত রেমিট্যান্স প্রবাহ হ্রাস পেয়েছে কারণ প্রবাহ আরও ভালো হারের প্রস্তাবকারী বিকল্প চ্যানেলগুলোতে স্থানান্তরিত হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সামাজিক সুরক্ষা ও চাকরির জন্য বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ডিরেক্টর মাইকেল রুটকোভস্কি বলেন, অভিবাসীরা রেমিট্যান্সের মাধ্যমে তাদের পরিবারকে সহায়তা করার পাশাপাশি স্বাগতিক দেশগুলোতে কঠোর শ্রমবাজার সহজ করতে সহায়তা করে। অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষা নীতিগুলো শ্রমিকদের কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে তৈরি করা আয় এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তাগুলো কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করেছে। এই ধরনের নীতিগুলো রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলে এবং এটি অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে।
অঞ্চলভেদে, আফ্রিকা সবচেয়ে মারাত্মকভাবে সমসাময়িক সংকটের সম্মুখীন হয়, যার মধ্যে রয়েছে মারাত্মক খরা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি। সাব-সাহারান আফ্রিকায় রেমিট্যান্স গত বছরের ১৬.৪ শতাংশের তুলনায় ৫.২ শতাংশ বেড়েছে বলে অনুমান করা হয়।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com