সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১১:৫১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
এই সরকার বাংলাদেশকে চরম অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে – ডা. শাহাদাত এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধে অভিযান ৪ ব্যক্তিকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পরিকল্পিত আবাসন গড়ার মাধ্যমে নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী গড়তে হবে দেশে ফিরলেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী জুলধা রোহান ডেইরী ফার্মের গরু বিক্রির ২লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করতেই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির নাটক ! সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কন্যা শিশুদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য : প্রধানমন্ত্রী দেশে সাম্প্রাদায়িক সম্প্রতি বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর : আইনমন্ত্রী দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু পূজায় জঙ্গি হামলার কোনো হুমকি নেই : র‌্যাব ডিজি সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে : কৃষিমন্ত্রী

চট্টগ্রামের পুত্রবধু জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী আর নেই

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মি‌নি‌টে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ‌তি‌নি মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন সাজেদা চৌধুরীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ রায়হান। উচ্চরক্তচাপসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা নিয়ে আগস্টের শেষের দিকে ঢাকার এই হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি হন তি‌নি।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাজেদা চৌধুরীর ছেলে সাহাব আকবর চৌধুরী লাভুও। তিনি জানান, তার মা রাত ১১টা ৪০ মি‌নি‌টে মারা গেছেন।

আজ সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মরহুম সাজেদা চৌধুরীর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ জোহর তার নির্বাচনী এলাকা নগরকান্দায় হবে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা। বাদ আসর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে সাজেদা চৌধুরীকে। এসব তথ্য জানান, সাজেদা চৌধুরীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ রায়হান।

সাজেদা চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৫ সালের ৮ মে, তার বাবার নাম সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ এবং মা সৈয়দা আছিয়া খাতুন। সাজেদা তরুণ বয়সেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সালে তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন সাজেদা চৌধুরী, তখন কলকাতা গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৫ সালে তিনি বাংলাদেশ নারী পুনর্বাসন বোর্ডের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে বাংলাদেশ গার্লস গাইডের ন্যাশনাল কমিশনারও ছিলেন তিনি।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন সাজেদা। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে দেশে ফেরার পর তার সঙ্গেও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর ১৯৯২ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে ছিলেন। ফরিদপুর-২ আসন থেকে তিনি অনেকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম সংসদেও তিনি নির্বাচিত হন। এরপর বারবার তিনি ওই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে টানা সংসদ উপনেতার পদে ছিলেন তিনি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন সাজেদা। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বও শেখ হাসিনা তাকে দিয়েছিলেন। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ২০১০ সালে সাজেদা চৌধুরী স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com