শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন ২৮ হাজার টাকা শিমু হত্যার দায় স্বীকার করে স্বামী নোবেল ও বন্ধু ফরহাদের জবানবন্দী প্রদান শিশুদের মধ্যে হঠাৎ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী একদিনে করোনায় মৃত্যু ১২ শিকলবাহা খাল খনন শেষ হলে বাড়বে শহরের সৌন্দর্য’ মেলা-খেলায় লাগবে টিকা ও নেগেটিভ সনদ বিএনপি বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ সরকারের কাছে আছে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী সিএনজিকে নজরদারিতে আনতে গাড়িতে কিউআর কোড স্টিকার স্থাপন সন্ধ্যার পর নদী থেকে বালু উত্তোলন না করার নির্দেশ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যু ১

একজন চট্টলবীর মহিউদ্দিন চৌধুরী

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত সাবেক সফল মেয়র এবি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি । শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি চট্টগ্রামের অবসংবাদিত সিংহ পুরুষ মরহুম আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পাঁচ দশকের বেশী সময়ের রাজনৈতিক সংগ্রামী জীবন।

একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে কেমন ছিলেন,চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সফল মেয়র হতে পেরেছেন কিনা,এই সব বিষয় নিয়ে কথা বলার দুঃসাহস আমার হয়নি ?আমি একজন মানবিক ও বিচক্ষণ মহিউদ্দিন চৌধুরীকে জানি। ৯১ এর প্রলংকরী ঘূর্ণিঝড়ের বিষাদময় স্মৃতির কথা আমার মনে আছে।সপ্তাহ জুড়ে অন্ধকারে ছিল চট্টগ্রাম নগর।
ঘূর্ণিঝড়ের একদিন পর পারিবারিক ভাবে মাইক্রো করে বিশুদ্ধ পানি নিয়ে আমরা পতেঙ্গা কাটগড়ে গিয়ে একজন মানবিক মানুষের নাম শুনতে পেয়েছিলাম।মানুষের প্রতি মহিউদ্দিন চৌধুরীর দরদ ও সাহসের কথা ছড়িয়ে পড়েছিল তৎকালীন সময়ে। তার মধ্যে ১৯৯১ এর ঘূর্ণিঝড়ের পরে চট্টগ্রামে অনেক মানুষের লাশ নিজে অন্যদের সাথে নিয়ে স্ট্রেচার দিয়ে সরিয়ে কাফন ও দাফন করেছিলেন।
সেই থেকেই আমার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন গণমানুষের পিতার নাম। এখনো শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে যায় এই মানবিক চট্টলপিতার নাম শুনলে।
একজন রাজনীতিবিদের চরিত্রকে ছাপিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের প্রিয়নেতায়। শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নয়, তাঁর নিজগুণে তিনি হয়ে উঠেছিলেন চট্টগ্রামবাসীর আস্থার প্রতীক।ছাত্ররাজনীতির তৃনমূল থেকে উঠে আসা রাজনীতিবিদ মহিউদ্দিন চৌধুরী ষাটের দশকের শেষ দিকে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন বিধায় ওয়ার্ড ভিত্তিক ছাত্র সংগঠেনের প্রতি টান ছিল প্রবল। এলাকার মানুষ থেকে গল্পে আড্ডায় সেই ওয়ার্ডের রাজনৈতিক কর্মীর চারিত্রিক গুনাগুনের খবর নিয়ে রাজনৈতিক দূরদর্শীতায় পরিচয় দিতেন। ২০১৩ সালে আমি হজ্ব পালন করতে গিয়ে মক্কায় মেয়র হজ্ব কাফেলার হোটেল রুমে প্রায় ৪৫ মিনিট কথোপকথনে আমার পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকার রাজনৈতিক খবরাখবরে প্রমাণ মেলে বিচেক্ষন এই সংগঠককে।উল্লেখ্য যে,অনেকের মধ্যে বন্ধুবর হাবিবুর রহমান তারেকের নামটিও ছিল। ( সাবেক সহ-সম্পাদক,কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ)। প্রায় ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ,যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের শীর্ষ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রজ ভূমিকা রাখতে গিয়ে বহুবার রাজনৈতিক কারাবরণ ও নির্যাতন সহ্য করে গেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আর্দশের রাজনৈতিক দল থেকে সরে দাঁড়াননি। চট্টগ্রামের প্রতি অগাত ভালোবাসা থাকার কারনে রাজনৈতিক ভাবে কেন্দ্রীয় পদের জন্য প্রস্তাব থাকলেও চট্টগ্রামের মায়া ছেড়ে যেতে চাননি রাজধানী ঢাকায়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বাজেট স্বল্পতার মাঝেও মেয়র থাকাকালীন নিজ মেধা গুনে কাঙ্খিত উন্নয়নের লক্ষ্যে অনেককিছু করতে চেষ্টা করেছিলেন। সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বৃদ্ধির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রজেক্ট তৈরীর মাধ্যমে সরকারের নির্ভরতা থেকে বের করে আনলেন বিচক্ষণতার সহিদ। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক মৌলিক চাহিদা গুলো যেমনঃ স্বাস্থ্য সেবা,শিক্ষা ব্যবস্থা,চলাচলের রাস্তা পাকা করণ,সড়ক প্রশস্তকরন সহ পিচঢালা করা,ভোকেশনাল ও কম্পিউটার ট্রেনিং,পর্যাপ্ত সবুজায়ন করে নগরবাসীকে একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দিতে সচেষ্ট ছিলেন সবসময়।
তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কর্পোরেশনের প্রশাসনিক
কর্মযজ্ঞের ভালমন্দ নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ থাকাই স্বাভাবিক। দক্ষ প্রশাসকের ভূমিকায় পালন করতে গিয়ে অনেকের হৃদয়ে ভাল বা মন্দের স্থান করে নিলেও তিনি তাঁর নিজগুণে ও কাজের মধ্য দিয়ে এখনো চট্টগ্রামের অভিভাবকের আসনে আসীন।চট্টগ্রামের রাস্তাঘাটে মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকরী উদ্যোগ না দেখলে নগরবাসী পরিতাপের সুরে এখনো বলতে থাকেন,”যদি মহিউদ্দিন চৌধুরী বেঁচে থাকতেন” তাহলে দুর্ভোগ এত চরম পর্যায়ে হতো না ।
কীর্তিমানের মৃত্যু নেই,চট্টগ্রামের একজন রাজনৈতিক জনবান্ধব নেতা ও গণমানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন বলেই এখনো মানুষের মুখে মুখে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এ কিংবদন্তির মৃত্যুর ৩ বছর পার হলেও চট্টলবাসীর সমস্ত আবেগ উদ্দীপনা ও আস্থার ঠিকানা এখনো চট্টলবিস্ময় মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারকে কেন্দ্র করে আঁকড়ে আছেন । তাঁর উপস্থিতি আমাদের মাঝে নেই,কিন্তু তাঁর উত্তরসুরী তারই সুযোগ্য সন্তান ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল চট্টলার আলোকবর্তিকা হিসেবে আমাদের পাশে থাকবেন। আর প্রত্যাশা চট্টগ্রামের হ্যামিলয়নের বাঁশীওয়ালা মহিউদ্দিন চৌধুরীর আরাধ্য ও অসম্পূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন ।

মুহাম্মদ সাজিদুল হক

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com