বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:০২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
সিএন্ডএফ এজেন্টস নির্বাচনে সম্মিলিত-সমমনা ঐক্যজোটের আত্বপ্রকাশ ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদযাপন উপলক্ষ্যে চসিকের “ওরিয়েন্টশন ও পরিকল্পনা সভা” চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এত আঘাতের পরেও খালেদাকে সুযোগ দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর জাহাজ ‘তুলসা’ ভিড়লো চট্টগ্রাম বন্দরে আবরার হত্যা: ২০ জনের ফাঁসি, ৫ জনের যাবজ্জীবন প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে নগরীতে ভূমিকম্প সহনীয় আবাসন নির্মাণ করার আহবান মেয়রের নগরীতে এবার ড্রেনে পড়ে নিখোঁজ ১০ বছরের শিশু একজনের ৫টির বেশি সিম নয়: সংসদীয় কমিটি

টরন্টোর চিঠি

টরেন্টো থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী

প্রিয় ফেসবুকের বন্ধু এবং সকালের চট্টগ্রামের পাঠক- পাঠিকাদের প্রতি প্রীতি ও শুভেচ্ছা। এখন টরোন্টোতে দিন 4 ঘটিকা বাংলাদেশে রাত্রি 2 ঘটিকা। অর্থাৎ এখানে যখন কর্মচঞ্চল বাংলাদেশের তখন গভীর রাত্রি। আমি যখন এই চিঠি লিখছি তখন বন্ধুবান্ধবরা সবাই হয়তো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। আমাল ফেসবুক বন্ধুদের মধ্যে এখন জুনিয়র বন্ধুবান্ধবরা অনেক। নতুন প্রজন্মকে কিছু জানাবার জন্য অনেক জুনিয়ার এর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আমি গ্রহণ করি যদিও বয়সের তফাত অনেক তবু মন মানসিকতায় তারা যেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংস্পর্শে এসে আমরা যেটা করতে পারিনি তারা যেন সেটা করতে পারে একটি নতুন সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ সেটাই আমাদের কামনা। স্বাধীনতার অব্যাহতি পরে আমরা দেশের একটি আমূল পরিবর্তন করতে পারতাম কিন্তু সেটা আমরা করতে পারিনি একটি পতাকা একটি জাতীয় সংগীত একটি নতুন দেশ যদিও আমরা পেয়েছি কিন্তু উপনিবেশিকতার পাকিস্তানি ভাবধারা হইতে আমরা মুক্ত হতে পারেনি। সুতারং শাসক বদলে গেছে তার বদলে আমরা যা পেয়েছি নতুন বোতলে পুরাতন মদ। স্বাধীনতার পর আমরা আমাদের অবকাঠামোগত পরিকল্পনা এবং দেশের বৃহত্তর ঐক্যের সাথে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দলগুলোকে নিয়ে একটি বিপ্লব সরকার গঠন করতে পারতাম। এতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক যে কথা স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে গড়ে উঠেছিল বা কিছুসংখ্যক বাদে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল তা অটুট থাকত। সুতরাং কিছু না হওয়াতেই প্রশাসনিক দুর্নীতি হা স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি যে পর্যায়ে ছিল মুক্তিযুদ্ধের পর যাকরতে পারতাম তা হলো না। দেশ-বিদেশের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে মুক্তিযোদ্ধাগন বিভিন্ন মতাদর্শে বিভক্ত হয়ে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। একটা নতুন জাতি হিসেবে আমাদের গড়ে ওঠার মে সিঁড়িগুলো ছিল তা ভেঙ্গে পড়ে যার ফলাফল এখনো আমরা ভোগ করছি। কানাডা টরোন্টোতে তাদের নগর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে 70 বছর আগে। যা আমরা এখন চিন্তা করছি। এখানে মেট্রোরেল, এলিভেটর। ট্রাম লাইন। পাতাল রেল। এবং বিলাসবহুল সুশৃংখল গণপরিবহন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বহু পূর্বে। যেমন এখানে যেখানে টরন্টো নগরী গড়ে উঠেছে বা অফিস-আদালত আছে তাদেরকে ডাউনটাউন বলে। সমস্ত নগর সাথে ডাউনটাউন যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত। ডাউনটাউন অর্থাৎ কর্মব্যস্ততা জায়গা মানে আমাদের মতিঝিল। এখানে গাড়ি পার্কিং করা অনেক টাকা দিতে হয়। এই জন্য দিতে হয় যেন এখানে কেউ ব্যক্তিগত গাড়ি না এনে যানজট সৃষ্টি যেন করতে না পারে। সেজন্য এখানে মেট্রোরেল এবং দ্বিতল রেল আর ট্রাম লাইন বিলাসবহুল গণপরিবহন রয়েছে যারা দিনরাত সার্ভিস দিচ্ছে। মনে করুন আপনি এখানে 50 মাইল দূর থেকে এসে অফিস করতে পারবেন। প্রত্যেকটি সাব ওয়ে রেল স্টেশনে গাড়ির পার্কিং ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি আপনার ব্যক্তিগত গাড়িটি ওখানে রেখে নামমাত্র পার্কিং চার্জ দিয়ে আপনি মেট্রো রেলে উঠে পড়লেন 40 মিনিটের মধ্যে আপনি অফিসে পৌঁছে যাবেন আবার অফিস থেকে এসে আপনার ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বাসায় চলে আসবেন। এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যেন মিড টাউনে যানজট না হয়। সেদিন দেখলাম যানজটের জন্য বাংলাদেশ একজন পরীক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় উপস্থিত হতে পারেনি। এখানে মানুষের চেয়ে রাস্তাঘাটে গাড়ি ঘোড়া অনেক বেশি তারপরও কোন যানজট নেই। লোকাল বাসের গন পরিবহন ব্যবস্থা এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন রং এর। যেমন টরন্টোর এলাকায় গণপরিবহন বাসগুলো লাল ধরনের আবার হেমিলটন এলাকার গণপরিবহন অন্য রং। শহর এলাকার বাস গুলতে মাস ভিত্তিক টিকেট ক্রয় করতে পারেন। স্টপেজ গুলোতে বাস গুলোর আসা-যাওয়ার ডিসপ্লে আছে আপনি জানতে পারবেন কোন বাস কয়টায় আসে। প্রত্যেকটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাসার আনাচে-কানাচে ফায়ার সার্ভিসের দমকলের পাইপের সংযোগ রয়েছে যেন আগুন লাগলে পানির জন্য দৌড়াতে না হয়। ওখানে পাইপের মুখে সেটিং করে দিলেই অনবরত পানি বের হবে। এইগুলি সামনে কোন অবস্থায় গাড়ি পার্কিং করা চলবে না। কেউ যদি ওখানে গাড়ি পার্কিং করে তাকে অনেক টাকা ফাইন দিতে হবে। কোনখানে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির জন্য সমস্ত গাড়ি থেমে থাকতে হবে ফায়ার সার্ভিসের সাথে এম্বুলেন্স এবং পুলিশের গাড়ি এইগুলি থাকবে। ওরা যখন কোনো অ্যাপার্টমেন্টে আসে ওদের ক্লিয়ারেন্স সাইরেন যখন বাজবে তখন মাত্র লোক বাহির হতে পারবে। ময়লা গুলো নির্দিষ্ট ডাকনা ওয়ালা ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। সব জায়গায় পাশাপাশি দুইটা ডাস্টবিন থাকে। একটিতে ময়লা আবর্জনা অন্যটিতে পলিথিন ও প্লাস্টিক ইত্যাদি। সেখানে ছবি আঁকা থাকে। ময়লা গুলো নেয়ার সময় যা অধিকাংশ রাত্রিবেলায় হয় সেগুলি সাথে সাথে চাপ দিয়ে গুঁড়ো করে ফেলা হয় এবং আবদ্ধ গাড়িতে এগুলি নেওয়া হয় যেন কোন মতেই দুর্গন্ধ রাস্তায় ছড়িয়ে না পড়ে। এখানে একটি লক্ষণীয় ব্যাপার রাস্তাঘাটে এত ঝোপঝাড় থাকলেও কেউ রাস্তায় বা গাছের আড়ালে প্রস্রাব করে না। প্রত্যেকটি মল রেস্টুরেন্ট সুন্দর সুন্দর ওয়াশ রুমের ব্যাবস্থা রয়েছে। আপনি গাড়ি থামিয়ে ওখানে প্রয়োজনীয় কাজ ছেড়ে আসতে পারেন। প্রত্যেকটি পার্কে খাবার পানির সুব্যবস্থা এবং আধুনিক ওয়াশ রুম রয়েছে। যা বাংলাদেশ আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। আমরা পারি নাই। আমরা যখন স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আমরা দ্বিতীয় বর্ষের অনার্স ছাত্র। তখন ডঃ ইউনুস একটি স্বাধীন দেশে প্রশাসন কিভাবে হবে ফ্রান্সের একজন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ বোধহয় রি ডাউনটি একটি অর্থনৈতিক প্রশাসনিক রূপরেখা দিয়েছিল। এখানে জনপ্রশাসন কিভাবে হবে। মন্ত্রীরা কখন কোথায় থাকবে খুব সুন্দর একটি অত্যন্ত উন্নয়ন রূপরেখা ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের নিউ ইকোনমিক পলিসি আমেরিকার রুজভেল্ট নিউ ডিলের মত যেটা আমরা সে সময় বাস্তবায়ন করা কঠিন ছিল না। কিন্তু সেটা সে সময় করা যায়নি এখন করা সম্ভব না। সুতরাং একটি ছোট দেশের বিপুল জনসংখ্যা নিয়ে দুর্নীতি যেখানে নিত্যসাথী লোভ যেখানে অপরিসীম, দেশ প্রেম যেখানে ভগ্নাংশ ধর্মীয় কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা যেখানে নিত্য সঙ্গী সেখানে একটি সুন্দর দেশ আমরা কি করে তুলতে পারব সেই প্রশ্ন উত্তর কেউ দিতে পারবে। আজ চিঠির এখানে ইতি টানলাম। যদি নতুন প্রজন্ম কিছু করতে পারে আমরা তো মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি ভবিষ্যতের জন্য। শুভকামনা।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com