শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৪:৩২ অপরাহ্ন

তিনদফা দাবীতে পাটকল বদলি – অস্থায়ী শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলন

 বদলি – অস্থায়ী শ্রমিকদের বকেয়া সকল পাওনা ও ২০১৯ সালের সাপ্তাহিক পাওনা ও মিল বন্ধের নােটিশ পে – মজুরি পরিশােধসহ বন্ধ সকল পাটকল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চালুর দাবী করেন।

আজ মঙ্গলবার আমিনজুট মিল গেইটে সংবাদ সম্মেলনে পাটকল রক্ষায় কৃষক-শ্রমিক -ছাত্র জনতা ঐক্য,চট্টগ্রাম জেলা সদস্য সচিব কামাল উদ্দীন এই দাবী করেন।

লিখিত বক্তবে তিনি বলেন, সারাদেশে মানুষ যখন কৱেনভাইরাসে আতংকিত , স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে আক্রান্ত , লকডাউনের সময়ে গত ২রা জুলাই রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬ টি পাটকলের বন্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক একসাথে কর্মহীন হয়ে পড়ে । সে সময় প্রায় দুই মাসের মধ্যে সকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশােধ করে মিলগুলিকে আধুনিকায়ন করে পুনরায় চালু করার ঘােষণা দেয় সরকার । কিন্তু দীর্ঘ প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও সরকার দু ‘ নামের জটিলতা , কাচা ঘরের ভাড়া জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে এখনাে স্থায়ী শ্রমিকদের পাওনা পরিশােধের কার্যক্রম সম্পূর্ন করতে পারেনি । বদলি ও অস্থায়ী শ্রমিকদের পাওনা এখনাে শুরুই করা হয়নি । কবে নাগাদ পরিশােধ করা হবে তার সুনিদিষ্ট সময় এখনও জানাতে ব্যর্থ, পারেনি মিল কর্তৃপক্ষ তথা বিজেএমসি ও পাটমন্ত্রী । বিশেষ করে এই একবছরে বদলি শ্রমিকেরা দুর্বিষহ জীৱন যাপন করছে । এদের অধিকাংশ বেকার , যারা বাসা ভাড়া যােগাড় করতে পারছে না , না খেয়ে , বিনা চিকিৎসায় অর্থাভাবে মৃত্যুবরণ করেছে । তাদের সন্তানদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত । চরম হতাশায় এই শ্রমিকেরা দিন পার করছে । পাটকল চালুসহ পাওনা পরিশােধের দাবিতে গত বছর ধরে মানববন্ধন , শ্রমিক সমাবেশ , বিজেএমসি কার্যালয় ঘেরাওসহ আমরা বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করেছি । কিন্তু আজও কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবির ব্যাপারে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেনি । এই অবস্থায় শ্রমিকদের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই । তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের লােকসানের দেখিয়ে পাটকলগুলাে বন্ধ করা হয়েছে । এর সরাসরি ভূক্তভােগী শ্রমিকেরা । কিন্তু কাদের দোষে , কি কারণে প্রতিষ্ঠানগুলাে লােকসানি হলাে তা বের করার জন্য সরকার কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না । লােকসানের কারণ হিসাবে দুর্নীতি , অব্যবস্থাপনা , সমন্বয়হীনতা , পাট ক্রয়ে সিন্ডিকেটের প্রভাব , আধুনিকায়নে গাফিলতি , বাজারজাতকরণে উদ্যোগের অভাব এগুলােকে চিহ্নিত করা হলেও এই ব্যাপারে কোনাে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি । সরকারের ভূলনীতি এবং বিজেএমসি কর্মকর্তাদের দায় শ্রমিকরা কেন বহন করবে । এক সময় পাটকলগুলাে লাভজনক ছিল ,অথচ গত বিশ /পঁচিশ বছর ধরে বিজেএমসির কর্মকর্তাদের দুর্নীতি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হলে এই পাটকলের লােকসানের ; কারণ বেরিয়ে আসবে। দেশের বাজারে পাটের বহুমুখী চাহিদা প্রেক্ষিতে সরকারি উদ্যোগে পাটকলগুলাে লাভজনক সম্ভব । ম্যানডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট ২০১০ প্রণয়ন করা হয়েছিল। পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পাটের ব্যবহার বাড়ানাে যায় । চাল , গম , আটা , চিনিসহ ১৮ টি পণ্যের মােড়ক ব্যবহারে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার আদেশ জারি হয়েছিল । এগুলাে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে দেশের বাজারে পাটের সৃষ্টিি হব ।পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রন করলে বিকল্প হিসেেব পাটের ব্যাগ ও পাটজাত মোড়কের বিপুল সম্ভবনা রয়েছে। আগামী ২৪ জুন আমিনজুট মিলের সামনে অবস্থান ধর্মঘট । ২৮ জুন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্মারকলিপি পেশ । ৩০ জুন ঢাকায় কেন্দ্রীয় সমাবেশ ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘােষণা করা হবে। পাটকল রক্ষায় শ্রমিক-ছাত্র-জনতা ঐক্য, চট্টগ্রাম জেলার আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট আমির আব্বাস তাপুর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সত্যজিৎ বিশ্বাস ও আমিন জুট মিলস সিবিএ এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক,বদলি শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি বেলাল হোসেন,সাধারন সম্পাদক ফারুক মো:তানসেন,

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com