শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

ছোট বেলায় হবুচন্দ্র গবুচন্দ্র কবিতা

টরেন্টো থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী

ছোট বেলায় প্রাথমিক স্কুলে হবুচন্দ্র গবুচন্দ্র কবিতা পড়ে নাই এমন লোক খুব কমই আছে। সেখানে একটি লাইন আছে পাঠশালাতে ছাত্ররা বেত খেয়ে হাসে। কারণ রাজ্য আইন ছিল কাঁদতেকেউ পারবেনা। সুতরাং পাঠশালায় ছাত্রদের বেত মারা দেখা যায়আদি প্রাচীনকাল থেকেই ছিল। দিন যতই উন্নত হচ্ছে এই ধরনের নীপড়ন থেকে বিশেষ করে শিশু নির্যাতন অপরাধ বলে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় বিবেচিত হচ্ছে। পাশ্চাত্য দেশে শিশু নির্যাতন বিশেষ করে স্কুলে নেই বললেই চলে। এখানে একটি বিশেষ নম্বর আছে কোন শিশু যদি সেই নম্বরে টেলিফোন করে পুলিশকে জানায় তবে পিতা-মাতার বারোটা বেজে যাবে। এখানকার প্রাথমিক স্কুলে লেখাপড়া শিশুকে খেলাধুলার মাধ্যমে দেয়া হয়। বর্ণপরিচয় এবং গাণিতিক সংখ্যা শিখানো ছোট কাল থেকে গানের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আমার ছোট নাতি বর্তমান দেড় বছরের উপরে বয়স। তার খুব পছন্দ লুলু কাটুন। তাকে লুলু কাটুন দেখতেই হবে। সে দুধ খাবে লুলুকার্টুন দেখে দেখে। আমি দেখলাম সে কাটুন য়ে বিভিন্ন জীবজন্তু ছবির মাধ্যমে গানের সাহায্যে ওয়ান টু থ্রি বা ইংরেজি এবিসি বারংবার বাজানো হচ্ছে যাতে শিশু খুব ছোট খেলেই ইংরেজি বর্ণমালা এবং ইংরেজি শিক্ষার সাথে পরিচিত হয়ে যায়। আর আমার বড় নাতনি সোফিয়া বর্তমানে 7 বছর বয়স গ্রেডথ্রিতে পড়ে কানাডায় টরোন্টোতে। বাসার কাছে ইস্কুল। আমি তাকে সকালবেলায় দিয়ে আসি এবং বিকেল সাড়ে তিনটায় নিয়ে আসি। স্কুলে যাওয়ার জন্য তাদের খুব উৎসাহ। বাড়িতে কোন লেখাপড়া নেই। স্কুলে বিভিন্ন খেলাধুলা যন্ত্রপাতি অডিও ভিডিও দিয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। এবং তাদেরকে স্বাধীনভাবে বিভিন্ন রং বা তুলি দিয়ে চিত্রাংকন এক ধরনের কৃত্রিম মাটি দিয়ে বিভিন্ন প্রকার প্রাণী বানানো এইগুলি শিক্ষা দেওয়া হয়। স্কুল ছুটির সময় শ্রেণি শিক্ষক গার্জিয়ানদের হাতে তার প্রিয় ছাত্রটিকে তুলে দে য়। দেওয়ার সময় প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষকদের অনুমতি নিতে হয়। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক ছাত্রছাত্রীকে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। যদি কোন ছাত্র-ছাত্রী কিছু ব্যতিক্রম দেখে তখন গার্জিয়ান কে উপদেশ দেয়। প্রত্যেক গার্জিয়ান ছোট্ট শিশু স্কুলে কি করছে বা কতটুকু তার অগ্রগতি হয়েছে বিভিন্ন দিক দিয়ে তার একটি রিপোর্ট দেয়া হয়। মাঝে মাঝে ছাত্র-শিক্ষক এবং গার্জিয়ানদের সম্মলিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের দেশে সাধারণত ইস্কুলে প্রত্যেক স্কুলে নয় কিছু কিছু ইস্কুলে দুপুরের টিফিন সিঙ্গারা দেওয়া হয়। আমার বড় ছেলে যখন ধানমন্ডি গভ বয়েজ হাই স্কুল তৃতীয় শ্রেণীতে পড়তো তখন দেখতাম দুপুরে সিঙ্গারা দেওয়া হতো। সে মাঝে মাঝে খেত বা ফেলে দিত। কিন্তু এখানে প্রত্যেকদিন পুষ্টিকর খাবার একটি আপেল এবং একটি কেক দেয়া হয়। তারপরও বাড়িতে হতেটিফিন দেওয়া হয়। মাঝে মাঝে শিক্ষকরা ছেলে মেয়েদের নিয়ে বরফের মধ্যে পার্কে হাঁটতে যায় এবং তাদেরকে কষ্টসহিষ্ণু হতে পারে এবং বিরূপ আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে চলতে পারে সেই হিসেবে গড়ে তুলতে হয়। প্রত্যেক ক্লাসে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যায়াম শিক্ষা দেওয়া হয় নাচের মাধ্যমে বিভিন্ন আসনের মধ্যে হোক। আমার নাতনী মাঝে মাঝে এসে সেই ব্যায়ামগুলো আমাকে শেখায় এবং এখানে দেখলাম কিভাবে পায়ের সাথে পা মিলানো হয় এবং এই বয়সে সেই বিভিন্ন আসন জানে যা দেখে আমি বিস্মিত এবং অভিভূত। সে যখন আমাকে ঘুসি মারে তখন আমি খুব ব্যাথা পাই। যখন বরফ পড়ে তখন দেখি ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা স্কুলের বিরতির সময় বরফের গড়াগড়ি হয় একজনের প্রতি অন্যজনের বরফ গুলো জমা করে ছুড়ে মারে এবং আনন্দ করে। এই হল এদের শিক্ষা ব্যবস্থা বিপরীত দিকে বিশেষ করে আমাদের মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থায় বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে যে জিনিসটি সমাজের চোখে ভেসে উঠেছে এটা আগেও ছিল। যার জন্য মাদ্রাসার ছাত্ররা মু্ক্তচিন্তা বলে কিছু নেই। আমার ভাগিনা বর্তমানে সৌদি আরবে আছে তাকে কোরআনে হাফেজ শিক্ষার জন্য চট্টগ্রামের বায়তুশ শরফে দেওয়া হয়েছিল। মাঝে মাঝে তারকান প্রচন্ড ব্যথা করত বলতো হুজুররা থাপ্পড় মারে। পরে কানে পুঁজ পড়তো। এখন অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে এগুলো আর লুকানো যাচ্ছে না বা প্রকাশ্যে সবাই জানতে পারছে। হাটহাজারী মাদ্রাসায় শিক্ষক ছাত্রকে নির্যাতন করেছে সেও তার শিক্ষাজীবনে এমন ভাবে মার খেয়েছে। সে একই ব্যবস্থা তার ছাত্রের উপর প্রয়োগ করেছে। সুতরাং এগুলোর জন্য একটি সামাজিক বিপ্লবের দরকার এই জন্য সরকার এবং সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে এবং বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে। কওমী মাদরাসাসমূহকে একটি আইনের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। যাতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের মেধা ও মনন শীলতাকে কাজে লাগাতে পারে। উন্নত দেশে তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তুলে যেন প্রত্যেক শিশু নতুন কিছু একটি আবিষ্কার করতে পারে তাইজ্ঞানে-বিজ্ঞানে তারা অনেক উন্নত। ছোট কাল থেকে আমরা শিশুদের দোজখের ভয় দেখাতে থাকে সেখানকার নির্যাতন এবং আগুনে পোড়ানো এইসব ভয়-ভীতি শিশু কোমল হৃদয় একটি সীমারেখার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। যার জন্য আমরা পৃথিবী কে বাস যোগ্য গড়ে তোলার ব্যাপারে আমাদের অবদান খুবই কম। এই ধরনের মন মানসিকতা গড়ে উঠায় আমাদের মধ্যে ভোগ বিলাসের প্রবণতা খুব কিন্তু নতুন কিছু দিতে পারিনি জ্ঞানে বিজ্ঞানে যা পাশ্চাত্যে সম্ভব হচ্ছে।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com