মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

মনোরঞ্জন স্যার ও হারুন স্যারদের বাংলা পড়ানোর প্যারামিটারই ছিল আলাদা

জাকারিয়া কাজী

শিক্ষকদের ছাড়িয়ে যাওয়া মেধাবী ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা এদেশে কম নেই।ভার্সিটির এক সহপাঠিতো শিক্ষকের প্রশ্নের আগেই দাড়িয়ে যেত।সবাই চাপিয়ে বসিয়ে রাখতাম। কী মেধাবীরে বাবা! আমাদের গহিরা স্কুলের (রাউজান) মনোরন্জন চক্রবর্তী ও হারুনুর রশীদ স্যারদের বাংলা পড়ানোর প্যারামিটারই ছিল আলাদা। কঠিন বিষয়টিকেও অত্যন্ত সহজভাবে ঢুকিয়ে দিতেন আমাদের হৃদয় গহ্বরে।এই দুই গুরুজন থেকে যা আস্বাদন করেছি,তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এখানে।
পাশ দিলেই শিক্ষকতা করা যায়না কিংবা শিক্ষক হওয়া যায়না। বিশেষায়িত যোগ্যতা ছাড়া এ পেশা মোটেও সহজসাধ্য নয়।পরিপার্শ্বিক অবস্হায় যারা এ পেশায় এসেছেন,কেবল তারাই জানেন, “সম্মানীয় হলেও কতটা জটিল এ পেশা।” লাভজনক নয় বলেই হয়তো অনেকেই ইতি টানিয়ে রাজনীতিতেই প্রীত হয়েছেন।
আমিও সাময়িক শিক্ষকতা করেছি।তাই এ পেশার ‘ওয়ার্মআপ’ সম্পর্কে বেশ অবগত।
পাঠদানের আগে বিষয়টাকে ভাল ভাবে অনুধাবন করতে হয় শিক্ষকদের। ঘটনার আদ্যোপান্ত বোধগম্য না হলে কিংবা রস আস্বাদনে ব্যর্থ হলেই তা ছাত্র ছাত্রীদের মগজে ঢুকিয়ে দেয়া সহজসাধ্য হয়না। এক কথায় বিষয়বস্তুর রহস্য উন্মোচন করা ছাড়া শিক্ষকদের জন্য ‘পাঠদান’ একেবারেই কঠিন,জটিল। পাখীর মতো গলাধঃকরণ করার সক্ষমতা থাকলেই কেবল বাচ্চাদের মুখে সাবলীলভাবে আহার তুলে দেয়া সম্ভব। যিনি যত পারঙ্গমতায় ছাত্র ছাত্রীদের হাতে পাঠ তুলে দিতে পারেন,তিনি ততই সার্থক শিক্ষক।
রাজনীতিবিদ ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিংবা ডঃ মোশাররফ হোসেন–দুজনই শিক্ষককতায় কাটিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনের রস আস্বাদনে তাদের বেগ পাবার কথাও নয়। এ ভাষনটি শুনতে অত্যন্ত শ্রুতিমধুর,বারবার শুনেও তৃপ্তি মেটানো যায়না। এ ভাষনের মর্মার্থ অনেক বেশী।। এ ভাষনের সার সংক্ষেপ নেই,তবে প্রতিটি বাক্যকে নিয়ে করা যায় ভাবসম্প্রসারন। কিন্তু বিএনপি শিক্ষকবৃন্দ বিশ্ব কাঁপানো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের মর্মার্থ বুঝতে পারেন নি –এটা কি মেনে নেয়া যায়? বুঝতে না পারলে তারা মুজিব হত্যাকান্ডের পর এই ভাষন প্রচারে (সারাদেশে) নিষেধাজ্ঞা জারী করেছিলেন কেন? চলচিত্রের পর্দায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ছবিও চাকু চালিয়ে মুছে দিয়েছিল কেন? আসলে জেনে শুনেই তারা হটকারিতার আশ্রয় নিয়েছিল। জীবিত মুজিবের চেয়ে মৃত মুজিব অনেক শক্তিশালী ছিল বলে তারা বাসা বাড়িতেও বঙ্গবন্ধুর ছবি রাখতে দেননি–যা ছিল তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনারই বহিঃপ্রকাশ।পানি ঘোলা করার ৫০ বছর পর সেই ৭ই মার্চ পালন কি “নাকে ক্ষত” দেয়ার নামান্তর নয়?
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই বাজারে ‘খবর’টি একটুও প্রভাব ফেলতে পারেনি। আলোচনা সভায় “মুজিব প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন বলে ৭ই মার্চ স্বাধীনতা ঘোষনা করেননি” বলে যারা বক্তব্য দিয়েছিলেন,তাদেরকে কঠোর ভাষায় তুলোধোনা করেছেন,মুক্তিযুদ্বের খলিফাখ্যাত বিনপি ঘরানার আ, স, ম, আবদুর রব, নুরে আলম সিদ্দীকিসহ,অনেক ইতিহাসবিদ।
“এক নেতার এক দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ”– এমন ব্যন্জনার মাঝে ঘোষক,শোষক, তোষক বলে কাউকে বঙ্গবন্ধুর পাশে দাড় করানো অত্যন্ত হতাশাজনক–যা ইতিহাসের বাজারে আর খাওয়ানো যাবেনা। ৭ই মার্চের ভাষন সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু সংসদ,নেতা হিসাবে ১৯৭৩ সালের সংসদ অধিবেশনেও বিস্তারিত তুলে ধরেছিলেন–যা গত সংসদের সমাপ্তি অধিবশেন প্রচারিত হয়েছিল। ভাষনটি শুনলে সবকিছু ফকফকে সাদা হয়ে যাবে।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com