শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে করোনার চেয়ে বড় আতঙ্ক সড়ক দুর্ঘটনা

মারুফ শাহ চৌধুরী

টরন্টো থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী:

সারা পৃথিবীতে এখনও সবচেয়ে বড় আতঙ্ক করোনাভাইরাস কিন্তু বাংলাদেশে বড় আতঙ্ক করোনার চেয়ে তা হল সড়ক দুর্ঘটনা। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রতিদিন যে কজন মারা যাচ্ছে তার চেয়ে বেশি মারা যাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায়। পার্থক্য শুধু এইটুকু করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা ছোঁয়াচে নয়। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি উপসর্গ দেখে পরীক্ষা করে বলা যায় ব্যক্তিটি করোনা আক্রান্ত। এই ভাইরাস প্রতিহত করার জন্য বিশ্বের বড় বড় গবেষণার গুলো গবেষণায় ব্যস্ত কিভাবে এই ভাইরাসকে প্রতিহত করা যাবে। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা এর প্রতিকারে কোন টিকা নেই বা কোনো ঔষধ নেই আছে শুধু ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলা এবং নিজের মস্তক ঠিক রাখা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ। আমি বর্তমানে কানাডায় মেয়ের কাছে নাতি-নাতনিদের কাছে থাকার জন্য টরোন্টোতে আছি। যেহেতু এটি উন্নত দেশ প্রত্যেকেরই কমবেশি সবারই গাড়ি আছে। সারারাত রাস্তায় গাড়ি চলে আর আছে গণপরিবহন ব্যবস্থা। সবচেয়ে বড় আশ্চর্য সড়ক দুর্ঘটনার কম হওয়ার কারণ এইখানে মানুষকে সময় চেয়ে জীবনের দাম অনেক বেশি। যেটা আমাদের দেশে নিছক কেউ স্লোগান। এখানে কেউ কাউকে ওভারটেক করে না। আমাদের দেশের মতো রাস্তার মাঝে দুই হাত দুদিকে দিয়ে কেউ রাস্তা পার হয় না। কেবলমাত্র পথচারী পারাপার এবং যেখানে যাত্রীর চিহ্ন সম্বলিত লাইট আছে সেখান দিয়ে শুধু পথচারী পারাপার হয়। যে সমস্ত জায়গায় এই সমস্ত সাংকেতিক চিহ্ন নেই যেমন গলির মুখ সেখানে যাত্রী পারাপার কি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আপনি 20 মিটার দূরে থাকলেও গাড়ি আপনি আপনি থেমে যাবে আপনি রাস্তা পার হলে তারা যাবে। গভীর রাত্রি যখন লোক চলাচল কম থাকে তখন দেখি সুউচ্চ ভবন থেকে প্রত্যেক গাড়ি সিগন্যাল লাইট মেনে চলছে। পথে-ঘাটে কোন ট্রাফিক পুলিশ নেই। কিন্তু আপনার গাড়ির গতিবিধি সবগুলো ক্লোজ ক্যামেরায় রেকর্ড হচ্ছে মাসের শেষে বুঝতে পারবেন কি অপরাধ আপনি করেছেন। আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে পয়েন্ট কাটা যাবে। কি যাত্রী কি ড্রাইভার সবাই সিটব্যাল বাধ্যতা মূলক।এইজন্য এখানে আইন সবাই মেনে চলে বিধায় সড়ক দুর্ঘটনা হার খুবই কম। কিন্তু আমাদের দেশে কেন এটা সম্ভব হচ্ছে না হতে পারে আমাদের আইন না মানার মানসিকতা সড়কে ওবাজারে চাঁদাবাজি। ট্রাফিকের ঘুষ বাণিজ্য ইত্যাদি প্রধান। রাস্তাঘাটে বা ফুটপাতে হকার ব্যবসা তার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের। এই অবৈধ ইনকাম সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ । পথে-ঘাটে গাড়ি থামিয়ে দলীয় চাঁদাবাজি। ট্রাফিক পুলিশ দৌরাত্ম্য এগুলো অহেতুক যানজটের সৃষ্টি করে। যায় দেশে কল্পনা করা যায় না। আমাদের দেশের গাড়িচালক বা পরিবহন শ্রমিক যখন গাড়ি নিয়ে আমাদের ক্যান্টেনমেন্টের ঢুকে সেটা দেখানো হোক বা খোদ রাজধানী ঢাকাতে হোক তখন আমাদের গাড়ির চালক পরিবহন শ্রমিক সবাই সুবোধ বালক হয়ে যায় এবং সবাই ট্রাফিক আইন মেনে চলে যত্রতত্র রাস্তা পার হয় না। ফুটপাতের দোকান নেই। বাংলাদেশে ক্যান্টনমেন্ট নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা নেই বললেই চলে। উন্নত দেশে জনসংখ্যা কম এই দোহাই দিলে চলবে না দরকার শক্ত আইন এবং ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা এটা আমাদের দেশে কেন সম্ভব হচ্ছে না সেটা আল্লাহ জানে। জানিনা বাংলাদেশ কবে এই অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে যা প্রতিদিন কেড়ে নিচ্ছে অনেক মূল্যবান প্রাণ।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com