শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন

শিক্ষার মান উন্নয়ন, ঝরেপড়া রোধ ও শিক্ষায় অর্থের অপচয় রোধে সকলের ভূমিকা রাখতে হবে

শিক্ষার সংস্পর্শে না আসা শিশু রাষ্ট্রের জন্য বোঝা, এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য সরকার নানভাবে কাজ করছে। ঝরে পড়া শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ করে দিতে আউট অব স্কুল চিলড্রেন কর্মসূচী শুরু হচ্ছে। আমার প্রত্যাশা থাকবে নগরীর বস্তি এলাকাগুলোতে যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ বিদ্যালয়গুলো স্থাপন করা হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কোন শিক্ষার্থী এসব বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যেন সরকারি অর্থের অপচয় না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। নতুন এ বিদ্যালয় সংক্রান্ত যে কোন সহযোগিতা আমাদের দিক থেকে অব্যাহত থাকবে । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, চট্টগ্রাম জনাব মো: শহীদুল ইসলাম উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহযোগিতায় এবং যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (জেএসইউএস) ও ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম (বিবিএফ)-এর আয়োজনে সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পাঁচ বছর মেয়াদি চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচীর (পিইডিপি-৪) সাব কম্পোনেন্ট ২.৫ আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রামের আওতায় আরবান এলাকার থানাভিত্তিক অবহিতকরণ সভা গতকাল বেলা ১১ ঘটিকায় নগরীর শিশু একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারি পরিচালক জনাব জুলফিকার আমিন মহোদয়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা জনাব নুরুল আবছার ভূঁঞা, চসিক’র মহিলা কাউন্সিলর আফরোজা কালাম, জেএসইউএস নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমীন পারভীন, বিবিএফ প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়–য়া, , ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের জেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার এস.এম. কামরুল ইসলাম, কর্মএলাকার থানা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আবদুল হামিদ, রেজুয়ারা বেগম, মির্জা নুরুন্নাহার, সেলিনা আক্তার, মাহমুদুল জামান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাসমূহের কর্মকর্তাবৃন্দ।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে স্বাগত বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেএসইউএস নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমীন পারভীন শহরাঞ্চলে গৃহিত কর্মসূচীর আওতায় বিদ্যালয় শুরুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টজনদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এরপর প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের জেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার এস.এম. কামরুল ইসলাম। তিনি এ প্রকল্প পরিচালনার বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে আলোকপাত করেন।

জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, যে কোন কর্মসূচী গ্রহণের প্রারম্ভে নির্দিষ্ট সংখ্যক অংশগ্রহণকারী থাকলেও পরবর্তীতে সে সংখ্যা কমতে থাকে, আমার পরামর্শ থাকবে বিদ্যালয়গুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা প্রদানে সকলকে উদ্যোগী হতে হবে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিবিএফ প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়–য়া, চসিক’র মহিলা কাউন্সিলর আফরোজা কালাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের সভাপতি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারি পরিচালক জনাব জুলফিকার আমিন বলেন, “ঝরে পড়া শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়ার এ প্রয়াস বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। শিক্ষার্থী ভর্তি করার ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করা, একটি শিশু একাধিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন না করা, শিশুর মেধা বিকাশে সহায়তা করা বিবিধ বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।” সর্বোপরি সহযোগি সংস্থা সমূহকে আন্তরিকতার সাথে কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য তিনি পরামর্শ দেন।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com