মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন

পাম বীচের ভিলায় ট্রাম্প,এশলি ব্যাবিট কোথায় পৃথিবী জানে না

টরন্টো থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী:

ট্রাম্প আজ ফিরে গেছে তার নিজের নিবাস বড়লোকদের এলাকা ফ্লোরিডার পাম বীচে Mar-a-Lago নামের বিশাল ভিলায়। যে বাড়ীর ঘরের সংখ্যা ১২৬। পুরো বাড়ী দাঁড়িয়ে আছে সাড়ে ৬২ হাজার স্কয়ার ফিটের উপর। ট্রাম্প এই বাড়ী কিনেছিলো ১৯৮৫ সালে ১০ মিলিয়ন ডলারে। ২০১৮ সালে এর দাম বলা হচ্ছিলো ১৬০ মিলিয়ন ডলার (‍‍সাড়ে তের হাজার কোটি টাকা!)। সারা পৃথিবী এই সব খবর রাখে। কিন্তু এশলি ব্যাবিট কোথায় আছে তা পৃথিবী জানে না। কেয়ারও করে না। পয়ত্রিশ বছরের এই মহিলা সান ডিয়েগো থেকে ওয়াশিংটনে এসেছিল ট্রাম্পের ডাকে দেশকে ‘শত্রু’ থেকে উদ্ধার করতে। হাজারো হিংস্র মানুষের সংগে সেও সেদিন ক্যাপিটাল হিল আক্রমনে ছিল। পাশবিক শক্তিতে দরজা জানালা ভাংছিলো। পুলিশের গুলিতে মরে গেছে। তার পরিবার বলেছে লাশ পেলে তারা কবর দেবে। কিন্তু কবরে কোন নাম রাখবে না। যেন মানুষ তাকে অসম্মান না করতে পারে। মৃত্যুর পর সে বেনামী হয়ে যাবে। তার আর্দশের নেতার মতো Mar-a-Lago নামের বিশাল ভিলা তার কপালে নেই। হবার কথাও না। এশলি সম্পর্কে পড়ছিলাম ইন্টারনেটে। সান ডিয়েগো টুরিষ্ট শহর। প্রশান্ত মহাসাগরের পাড়ে ওশন বীচ এলাকায় এশলি থাকতো। পরিবারের সুইমিং পুল সার্ভিসিং ব্যবসা কাছেই। অস্বাভাবিক জীবন তার। তিন জনের অভিনব সংসার বানিয়েছিলো। সে, তার হাসবেন্ড আর তার গার্লফ্রেণ্ড। সান ডিয়েগো শহরের সবচেয়ে বড় চাকরী দাতা আমেরিকান নৌ বাহিনী। পৃথিবীর সব দেশের মতো আমেরিকায়ও একটু-আধটু পড়াশোনা করে সবচেয়ে লোভনীয় চাকরী এই সামরিক বাহিনীগুলোতেই থাকে। এশলি নৌবাহিনীর সদস্য ছিল। তার হাসবেন্ডও তাই। দুনিয়ার সবার উপর তাদের রাগ। দুনিয়ার তাবৎ ষড়যন্ত্রের উপর তাদের আস্থা। তাদের জীবনে অনেক কিছু নেই….সে জন্য তাদের কোন দায় নেই। সব কিছু ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। নিয়েছে অন্য কেউ। নানা বিষয়ে বঞ্চিত তারা। দেশ বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এর বাইরের কোন কথা..যুক্তি তাদের ধারের কাছেও পৌঁছতে পারতো না। একজন…..একজন…শুধু তাদের এই ‘অসহনীয়’ জীবন থেকে মুক্তি দিতে পারে….সে ট্রাম্প! নেতার আদর্শে এশলি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে এই প্যানডেমিকের সময় মাস্ক মুক্ত স্বাধীন অঞ্চল ঘোষনা করেছিলো। সেটা তার অফিসের দরজায় লাগানো ছিলো। মাস্ক পড়া থাকলে এই অফিসে ঢোকার দরকার নেই। সে মনে করে প্যানডেমিক বানানো…ভাইরাস বানানো…মৃত্যু বানানো…বিজ্ঞান বানানো…সব ষড়যন্ত্র। এতো রাগ তার…। এই পৃথিবীতে কতিপয় বিত্তবান ছাড়া কতো কোটি মানুষ আছে জীবনে অতৃপ্তি নিয়ে বাঁচে? হতাশা নিয়ে বাঁচে? রাগ নিয়ে বাঁচে? না পাওয়ার বেদনা নিয়ে বাঁচে? এশিয়ায়? আফ্রিকায়? এদের মধ্যে কতো হাজার এক বাটপার মিলিয়নিওরের ডাকে লাটিসোটা নিয়ে সব কিছু ভাংতে বেরোয়? এদের মধ্যে কতো লক্ষ কাঠ মৌলানাদের ডাকে শাপলা চত্বরে এসে জড়ো হয়? কিংবা মোদির প্রতিহিংসার আগুনে কাতারে কাতারে শামিল হয়? বিন লাদেনের সংগে তোরাবোড়া গুহায় থাকে? দারিদ্রতা..বঞ্চনা মানুষকে বিপ্লবী করার কথা। আলোর জন্য সংগ্রাম করানোর কথা। ম্যান্ডেলার সংগে…গান্ধীর সংগে….মার্টিন লুথার কিংয়ের সংগে। লক্ষ্য থাকার কথা দেশের সবাই মিলে…বিশ্বের সবাই মিলে যেন ভালো থাকতে পারি..শান্তিতে থাকতে পারি। কিন্তু যে মানুষ বিপ্লবী হয় না…অমানুষের পেছনে দাঁড়িয়ে যায়…নিজে অমানুষ হয়ে যায়….আলো-অন্ধকার চিনতে পারে না…কালো ঘৃনা করে..মেক্সিকান হলে ঘৃনা করে..মুসলিম হলে সন্ত্রাসী মনে করে….হিন্দু হলে…সাদা হলে..খৃষ্টান হলে পছন্দ করে না….পৃথিবার কে কোথায় বাঁচলো কি মরলো তাতে কিচ্ছু যায় আসে না…শুধু নিজেদের নিয়ে গ্রেইট হতে চায়…..সে আসলে দরিদ্র বা বঞ্চিত কোনটাই না। সে আসলে লোভী..প্রতিহিংসাপরায়ন মানুষ। সব দেশে..সব জাতিতে…সব কালে এটাই সত্য। ইউরোপে..আমেরিকায় এক সময় মেয়েদের ধরে ধরে ডাইনী বানিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলা হতো। চার্চ, সমাজ, রাষ্ট্র সবাই মিলে এই কাজ করতো। আশি হাজারেরও বেশি মেয়ে পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়েছিলো। অসভ্য লেখক আর নেতারা…সেসব বিষয়ে বই লিখতো। সেই সব বই হাজার হাজার কপি বিক্রি হতো। মানুষের ইতিহাসে বহুবার অস্ংখ্য অমানুষ এক সংগে জড়ো হয়ে ঘৃন্য সব ঘটনার জন্ম দিয়েছে। তাই মানুষ জড়ো হলেই ‘কিছুতো ঠিক’ এই ভাবা মূর্খতার সমান। আশার কথা এই সত্য অনেকেই জানেন। তাই এখন দল বেঁধে আর ডাইনী পুড়িয়ে মেরে ফেলা যায় না। দল বেঁধে সতিদাহ করা যায় না। কিন্তু সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়নি। তাই দেশে দেশে ভীড় দেখলেই দাঁড়িয়ে পড়া এখনো ভয়ংকর। ট্রাম্প-মোদি-এরদোগান দেখলেই মুক্তি ভাবা এখনো আত্ববিনাশী। সান ডিয়েগোর এশলি তা আবারও জীবন দিয়ে বলে গেলো আমাদের। বাইডেন কি করবেন তিনিই ভালো জানেন। কিন্তু আজ তার শুরুর অনুষ্ঠানে কালো একটা মেয়ে নিজের লেখা কবিতা পড়ে বিখ্যাত হয়ে গেছে। মাত্র বাইশ বছর বয়স। নাম আমান্ডা গরম্যান। ছবি দিলাম। কি শানিত তার উচ্চারন! কি পরিষ্কার তার চিন্তা! সে জানে…কোনটা আলো…আর কোনটা অন্ধকার..সে জানে মানুষকে বেঁচে থাকতে হলে সবাই মিলেই থাকতে হবে…একা একা ভালো থাকা যায়নি কোন কালে…কোন দেশে…..যাবে না কোন দিন….। “When day comes we step out of the shade, Aflame and unafraid. The new dawn blooms as we free it. For there is always light if only we’re brave enough to see it,

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com