মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন

কানাডা টরন্টো মেল ব্যাগ-৩

টরন্টো থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী:

স্বদেশে এবং সমগ্র কানাডায় যেটা সবচেয়ে বর্তমানে আলোচিত ঘটনা বেগম পাড়া এবং বাংলাদেশের মুদ্রা পাচারের অন্যতম নায়ক পিকে হালদারের কানাডায় অর্থ বিনিয়োগ এবং নিরাপদ অবস্থান। কানাডায় বাংলাদেশীদের সবচেয়ে আলোচনার বিষয়বস্তু বাংলাদেশের আগত অভিবাসীদের মধ্যে দেখা যায় অনেকে ব্যাংক ঋণখেলাপি, রাজনৈতিক নেতা এমনকি পৌরসভার কাউন্সিলর সবাই এখানে বিলাসবহুল বাড়ি এবং অ্যাপার্টমেন্টে রয়েছে। অনেকে স্ত্রী-পুত্র রেখে কেউ কেউ বাংলাদেশ অবস্থান করেছে এবং মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে কানাডার অর্থনৈতিক অবস্থা এবং আবাসনের দাম বর্তমানে সবচেয়ে উচ্চহার। এখানে বেগমপাড়া বলতে যা বুঝায় এটা প্রতিষ্ঠাতা মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রো ডলারের সুবাদে বাংলাদেশের অনেক প্রকৌশলী ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার প্রথমে এখানে স্ত্রী-পুত্রদের নিয়ে আসে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান লেখাপড়ার সুযোগ কম। তাই এখানে বেগম সাহেবদের রেখে তারা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নিজ নিজ পেশায় কর্মরত থাকেন এবং অবসরের বা কর্মরত অবস্থায় কানাডায় পাড়ি জমানছেলে মেয়েদের উচ্চশিক্ষা ও উন্নত জীবন গড়ার লক্ষ্যে। এইভাবে প্রাথমিকভাবে বেগম পাড়া গড়ে উঠে তা আমি স্থানীয় পত্রপত্রিকা ও লোক মারফত জানতে পেরেছি। এখানে একটি কথা প্রচলিত আছে আমেরিকা যাওয়ার সহজ কিন্তু কাগজপত্র বা গ্রীন কার্ড পাওয়া কঠিন আর কানাডায় আসা সহজ নয় কিন্তু বৈধ কাগজপত্র পাওয়া সহজ। সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয় এখানে যারা এসেছেন ব্যাংক ঋণ খেলাপি টাকা পাচার করেছেন তারা কিভাবে ইমিগ্রেশন পার হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই ইউটিউব এর মাধ্যমে দেশ এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত প্রোপাগান্ডা অব্যাহত রেখেছে। আমাদের পররাষ্ট্র দপ্তর বা কূটনৈতিক মিশনের আশ্চর্য নির্লিপ্ততা তা অবাক করার বিষয়। একটি স্বাধীন দেশের সরকারের বিরুদ্ধে আরেকটি দেশে বসেই যেভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে সেরকম যদি কেউ বাংলাদেশ বসে আমেরিকা ভারত বাংলার বা কানাডা বিরুদ্ধে প্রচার প্রচারণা চালাত তবে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যেত। যাক যে কথা বলছিলাম পিকে হালদারের আসা যাওয়া কানাডা 2015 সাল হতে। 2017 সালে তিনি কানাডায় সরকার ফ্যামিলি হোপ ফাউন্ডেশন নামে এনজিওতে অর্থলগ্নি করেন। বাংলাদেশ হতে অবৈধভাবে পাচার করা অর্থের বৈধতা দিতে আরেকটি দেশ ব্যবহার করে কানাডায় তিনি অর্থ পৌঁছান। কোম্পানি খুলতে তিনি দেশের নিয়ম মানে 25% সিটিজেন শেয়ার দেন একজন বাংলাদেশী ক্যানাডিয়ান কে। সে প্রতিষ্ঠানটি এখন বাংলাদেশসহ 13 টি দেশে কাজ করছে। 2019 সালে পিকে হালদার কানাডায় বাড়ি গাড়ি কিনেন। পরিবারসহ তিনি বর্তমানে সেই বাড়িতেই থাকছেন। এখানে লোকমুখে একটি কথা প্রচলিত যে পিকে সরকার একা নয় বাংলাদেশি আরো বহু রাঘব বোয়াল তার সাথে জড়িত। এখানে প্রবাসীরা জানান, পিকে হালদারের বিরুদ্ধে আমরা সমাবেশ করেছি। তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো তৃতীয় দেশের মাধ্যমে যে টাকা পাচার হয়েছে বাংলাদেশকে দেখতে হবে সেই টাকা কানাডায় কিভাবে গেল। এখানকার প্রবাসীরা মনেকরে পিকে হালদারের পাচারকৃত ৩৬০০ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা তাকে আইনের আওতায় যদি আনা যায় তবে ক্যানাডার বেগম পাড়ায় যারা অবৈধ সম্পদ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের দ্বার খুলে যাবে যা অনেকাংশে নির্ভর করে সরকারের সদিচ্ছা এবং তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান দেশপ্রেমের উপর। সকালের চট্টগ্রামের পাঠক পাঠিকাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আজ এখানেই শেষ করছি।সূত্র কানাডার স্থানীয় পত্রপত্রিকা।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com