মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

শহীদ জিয়া জাতির অভ্যূদয়ে, উন্নয়নে ও ক্রান্তিকালে নেতৃত্বে দেয়ার জন্য ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবেন

-অধ্যাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী-

আজ ১৯ জানুয়ারী শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী ।১৯৩৬ সালের এইদিনে বগুড়ার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পিতার নাম মনসুর রহমান মাতার নাম ছিল জাহানারা বেগম।

জাতির প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।বিশেষ করে স্বাধীনতা যুদ্ধে এবং ‘৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে অসমান্য অবদান রেখে বাংলাদেশের ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে আছেন।

কলকাতা ও করাচিতে শিক্ষা জীবন শেষ করে ১৯৫৩ সালে কাকুল পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন।১৯৫৫ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে প্রমোশন পান।১৯৫৭সালে ইষ্ট বেংগল রেজিমেন্টে বদলী হয়ে ১৯৫৯-৬৪ সাল পর্যন্ত গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেন। ১৯৬৫ সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে সাহসিকতা পূর্ণ ভূমিকার জন্য তিনি নিজে এবং তাঁর ইউনিট বিভিন্ন খেতাবে ভূষিত হয়।

তিনি ১৯৬৯সালে মেজর পদে উন্নীত হয়। ১৯৭০সালে চট্টগ্রাম ইষ্ট বেংগল রেজিমেন্টে সেকেন্ড ইন কমান্ড পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।দেশের অবস্থা খারাপ হতে থাকলে তিনি কয়েকজন বিশ্বস্ত সিনিয়র ও জুনিয়র অফিসার নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা করেন।২৫মার্চ দিবাগত রাতে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে হানাদার বাহিনী গনহত্যা শুরু করলে, বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হলে এবং রাজনৈতিক নেতারা আত্মগোপন করলে নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে বাংগালী অফিসারদের নিয়ে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ২-১৫মি অর্থাৎ ২৬ মার্চে সবার আগে বিদ্রোহ করেন। জিয়াউর রহমান প্রচন্ড দেশপ্রেমের এহেন অনন্য নজীর ইতিহাসে স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে।

তারপর ২৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে শহীদ জিয়ার সাহসী ও নেতাসূলভ ভূমিকা সমগ্র দেশে ও বিদেশে প্রশংসিত হয়েছিল। সামান্য একজন মেজর হয়েও জাতির এই দু: সময়ে প্রথমে নিজের নামে এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।তার এই ঘোষণা নিজের জন্য বিপদজনক হলেও দেশের সর্বশ্রেনীর জনগন এতে প্রবলভাবে উজ্জীবিত হয় এবং সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা ছড়িয়ে পড়ে।

মুক্তি যুদ্ধে তিনি প্রথমে সেক্টর কমান্ডার ও পরে জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে অনেক যুদ্ধে জয়লাভ করে দেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিল।তার বীরত্বপূর্ণ অসামান্য অবদানের জন্য সরকার তাকে বীরউত্তম খেতাব প্রদান করেন।

১৯৭৫ সালের ২৪আগস্ট তিনি সেনাবাহিনী প্রধান এবং ৭নভেম্বর সিপাহি বিপ্লবের কারনে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।পরে ১৯৭৭সালের২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।

তিনি দায়িত্ব নিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রাখে।তিনি বাকশালের একদলীয় রাজনীতির স্থলে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে বহুদলীয় রাজনীতির সূচনা করেন। তিনি দেশের জনগণের ঐক্যের স্বার্থে জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যের লক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট এবং পরে জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন।
তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শন প্রদান করে দেশের ঐক্যকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করেন।

তিনি খাল খনন কর্মসূচি এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করে খাদ্য উৎপাদনে বিপ্লব ঘটান।নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অপরিসীম। বাংলা একাডেমির উন্নয়ন করে তিনি ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়নে গতিশীলতা প্রদান করেন। তিনি ভাষা শহীদের সম্মানে একুশে প্রদক প্রবর্তন করেন। শিশুরাই আগামীদিনের ভবিষ্যত,এটা উপলব্ধি করে তিনি জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা প্রবর্তন করেন। তিনি শিশু একাডেমি গঠন করেন। যুবকদের জন্য যুব কমপ্লেক্স গঠন করেন। নারী জনসংখ্যার অর্ধেক। তাদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন অসম্ভব। তাই নারী উন্নয়নে সংসদে আসন সংখ্যা বাড়ানো, মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়,জাতীয় মহিলা সংস্থা, যৌতুক বিরোধী আইন,মহিলা পুলিশ ও আনসার ইত্যাদি গঠন করেন।গ্রামের উন্নয়নে গ্রাম সরকার, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করেন। পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠা,শিল্পে ৩শিফট চালু, বেসরকারি ব্যাংক বীমা প্রবর্তন,দেশী বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে বেকারত্ব নিরসন ও আর্থিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করেন।তিনি প্রতিরক্ষা নীতি ঢেলে সাজান।মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। স্বাস্থ্য উন্নয়নে তিনি ১বছরে ২৭ হাজার পল্লী চিকিৎসক নিয়োগসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
তিনি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটান।সৌদি আরব,আরব আমিরাত, ইরান, তুরস্ক,সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেন।তার কারনে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিদেশে পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ রচনা করেন।
নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হয়ে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশের প্রবেশের ব্যবস্থা করেন।তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বিরোধিতা করে সফল হন।তিনি ইরান ইরাক যুদ্ধ বন্দে কার্যকর ভূমিকা রাখেন, আলকুদস,জেরুজালেম সমন্বয় কমিটি ইত্যাদিতে থেকে মুসলিম দেশ সমূহের সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যপক ভূমিকা রাখে।
তার ১৯ দফা জনগণের মাঝে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়। ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার কারনে ১৯৮১সালের ৩০মে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিপথগামী কিছু সৈন্যের হাতে শহীদ হন এবং দেশের উন্নয়নকে থামিয়ে দিতে সফল হয়।
কিন্তু তার নামাজে জানাযায় লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি প্রমান করে জনগনের হৃদয়ে শহীদ জিয়া অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন।
জাতির অভ্যূদয়ে, উন্নয়নে ও ক্রান্তিকালে নেতৃত্বে দেয়ার জন্য ইতিহাসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অম্লান হয়ে থাকবেন।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com