বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন

কানাডা টরন্টো মেল ব্যাগ (২)


টরন্টো থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী:
কানাডা টরন্টো মেল ব্যাগ ১৮ জানুয়ারী সোমবার ২১খৃ ।গত শনিবার থেকে এখানে সূর্য সুন্দর ভাবে তার আলো ছড়াচ্ছে। পথঘাট রাস্তা পার্ক সব পরিষ্কার থকথকে। সবচেয়ে সুন্দর এদের ট্রাফিক অবস্থা এবং রাস্তার পথচারী কে সম্মান প্রদর্শন করে রাস্তায় যানবাহনগুলো দাঁড়িয়ে থাকা, যার জন্য এখানে রাস্তাঘাটে দুর্ঘটনা সংখ্যা নাই বললেই চলে যেখানে বাংলাদেশ রাস্তায় দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার করোনা র মৃত্যুর হার থেকে বেশি। রাস্তায় কোন ট্রাফিক পুলিশ দেখা যায় না। কিন্তু অবাঞ্চিত পার্ক দেখলে বা আপনার গাড়ির গতি নির্দিষ্ট সময়সীমার বাহিরেযদি চলে যায় তবে দেখবেন মাসের শেষে আপনার বাসায় টিকেট এসে পৌঁছেছে আপনার আইন ভঙ্গেরকারণসহ ভিডিও চিত্র। আমাদের দেশে লোক সংখ্যা বেশি এই জন্য বিভিন্ন কারণ দেখানোহয় কিন্তু আমাদের গাড়ি সমূহ যখন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের প্রবেশ করে তখন আইন কানুন সবাই মেনে চলে কোন ওভার টেক করে না। সংবাদে দেখলাম চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতু জৈনক এমপি সাহেব যাবেন সেতুবন্ধ এবং সেতুর বাহিরে আগুনে দগ্ধ পোড়া এক কিশোরী আর্তনাদ নেতাকর্মীদের মন গলাতে পারেনি।। এখানে এটা চিন্তা করা অসম্ভব ব্যাপার। কোন ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি যদি যায় সাথে থাকে এম্বুলেন্স গাড়ি এবং পুলিশের গাড়ি অবশ্য থাকে তাদের নির্বিঘ্নে চলাচল এর জন্য অন্যান্য চলমান মান সমূহ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে।ফায়ার ব্রিগেড এম্বুলেন্স গাড়ি চলে গেলে তারপর যানবাহন চলাচল শুরু হয়। গণপরিবহন ব্যবস্থা চমৎকার। এদের সব অফিস-আদালত এক জায়গায় যাকে বলা হয় ডাউনটাউন। সকালবেলায় অফিস যাত্রীরা তাদের নিজস্ব গাড়ি অথবা বেশিরভাগ সাবওয়ে মেট্রোরেল ব্যবহার করে। বাস এবং রাস্তায় ট্রাম দেখতে খুব সুন্দর। সারারাত চলাফেরা করে যাত্রী নেই বললেই চলে। তারপরও গণপরিবহন সঠিক সময়ে আসা যাওয়া করে। আমাদের এখানে যেভাবে মতিঝিল এরিয়ায় দলবদ্ধভাবে মানুষ অফিসে যায় রাস্তায় মিছিলের মতো এখানে দেখা যায় না। এদের আবাসিক এলাকায় কোন দোকানপাট নাই। মেইন রোডের উপর দোকান সমূহ রাস্তার পাশে বড় বড় মল। পার্কিংয়ের জন্য বিরাট বিরাট জায়গা। এদেশে জায়গা আছে বলেই তা সম্ভব তার উপরে কানাডা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। সারা নগরী পার্কে ভরা। বড় বড় পার্ক সামারে তা দেখা যায় গভীর অরণ্যের মত। সুইজারল্যান্ডের মত দেশের সমান একটি বড় পার্ক আছে কানাডায় এখন বুঝতে পারেন কত বড় দেশ। আমি থাকিতা ডেন ফোর্থ এলাকায়। এখানে বেশিরভাগ এশিয়ানদের বসবাস। ডেনফোরথনামে একটি বড় পার্ক আছে। এখানে মেলা ঈদের নামাজ ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়। এবার দেখলাম নতুন এক দৃশ্য পার্কের একপাশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মরণে আমাদের শহীদ মিনার মত কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে শহীদ মিনার এরা তৈরি করেছে। এখন প্রায় নির্মাণ সমাপ্তির পথে। পাঠকদের কৌতূহল নিবারণ এর জন্য নির্মিতব্য শহীদ মিনারের একটি ছবি পাঠালাম। শহীদ মিনারটি দেখে একজন বাঙ্গালী হিসেবে একজন বাংলাদেশী হিসেবে গর্বে আমার মনটা ভরে উঠলো। আগামী একুশে ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন হবে। সত্যি আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি। এইজন্য সমগ্র পৃথিবীর ভাষাভাষী র হৃদয় মন্দিরে এই শহীদ মিনার এবং সেই গানপবিত্র তীর্থস্থান বাসার সংগীত হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। এটা বাঙ্গালী এবং বাংলাদেশের গৌরব যা জীবন পৃথিবীর মাঝে বেঁচে থাকবে ইনশাল্লাহ।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com