মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
আনোয়ারা উপজেলায় পিস প্রকল্পের উগ্রবাদ প্রতিহতকরণে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ” বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পুলিশ কমিশনারের সাথে ডা.শাহাদাত হোসেনের সাক্ষাৎ মৎস্যজীবী লীগের স্বীকৃতি প্রদানের ২য় বর্ষপূর্তির আলোচনা সভা চসিক মেয়রের সাথে সিএমপি কমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাত খালেদা জিয়ার অসুস্থতার জন্য বিএনপিই দায়ী ওমিক্রনের কারণে এইচএসসি পরীক্ষা বন্ধ হবে না-দীপু মনি বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগ বান্ধব দেশ: আইনমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল রিপোর্ট বিদেশে পাঠানো হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিডিয়া অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু বিটিভি চট্টগ্রামের ধারাবাহিক ‘জলতরঙ্গ’ চট্টগ্রামে গণপরিবহনে হাফ পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

অন্যরকম পুরস্কার

দেশ-বিদেশের নানা অনুষ্ঠানে হরহামেশাই নানা ধরনের পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এবার পুরস্কার দিতে গিয়ে অন্য অনুভূতি হলো তার। ছোট্ট একটি শিশু তার হাত থেকে পুরস্কার নিতে গিয়ে তাকে দিয়ে গেলো নিজের হাতে আঁকা ছবি। ছবিটি প্রধানমন্ত্রীরই। আর এটি আঁকতে গিয়ে সে যে অনেক পরিশ্রম করেছে বলে গেলো সে কথাও।

ছোট্ট এই শিশুটির নাম পিয়াসা। সে টাঙ্গাইল সদরের জোবায়দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন বুধবার (১৩ মার্চ) তার ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ কথা জানান।

স্ট্যাটাসে তিনি জানান, নিতে এসে প্রধানমন্ত্রীকে পুরস্কার দিয়ে গেলেন ছোট্ট পিয়াসা। টাঙ্গাইল সদরের জোবায়দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী পিয়াসা সরকার। ছবি আঁকার হাত খুবই ভালো। ছবি আঁকাতে জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কারও পেয়েছে সে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার স্বপ্নের মানুষ। গত আড়াই মাস চেষ্টা করে পিয়াসা বঙ্গবন্ধু কন্যার একটি পোট্রেট আঁকে। তার মা তাপসী রানী সরকার জানালো, মেয়েটা অনেক পরিশ্রম করেছে। মুখ মিলেতো চোখ মেলেনা, চুল মিলেতো ভ্রু মেলে না। আড়াই মাস চেষ্টার পর বঙ্গবন্ধু কন্যার ছবি নিয়ে পিয়াসার সন্তুষ্টি আসে। উদ্দেশ্য একটাই, যে কোনওভাবেই হোক এই ছবিটি সে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবে। তার সেই স্বপ্ন সফল হয়েছে।

কীভাবে স্বপ্নটা সত্যি হলো স্ট্যাটাসে বলা হয়েছে সেই গল্পও। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ছবিটি নিয়ে তিনদিন আগে তারা ঢাকায় আসেন। শিক্ষায় অবদান রাখার জন্য মোট ১০৮ জনকে এই অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করা হয়, পিয়াসা এই ভাগ্যবানদের মধ্যে একজন। গত দুইদিন তারা অনেক চেষ্টা করেও ছবিটি প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়ার কোনও সুযোগ খুঁজে পায়নি। নিরাপত্তা বিভাগ থেকেও বলে দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত কোনও কিছু সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করা যাবে না।

.আশরাফুল আলম খোকনের স্ট্যাটাসপুরোপুরি হতাশ হয়েই আজ (বুধবার) মাকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসে পিয়াসা। কাগজে মোড়ানো ছবিটি নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন বাবা শংকর চন্দ্র সরকার। মা-মেয়ে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হলেই তারা ছবিটি সঙ্গে করে নিয়েই টাঙ্গাইল চলে যাবেন। কিন্তু, ১১ বছরের যে শিশুটির স্বপ্নের মানুষ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, তার সাহস নিশ্চয়ই কম নয়। যথারীতি নাম ডাকা হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে গিয়ে পুরস্কার নেয় পিয়াসা সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিশুসুলভ আন্তরিকতায় আরও সাহসী হয়ে ওঠে পিয়াসা। সে বলেই ফেলে ছবিটির কথা। কান্না করে দেয়। তাকে যে আনতে দেওয়া হয়নি সেটিও বলতে ভোলেনি। সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন ছবিটি নিয়ে আসার জন্য। তৎপর হয়ে ওঠেন সবাই। পিয়াসার কাছ থেকে তার বাবার ফোন নম্বর নিয়ে তারা যোগাযোগ করেন। বাইরে ছবি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাবাকে ভেতরে নিয়ে আসেন। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভালোবাসায় আঁকা পোট্রেটটি তুলে দেন পিয়াসা।
বুধবার বিকালে যখন পিয়াসার বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয় ততক্ষণে তারা টাঙ্গাইল চলে গেছেন। তারা জানালেন, স্বপ্ন পূরণের আনন্দ আর খুশিতে তখন কাঁদছিল পিয়াসা।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com