বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ০২:০৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম
চুয়েটে আজ উদ্বোধন হচ্ছে দেশের প্রথম আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর আজ অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ-এর জন্মশতবার্ষিকী বিএনপি’র আন্দোলনের হুমকি নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই: ওবায়দুল কাদের চামড়ার মূল্য নির্ধারণ সব কারাগার ও থানায় বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করতে হাইকোর্টের রায় মক্কা নগরীতে হজ্জ মেডিকেল সেন্টার পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সময়োপযোগী পরিবর্তনকে ধারণ করে পোশাক মালিকরা সমৃদ্ধ দেশ গঠনে অবদান রাখবে : স্পিকার অধিক ফসল উৎপাদন করার ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ৭ জুলাই

সুনামগঞ্জে খাবার সংকট, উচ্চদামে পণ্য বিক্রি

বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যার কারণে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন সুনামগঞ্জবাসী। দ্বিতীয় দফা বন্যার ক্ষতির মধ্যে তৃতীয় দফায় বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন জেলার আট উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। এসব উপজেলার জলার ৮০ থেকে ৯০ ভাগ এলাকা কয়েকদিন ধরে পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষ ত্রাণ, শুকনো খাবার, মোমবাতি ও পানি বিশুদ্ধ করার ট্যাবলেটের জন্য হাহাকার করছেন। জেলায় সরকারি-বেসরকারি ছয় শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্রে হাজার হাজার মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বিকাল থেকে জেলার সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জসহ সবকটি উপজেলার মানুষ পানি বন্দি হয়ে অসহায় দিন যাপন করছেন। গবাদি পশু ও মানুষের খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

বানভাসি মানুষদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশসহ যৌথবাহিনী। প্রতিটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদে আছেন। বন্যার কারণে জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সোমবার (২০ জুন) বিকালে সুনামগঞ্জ শহরের বাজার এলাকায় সীমিত আকারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে রান্না করা খাবার ও ত্রাণ বিতরণ করছেন সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন।

এদিকে, সুনামগঞ্জ ও ছাতক শহরের শতভাগ এলাকা এখনও পানিতে ডুবে আছে। সড়কে আড়াই থেকে তিন ফুট পানি থাকায় লোকজন নৌকায় চড়ে সীমিত পরিসরে যাতায়াত করছেন। বন্যার সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম দ্বিগুণ ও তিনগুণ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ছয়টি মোমবাতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। তেল, চিনি, লবণ, বিস্কুটসহ সব শুকনো খাবার উচ্চ মূল্যে বিক্রি করছে দোকানদার ও হকার। দুর্গত এলাকার অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, মন্দির, মসজিদ, রাস্তাঘাট, বাড়িঘর সব কিছু পানিতে তলিয়ে আছে। ইঞ্চি পরিমাণ জায়গাও শুকনো নেই। এদিকে চড়া মূল্যে নৌযান দিয়ে লোকজনকে পারাপার করছেন এক শ্রেণির জেলের নৌকার মালিকরা।

বানভাসি মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে সব কিছুর সংকট দেখা দিয়েছে। মোমবাতি, দিয়াশলাই, চাল, ডাল, চিনি সব কিছু উচ্চ মূল্যে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। শহরের পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, ভোজ্যতেল, বিশুদ্ধ পানিসহ সব কিছুর সংকট দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে মানুষ বৃষ্টির পানি ও বানের পানি ব্যবহার করছেন।

সুনামগঞ্জ ও ছাতক শহরের সব ভবনের নিচতলা পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় আসবাবপত্র, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীসহ মূল্যবান জিনিসপত্র পানিতে ডুবে আছে।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com