মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ১২:৩৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম
বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক সোহেল রানার অ্যাকাউন্টে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা পণ্য ও সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের মতবিনিময় টুঙ্গিপাড়া থেকে ২ ঘণ্টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী বন্দরে এলো নতুন ২টি গ্যান্ট্রি ক্রেন, পূর্ণতা পেল এনসিটি কর্ণফুলী বঙ্গবন্ধু টানেল: সম্ভাবনার নতুন দুয়ার মধ্যরাতে প্রবাসীদের ভীড়:পদ্মা সেতু উচ্ছ্বাসের রঙ ছড়িয়েছে যুক্তরাজ্যেও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছেন তাদের স্মরণীয় করে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে চসিক আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চায় : প্রধানমন্ত্রী বিদেশী রাষ্ট্রের সহযোগিতা পেলে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব : দুদক মহাপরিচালক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় ইসি চেষ্টা চালিয়ে যাবে : সিইসি

চান্দঁগাও সিডিএ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও দূর্নীতির অভিযোগ

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দঁগাও আবাসিক এলাকায় ২০০৮ সালে স্থাপিত হয় সিডিএ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ। এই স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যেগ নেন  চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষ(সিডিএ)র সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার  শাহ মোহাম্মদ আখতার উদ্দীন। স্কুল প্রতিষ্ঠার পর যথার্থ তদারকি অভাবে স্কুল পরিচালনা করতে ব্যর্থ হওয়ায় সুযোগে অধ্যক্ষ মো: নুরুল আলম নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন র্দূনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। স্বজনপ্রীতি ও দূর্নীতির মাধ্যমে ১২জন শিক্ষক নিয়োগ , সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ,কর্মচারী নিয়োগ ,বই ,টাই,কোচিং ,শিক্ষকদের বেতন থেকে জোর করে টাকা কেটে নেওয়া,পুরাতন বই খাতা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। সিডিএ – তে অধ্যক্ষের দুর্নীতির বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি রিপোর্ট তৈরি করার পরও অদৃশ্য শক্তির কারণে এখনও কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি । অভিযোগ করেছেন  শিক্ষকদের একটি অংশ ।শিক্ষকদের  অংশ পরিচয় গোপন করে দুদুক , সিডিএ, জেলা প্রশাসক ,চেয়ারম্যান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা র্বোডসহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়। অভিযোগের কপি আমাদের হাতে পৌছেছে। অভিযোগের পেক্ষিতে  দূনীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম উপপরিচালক  ওঅনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা  মোঃ নাজমুচ্ছায়াদাত তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন।উক্ত কর্মকর্তা ট্রেনিংয়ে থাকায় তদন্ত থেমে যায়,যোগদানের পরপর তদন্ত কাজ শুরু হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেআইনি ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে ১২ জন মহিলা শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। যার অধিকাংশ অধ্যক্ষের আত্মীয় – স্বজন । অধ্যক্ষ বিগত আরো  একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরী করেছেন যা  সাংঘর্ষিক। ওনার একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরী করার জন্য বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার জন্য শিক্ষা বোর্ড অনুমোদন দেয়নি তার পরও তিনি দীর্ঘ  ৬ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত একাধিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে  উভয় পক্ষ প্রতিষ্ঠান এবং  শিক্ষার্থীরা। অধ্যক্ষ  সিডিএ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক ( ইংরেজি )  মিসেস সোহানা রহমানকে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছেন । যারা নিয়োগ বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থী । কারণ সহকারী শিক্ষক ( ইংরেজি )  মিসেস সোহানা রহমান  তৃতীয় শ্রেণিতে বিএ ( অনার্স ) সম্পন্ন করেছেন । অথচ সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্য পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিল যে , প্রার্থীর যে কোন পরীক্ষাতে তৃতীয় শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না । এবং বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ ছিল  সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে প্রার্থীদেরকে সরকারী নিয়োগ বিধি মোতাবেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০ ( দশ ) বৎসরের অভিজ্ঞতা ও ইনডেক্সধারী হতে হবে । অথচ অধ্যক্ষ উল্লেখিত নিয়োগ বিধি সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করেন এবং বেআইনিভাবে সরকারী বিধি লঙ্ঘন করেছেন । কারণ মিসেস সোহানা রহমান , সহকারী শিক্ষক ( ইংরেজি ) এর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০ ( দশ ) বৎসরের অভিজ্ঞতা ছিল না এবং আদৌ কোন ইনডেক্সে নম্বর নেই ।পদত্যাগপত্র প্রদান করে ২ মাস চাকুরি না করেও বেতন নিয়েছেন বর্তমান সহকারী প্রধান শিক্ষিকা মিসেস সোহানা রহমান যা তৎকালিন ম্যানেজিং কমিটি ও প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক অবগত আছেন।ডাক্তার পদে নিয়োগকৃত অধ্যক্ষের আপন  ভাতিজি ডা . ইসরাত কবির ( বর্তমানে নেই ) প্রায় দুই মাস চাকুরি না করেও অবৈধভাবে যেন বেতন প্রদান   করা অভিযোগ পাওয়া যায়।

 অভিযোগ সুত্রে আরো জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের আইন ভঙ্গ করে বিগত ১১ বছর যাবত খাতা , টাই , ডায়েরি ব্যবসা থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২০,০০০০০ ( বিশ লক্ষ ) ২০,০০০০০ ( দুই কোটি বিশ লক্ষ ) টাকা আত্মসাৎ যা শিক্ষকদের প্রাপ্য । প্রতিবছর ৫ম , ৮ম , ১০ম ও দ্বাদশ শ্রেণি হতে গড়ে ২ লক্ষ টাকা হারে প্রায় ২০,০০০০০ ( বিশ লক্ষ ) টাকা কোচিং বাণিজ্য করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নিজে ভোগ করেন । এবং কোচিং থেকে প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের অংশ বাবদ বছরে প্রায় ২ লক্ষ টাকা অধ্যক্ষের তত্ত্বাবধানে রেখে ইচ্ছামত খরচ করে যার কোন তদারকি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক হয় না । শিক্ষকদের সম্মতি ছাড়াই শিক্ষকদের বেতন থেকে প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট অংক কর্তন করে রাখে যা নিজ পরিবারকে নিয়ে সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে দাওয়াত খাওয়ার জন্য খরচ করা হয় ( যার প্রমাণ সেলারি শীট ) । প্রতিষ্ঠানের ফান্ডের টাকা থেকে স্টাফ কার ” নাম দিয়ে অবৈধভাবে প্রায় ২০,০০০০০ ( বিশ লক্ষ টাকা ) দিয়ে গাড়ি কিনে যেটা সম্পূর্ণভাবে  পারিবারিক কাজে ব্যবহার করে কিন্তু গাড়ির যাবতীয় খরচ ( মেইনটেনেন্স , ড্রাইভারের বেতন , ওভারটাইম ) স্কুল ফান্ড থেকে বায় করা হয় । উল্লেখ্য যে , প্রতি মাসে ৭/৮ হাজার টাকা ড্রাইভারকে ওভারটাইম দেওয়া হয় । প্রতিষ্ঠানের ফান্ডের ৩০,০০০০০ ( ত্রিশ লক্ষ ) টাকার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না ( যা ওদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত ) । কমিশন বাণিজ্যের জন্য সবসময় অবকাঠামো তৈরিতে আগ্রহ । প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রয়কৃত সকল কম্পিউটার ও ল্যাবের যাবতীয় যন্ত্রাংশ তার নিজস্ব ‘ আলফা কম্পিউটার থেকে ক্রয় করা হয় যা উচ্চমূল্যের বলেও নিম্নমানসম্পন্ন । বার্ষিক কোন অডিট করা হয় না । মাঝে মধ্যে নিজের লোক দিয়ে লোক দেখানো অডিট করে বলে শুনা যায় । অধ্যক্ষের দুর্নীতি , অবৈধ বা বেআইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কোন শিক্ষক / কর্মচারী কোন প্রতিবাদ করলে তাকে প্রশাসনিক .আর্থিক ও মানসিকভাবে হয়রাণী করা হয়।এমনকি মিথ্যা মামলা করা হয়।ইতিপূর্বে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।  প্রতি বছর – ই ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে একদিকে রমরমা ব্যবসা অন্যদিকে অতি দুর্বল ছাত্রছাত্রী ভর্তির কারণে প্রতিষ্ঠানের মানের অবনতি ঘটার অভিযোগ পাওয়া যায়।  নিয়ম বহিভূত ( স্বেচ্ছাচারিতা , ক্ষমতার অপব্যবহার করে ) প্রতিষ্ঠান পরিচালনা । দুর্নীতি গোপন করার জন্য আজ্ঞাবহ ক্রয় কমিটি গঠন সেখান থেকে আয়কৃত টাকা প্রতিষ্ঠান ফান্ডে জমা হয় না । অদেখা খাত থেকে  আয়কৃত টাকা প্রতিষ্ঠান ফান্ডে জমা হয় না।প্রতিষ্ঠানের গ্রিল /এসএস পাইপ ক্রয়ে দূনীতিসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

এই সব অভিযোগ সম্পর্কে অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমার এখানে ৭০ জন শিক্ষক আছেন। তার মধ্যে ২/১জন একজন শিক্ষক  আমার বিরুদ্ধেও  অভিযোগ দেন। ২জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা চাকরিও  হারাতে পারে। তাই তারা মন গড়া অভিযোগ এনে আমাকে হয়রানির চেষ্টা করছে।

এই সব অভিযোগ সম্পর্কে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষ(সিডিএ)র সচিবের কাছে জানতে টিএন্ডটি ফোন করলে তিনি ফোন ধরেন নাই।

উপপরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. নাজমুচ্ছায়াদাত  বলেন, ট্রেনিং শেষ করে আজ  যোগদান করেছি। দুইদিন পর যোগাযোগ করুন ,মামলা সর্ম্পকে  বিস্তারিত জানাব।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com