রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১০:৫৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চায় : প্রধানমন্ত্রী বিদেশী রাষ্ট্রের সহযোগিতা পেলে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব : দুদক মহাপরিচালক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় ইসি চেষ্টা চালিয়ে যাবে : সিইসি পদ্মা সেতু নির্মাণের সব কৃতিত্ব বাংলাদেশের জনগণের : প্রধানমন্ত্রী বিএনপি জনগণের বিষয় নিয়ে আন্দোলন করে না : তথ্যমন্ত্রী আওয়ামী লীগ জনকল্যাণের রাজনীতি করে : ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রাম ই-শপ বিজনেস কমিউনিটি উদ্বোধন কৃতী সম্পাদক অধ্যাপক মরহুম আফজল মতিন সিদ্দিকী দৈনিক পূর্বতারা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মরহুম অধ্যাপক আফজল মতিন সিদ্দিকীর ১৪ম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ডি ওয়াই ডি এফ এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্মেলন ও এওয়ার্ড ফাংশন-২০২২ সম্পন্ন

অদ্ভুত এক দেশ, অদ্ভুত তার আইন!

তোফায়েল হায়দার

ক্লাস ওয়ানের পাঠ্য বইয়ের সেই ছড়াটির কথা বার বার মনে পড়ছে। ” ওরে ও নটে শাক তোর দেশে কি এই বিচার
ইদুরে বিড়াল ধরে খায়,ছাগলে গিলেছে হাতি
ওরে আমার নাতি……… “
ব্যাংক থেকে অবসর গ্রহণের সময় ব্যাংক কতৃপক্ষ আমার ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি আমার অবসর কালীন ব্যবহারের জন্য দিয়ে দেন।এতদিন পর্যন্ত আমি আমার নির্ধারিত ইনকামট্যাক্সের সাথে গাড়ির এডভান্স ইনকামট্যাক্স( এ আই টি) গত ২০২০ সাল পর্যন্ত ১৫০০০ টাকা ও অন্যান্য ফি পরিশোধ করেছি।২০২১ সালে তা বাড়িয়ে ২৫০০০ টাকা তাও পরিশোধ করেছি।২০২২ সালে এ আই টি পরিশোধ করতে গেলে ব্যাংক হিসাব দিল আপনাকে এ আই টি পরিশোধ করতে হবে ১৫০% তথা ৩৭৫০০ টাকা। আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলাম কেন ১৫০%। ব্যাংকের অফিসার বললো স্যার আপনার দুইটা গাড়ি। কিভাবে,পড়ে মনে পড়লো আমি ২০১৪ সালে বর্তমান গাড়িটি কেনার সময় পুরাতন গাড়ি টি বিক্রি করে দিয়েছিলাম এবং ক্রেতাকে মালিকানা ট্রান্সফারের সব ডকুমেন্টস বুঝিয়ে দিয়ে অনুরোধ করেছিলাম শীঘ্রই মালিকানা ট্রাঞ্চফার করিয়ে নেয়ার জন্য; এবং সাথে সাথে এক পুলিশ অফিসারের পরামর্শে এই মর্মে থানায় জিডি করে গাড়ি ট্রান্সফারের সব কাগজপত্র সংযুক্ত করে গাড়ি বিক্রি করা হয়েছে এবং এই গাড়ির উপর আমার আর কোন দায় দায়িত্ব নাই মর্মে দরখাস্ত সহ বি আর টি এ কে জানাই এবং রিসিভ কপি সীল সহ আমার কাছে সংরক্ষিত করি।এর মধ্যে গত আট বছরে আমি বিভিন্ন সময়ে ক্রেতা কে মালিকানা পরিবর্তনের জন্য ফোনে অনুরোধ করি।কিন্তু সে আমাকে বার বার আশ্বাস দিয়েও অদ্যাবধি ট্রান্সফার করে নাই।গত চার মাস আগে এক অপরিচিত টেলিফোন থেকে আমার TIN নাম্বার জানতে চেয়ে বলে বর্তমান মালিক তার কাছে গাড়িটা বিক্রি করতে চায়।মালিকানা পরিবর্তন না করাতে সে আমার Tin নাম্বারে AIT জমা দিতে চায়।আমি ভবিষ্যৎ অপরিনামদর্শী তার কথা চিন্তা করে সন্মত হইনি। ইতিমধ্যে গত সপ্তাহে আমি বি আর টি এ অফিসে গিয়ে বিভিন্ন কক্ষে ঘুরতে ঘুরতে আমার কাগজ পত্র তাদেরকে দেখালাম আমার অপরাধ কি? গাড়ি বিক্রি করার ৮ বছর পর এটা কি রকম আইন।এটা কি মগের মুল্লুক! কেউ সহায়তা করলো না,আমি বললাম আমি একজন রিটায়ার্ড মানুষ এত বাড়তি টাকা আমি কোথ্থেকে দেব।তারা বললো আপনি ক্রেতার সাথে যোগাযোগ করুন,মালিকানা পরিবর্তন করুন।আমি বললাম সে আমাকে সহযোগিতা করছেনা।ওরা বললো আপনি তার বিরুদ্ধে মামলা করুন।অবশেষে অনন্যোপায় হয়ে আমাকে ১৫০% বর্ধিত হারেই AIT পরিশোধ করতে হলো আজ।যেহেতু আমার পরিশোধ এর শেষ তারিখ ছিল ১৮.৫.২০২২। এই হচ্ছে সৎ ভাবে চলার পুরস্কার। একজন মালিকানা হীন গাড়ি ৮ বছর ধরে চালাচ্ছে,আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে এক নীরিহ রিটায়ার্ড সিনিয়র সিটিজেন কে। এ কারনেই মানুষের দেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উপর আস্থা নাই,এ কারনেই মানুষ দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। যেখানে সৎ ভাবে বাস করার পরিবেশ নাই।চিন্তা করুন এমন একটা দেশে আমরা বাস করছি।আমরা দেশটাকে ভালো বেসে দেশের নিয়ম মেনে চলি।
সত্যি সেলুকাস!

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com