শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন ২৮ হাজার টাকা শিমু হত্যার দায় স্বীকার করে স্বামী নোবেল ও বন্ধু ফরহাদের জবানবন্দী প্রদান শিশুদের মধ্যে হঠাৎ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী একদিনে করোনায় মৃত্যু ১২ শিকলবাহা খাল খনন শেষ হলে বাড়বে শহরের সৌন্দর্য’ মেলা-খেলায় লাগবে টিকা ও নেগেটিভ সনদ বিএনপি বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ সরকারের কাছে আছে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী সিএনজিকে নজরদারিতে আনতে গাড়িতে কিউআর কোড স্টিকার স্থাপন সন্ধ্যার পর নদী থেকে বালু উত্তোলন না করার নির্দেশ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যু ১

ক্ষমতা অন্ধ করে দেয়

কানাডা থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী

কেউ কোন কিছু মনে রাখে না বা কেউ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না বা অনেককে ক্ষমতা অন্ধ করে দেয়। আপন কে পর মনে হয় পর কে আপন মনে হয় এটা জগতেরৌ স্বাভাবিক রীতিনীতিন মনে হয়। তাই ৩২ নম্বরে জাতিরজনকের লাশ পড়ে থাকে আর প্রধানমন্ত্রীকে আক্ষেপ করে বলতে হয় এটা কি সম্ভব? মেজর ডালিম, মুস্তাক, জিয়া কতবার এসেছে আমাদের বাড়ি দহলিজে। আসলে সেটা হলো বাস্তবতা। জুলিয়াস সিজার, নবাব সিরাজদৌলা, চিলির আলনদে তাদের ভাগ্য বিপর্যয় নিকট বন্ধুদের হাতে। অনেক সময়ে রূঢ় বাস্তব কল্পনাকে হার মানিয়ে দেয়। তাই সময় থাকতে যারা ক্ষমতাসীন আছেন তাদের দেয়ালের লিখন পড়তে হয়। এফবিতে একটি ছবি দেখলাম মৌলানাতারিক মনোয়ার লন্ডনে এই সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছে এবংমানববন্ধন শামিল হয়েছে। তারেক মনোয়ার হেলিকপ্টারের চেয়ে রকেটে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বর্তমানে বাংলাদেশে এসে বহাল তবিয়তে ওয়াজ-নসিহত করতেছেন ।
এই যে বর্তমানে বাংলাদেশের জুনিয়ার দেলোয়ার হোসেন সাঈদী মাওলানা আজহারী কে এক মাহফিলে নববধূর মত জড়িয়ে ধরে চুমু খাচ্ছেন। আহা! সখি ভালোবাসা কারে কয়। আজহারী ও তারেক মনোয়ার যুগল মিলন হাজারো করতালি মধ্য দিয়ে এবার শুরু হবে ছায়াছবির দ্বিতীয় পর্ব। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু যখন সপরিবারে নিহত হয় তখন দেখা গেল আসম আব্দুর রবের জাসদ ফোলা বেলুন হঠাৎ চুপসে গেল। আমি তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। জাসদের লম্বা-লম্বা মিছিল দেখতাম সেই মিছিলে যেই স্লোগান স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার রা দিতে সাহস পেত না জাসদের ছেলেরা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে সেই স্লোগান দিত।

বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর দেখা গেল জাসদের মিছিলে কোন লোক নেই। ওরা গেল কোথায়?
১৫ আগস্টের পর জাসদের মিছিলে কোন লোক নেই ওরা গেল কোথায় সেই কাহিনীতে আসছি এবা্র। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাসদের ছত্রছায়ায় গোপনে গোপনে জামাতের ছাত্র সংগঠন শিবির তাদের ভিত গড়ে তুলে। গড়ে তোলে চেইন অফ কমান্ড। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যা সম্ভব হয় নাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় তা সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর খবর আমরা যারা মুজিববাদী ছাত্রলীগের ছিলাম আমাদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে। অনেকের বিরুদ্ধে হুলিয়া ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হয। আমি এখানে নাম পরিচয় গোপন রাখছি। এরমধ্যে এল জেনারেল জিয়ার হ্যাঁ না ভোট। আমার বাড়ি ছিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেশি দূরে নয় সে সময় আমার রুমমেট ছিল শিবিরের এক কর্মী। তার নামটি গোপন রাখলাম। রাজশাহী ছেলে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স পড়তো। শুধু সংগঠনের কাজের জন্য সে দুবার অনার্স পরীক্ষা দেয় নাই। আমাকে খুব ভক্তি শ্রদ্ধা করত। তার কাছ থেকে আমি অনেক কিছু জানতে পারতাম শিবিরের রাজনীতি সম্পর্কে। সে সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এখন যেখানে কলেজ আছে সেখানে হ্যাঁ না ভোটের একটি কেন্দ্র ছিল। আমি আমার রুমমেট কে বললাম চলেন ভোট দিতে যাই। সে বলল আমরা সাপোর্ট করেছি কিন্তু ভোট দিতে পারব না ।পরে আমি গেলাম ভোট দিতে। আমি কেন্দ্রে গিয়ে একটি ভোটার নাম্বার নিয়ে ভোট দিতে গেলাম আমাকে একটি ব্যালেট দেওয়া হল আমি ব্যালট নিয়ে না বাক্স খূজলাম।। পোলিং অফিসার বলল না বাক্স নেই ,হ্যাঁ বাক্সে দিতে হবে। আজকে যারা নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন বা গণতন্ত্রের জন্য আসিফ নজরুল ।মান্না সাহেবেরা মুখে খই ফোটান তখন মনে হয় কি দিয়ে লজ্জা ডাকবো। পরে আমার পীড়াপীড়িতে না বাক্স এনে দিল পোলিং অফিসার একটি টেবিলের নিচ থেকে। দুইটা পর্যন্ত ভোট চলল। তারপর ভোট কেন্দ্র গুটিয়ে ওরা চলে গেল। ১৭ টি না ভোট পড়েছিল। সামনে ফাইনাল পরীক্ষা গ্রামে যেতে পারছিনা ।মাঝে মাঝে শুনি কাদের সিদ্দিকীর কথা বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিশোধ নিতে ভারতের সংগঠিত হচ্ছে।এরপর ভারতে মোরাজি দেশাই ক্ষমতায় এলো বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীদের মনে প্রতিরোধের যে আশা টুকু ছিল সেগুলো ভেঙে গেল। উপরের যে ঘটনাগুলো আমিও অবতারণা করেছি তার মূল সারাংশ আমি আসি। ভাটিয়ারী থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ের মধ্য দিয়ে একটি সঙ্কীর্ণ গিরিপথ আছে। ওই পথ দিয়ে ভাটিয়ারী মিলিটারী একাডেমী দেখে জেন্টলম্যান ক্যাডেট রা দীর্ঘ পথ হেঁটে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্রাম নিত । পরিশ্রান্ত কেউ কেউ এর হলে রক্ষিতপাবলিক টেলিফোনে পরিবারের সাথে কথা বলতো। আমরা হলের ছাত্ররা তাদেরকে সহযোগিতা করতাম। সময়টা ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে ততদিনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের জন্ম হয়ে গেছে এবং যৌবনে পদার্পণ শুরু। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় হতে বের হওয়ার সময় একদিন দেখি সময় তারিখ আমার মনে নেই এ ধরনের একটি গ্রুপ মিলিটারি একাডেমি থেকে ওই পথ দিয়ে হেঁটে প্রশিক্ষণরত ক্যাডেট সমূহ আলাওলের বারান্দায় বিশ্রাম নিচ্ছিল। একটি ছেলেকে শিবিরের সমস্ত নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত খাতির যত্ন করতে লাগলো আমিও কৌতহুল হয়ে ওই শিবির নেতা কে জিজ্ঞেস করলাম তোমরা এই ছেলেটাকে এত খাতির যত্ন করতেছ কেন তখন ওই নেতা যে জবাব দিল আমি শুনে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। সে বলল মারুফ ভাই এটা আমাদের ছেলে খুব প্রতিভাবান ছেলে আমরা তাদের ঢুকিয়েছি এভাবে আমরা বিভিন্ন জায়গায় ভালো ছাত্র গুলোকে প্রশাসনের বিভিন্ন শাখায় ঢুকাতে থাকবো। তারপর ইতিহাস বঙ্গবন্ধুর ভাষায় বাংলার আর্তনাদ ইতিহাস। আজকের আজহারী তারেক মনোয়ার হামজা তারা কি নতুন ইতিহাসের ছাত্র নবরূপে মহাভারত। সময় বলে দেবে। কান্ডারী হুশিয়ার। উল্লেখ্য ২০২০ সালে পোস্ট করেছিলাম এখন সংশোধন করে পুনর্বার দিলাম।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com