শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৪৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন ২৮ হাজার টাকা শিমু হত্যার দায় স্বীকার করে স্বামী নোবেল ও বন্ধু ফরহাদের জবানবন্দী প্রদান শিশুদের মধ্যে হঠাৎ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী একদিনে করোনায় মৃত্যু ১২ শিকলবাহা খাল খনন শেষ হলে বাড়বে শহরের সৌন্দর্য’ মেলা-খেলায় লাগবে টিকা ও নেগেটিভ সনদ বিএনপি বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ সরকারের কাছে আছে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী সিএনজিকে নজরদারিতে আনতে গাড়িতে কিউআর কোড স্টিকার স্থাপন সন্ধ্যার পর নদী থেকে বালু উত্তোলন না করার নির্দেশ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যু ১

আগামী ১৫ ডিসেম্বর ২০২১ চট্টলবীর আলহাজ্ব এ.বি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরীর চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকী

চট্টল বীর প্রয়াত আলহাজ্ব এ.বি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরীর চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তাঁকে নিয়ে কিছু স্মৃতিচারণ করলাম। তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে না পারলে পরবর্তী প্রজন্ম তাঁকে মনে রাখবে না। ছাত্রজীবন থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালবেসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। এদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতা অর্জন। মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতা আন্দোলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।
চট্টগ্রামের রাজনীতির মুকুটহীন সম্রাট চট্টল বীর নামে পরিচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা তিন বারের নির্বাচিত সফল মেয়র প্রয়াত আলহাজ্ব এ.বি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী। বার আউলিয়ার পূণ্যভূমি এই চট্টগ্রাম শহরকে তিনি মনের মতো করে নান্দনিক রূপে সাজিয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র থাকাকালে স্কুল, কলেজ, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে কম খরচে সবার জন্য লেখাপড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। প্রতি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে হাসপাতাল করে সমাজের সর্বস্তরের জনগণের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সহ ঔষধপত্র সরবরাহ করে দিয়েছে। তাঁর স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল আজ বাস্তবায়নাধীন। ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সবার প্রাণের পুরুষ ছিলেন। তাঁর কাছে ধনী-গরীব, জাতপাতের কোন বৈষম্য ছিল না। বিশেষ করে চট্টগ্রামের শ্রমিক শ্রেণির লোকজন তাঁকে খুব ভালবাসতেন। তিনি কোনদিনও নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করেননি। তিনি সবসময় সামগ্রিক চিন্তা করতেন। যে কাজটা করলে সবাই উপকৃত হবে, সবার লাভ হবে এই রকম চিন্তা করতেন। তাঁকে চট্টগ্রামের মানুষ এখনো মিস করে। তিনি ভুলার মত নয়। তাঁকে ভুলা যাবে না। তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের মানুষের স্পন্দন। যে কেউ বাসায় গেলে তাঁর অতিথি পরায়ণাতা দেখে মুগ্ধ হয়ে যেতেন। বর্তমানে এইরকম সহজ, সরল রাজনৈতিবিদ খুবই বিরল। তাঁর সাথে যাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল সেই যে ধর্মেরই হোক না কোন তাদের ব্যক্তিগত খোঁজ খবর রাখতেন। যার যার ধর্ম অনুযায়ী বিভিন্ন উৎসবে তাঁদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে উপহার পাঠিয়ে দিতেন। চট্টগ্রামে এরকম জনদরদী পরের চিন্তায় চিন্তিত, পরের কান্নায় কান্না করার মতো আর একজন মহিউদ্দিন চৌধুরি জন্ম নেবে না। পাশাপাশি এই মহান রাজনীতিবিদের পাশাপাশি থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন তার প্রিয়তমা স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন। তাঁর বাসায় যখন ছাত্র নেতা কর্মী থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের আনাগোনা ছিল। তাঁদের ঠিক মতে খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে মেহমানদারি করার দায়িত্ব ছিল তাঁর উপর। তাঁকে ও অনেক কাঠখড় পুড়তে হয়েছে। অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে এবং সহ্য ও করেছেন। তাঁর অবদান ও কর্ম নয়। বর্তমানে তাঁর পরিবার প্রয়াতের নামে “মহিউদ্দিন চৌধুরী” ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সাধারণ ও নিঃস্ব মানুষের কাছে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
তাঁর মতো ত্যাগী নেতা ও আদর্শবান রাজনীতিবিদদের অভাব পূরণ হওয়ার কথা নয। এমন নেতার জন্ম বার বার হয় না। তিনি লক্ষ কোটি ত্যাগী, পরিশ্রমী ও সৎ রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর প্রতিচ্ছবি হয়ে বেঁচে থাকবেন। তাঁহার সংগ্রামী জীবনের কষ্ট, পরিশ্রম বৃথা যায়নি। তিনি কর্মের মধ্যেই চট্টগ্রামবাসীর হৃদয়ে অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন। গণমানুষের এই নেতা ২০১৭ সালের বিজয় দিবসের আগের দিন ১৫ ডিসেম্বর অজস্র মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তাঁর প্রাণপ্রিয় সহধর্মিনী চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের মহিলা সভাপতি আমার শ্রদ্ধেয়া চাচীমা হাসিনা মহিউদ্দিন নারী জাগরণ অগ্রদূত হিসেবে নারীদের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে। পিতার আদর্শকে ধারণ করে তাঁরই সুযোগ্য ছেলে শিক্ষা উপমন্ত্রী চট্টল রত্ন ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল) চট্টগ্রামে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ সহ আইটি ভিলেজ স্থাপন করে এলাকার তরুণ সমাজকে স্বনির্ভর করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। মানুষের সুখে দুঃ খে সেবায় হাত বাড়িয়ে দেন, ছোট ছেলে বোরহানুল হাসান চৌধুরী (সালেহীন) প্রতিনিয়ত এলাকার মানুষের পাশে থেকে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। বড় জামাতা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সেলিম চৌধুরী সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী। তাঁরাও সাধ্যমত প্রয়াতের অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণে সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আমাদের হৃদয়ে, অনুভবে, অনুপ্রেরণায় বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এই মহান মানুষটিকে। পরম করুণাময় তাঁকে জান্নাতবাসী করুন।

লেখক : লক্ষণ কান্তি দাশ, পি.এ.টু জজ, অর্থঋণ আদালত, জজ কোট এবং সেবায়েত, গোলকধাম, কোতোয়ালী, চট্টগ্রাম।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com