বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৫১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
আরএসআরএমের এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেশের ক্ষতি করতে বিএনপি-জামায়াত বিদেশে ৮টি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা নেই : ওবায়দুল কাদের নৈরাশ্যবাদীদের ভ্রান্ত ধারণাকে অমূলক প্রমাণ করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ নিয়ে টিআই প্রণীত দুর্নীতি রিপোর্ট পক্ষপাতদুষ্ট, উদ্দেশ্য প্রণোদিত : তথ্যমন্ত্রী বাশঁখালী পৌরসভা মেয়রের অসংলগ্ন কথার্বাতা চট্টগ্রামে নুয়েসলার বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রচার প্রচারণায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চান চুনতির বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫ঋণ খেলাপীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ফটিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভারতীয় লাইফসাপোর্ট এ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর

এসকে সিনহার ১১ বছরের কারাদণ্ড

ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) থেকে চার কোটি টাকা আত্মসাত ও পাচারের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় দেন।
দুটি সাজা একসঙ্গে চলবে বলে তাকে সাত বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে জানান আইনজীবীরা।

এছাড়া সিনহাকে দুই অভিযোগে ৪৫ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাস কারাদণ্ড এবং ফ্রিজ থাকা ৭৮ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়।

এ মামলার দুই আসামি টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান এবং নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া মামলার অপর আট আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী), একই ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক ও সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায় পলাতক। সিনহাসহ শেষ তিনজন পলাতক।

এর মধ্যে ফারমার্স ব্যাংকের এমডি একেএম শামীমকে চার বছর ও বাকিদের তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিদের মধ্যে বাবুল চিশতি কারাগারে ছিলেন, তাকে এদিন আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়া জামিনে থাকা অপর ছয়জন রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন। এ সাতজনকেই সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৪ সেপ্টেম্বর এ মামলায় রায়ের জন্য ৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন একই আদালত। তবে সেদিন অসুস্থতার কারণে বিচারক ছুটিতে থাকায় রায়ের জন্য ২১ অক্টোবর নতুন দিন ধার্য করা হয়। রায় প্রস্তুত না হওয়ায় গত ২১ অক্টোবর রায়ের তারিখ দ্বিতীয় দফায় পিছিয়ে ৯ নভেম্বর ধার্য করেন আদালত।

এসকে সিনহাসহ এ মামলায় মোট আসামি ১১ জন। পলাতক থাকায় সাবেক এই প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতেই হয় বিচারকাজ।

এর আগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া ঋণের মাধ্যমে চার কোটি টাকা স্থানান্তর ও আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আসামি শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখায় দুটি অ্যাকাউন্ট খোলে দুই কোটি টাকা করে মোট চার কোটি টাকা ঋণের আবেদন করেন। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ঋণের আবেদনে উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ৫১ নম্বর বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়, যার মালিক ছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।

জামানত হিসেবে আসামি রনজিৎ চন্দ্রের স্ত্রী সান্ত্রী রায়ের নামে সাভারের ৩২ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ করা হয় ঋণের আবেদনে। ওই দম্পতি এস কে সিনহার পূর্ব পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করা হয়েছে মামলার এজাহারে। দুদক বলছে, ব্যাংকটির তৎকালীন এমডি এ কে এম শামীম কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই, ব্যাংকের নিয়ম-নীতি না মেনে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঋণ দুটি অনুমোদন করেন।

ওই বছরের ৭ নভেম্বর ঋণের আবেদন হওয়ার পর ‘অস্বাভাবিক দ্রুততার’ সঙ্গে তা অনুমোদন করা হয়। পরদিন মোট চার কোটি টাকার দুটি পে-অর্ডার ইস্যু করা হয় এস কে সিনহার নামে। ৯ নভেম্বর সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিম কোর্ট শাখায় এস কে সিনহার অ্যাকাউন্টে জমা হয়।

পরে বিভিন্ন সময়ে ক্যাশ, চেক ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে ওই টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে এস কে সিনহার ভাইয়ের নামে শাহজালাল ব্যাংকের উত্তরা শাখার অ্যাকাউন্টে দুটি চেকে দুই কোটি ২৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয় ওই বছরের ২৮ নভেম্বর।

মামলা তদন্ত করে ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন দুদক পরিচালক বেনজীর আহমেদ। ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট একই আদালত ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। চলতি বছর ২৪ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলায় ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com