মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
আনোয়ারা উপজেলায় পিস প্রকল্পের উগ্রবাদ প্রতিহতকরণে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ” বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পুলিশ কমিশনারের সাথে ডা.শাহাদাত হোসেনের সাক্ষাৎ মৎস্যজীবী লীগের স্বীকৃতি প্রদানের ২য় বর্ষপূর্তির আলোচনা সভা চসিক মেয়রের সাথে সিএমপি কমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাত খালেদা জিয়ার অসুস্থতার জন্য বিএনপিই দায়ী ওমিক্রনের কারণে এইচএসসি পরীক্ষা বন্ধ হবে না-দীপু মনি বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগ বান্ধব দেশ: আইনমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল রিপোর্ট বিদেশে পাঠানো হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিডিয়া অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু বিটিভি চট্টগ্রামের ধারাবাহিক ‘জলতরঙ্গ’ চট্টগ্রামে গণপরিবহনে হাফ পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক চেতনা ছোট চারা গাছটি ৫০ বছরে বটবৃক্ষ হয়ে গেল( পর্ব-২)

টরেন্টো থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী

আমি পর্ব-১ এ আলোচনা করেছিলাম সাম্প্রদায়িক চেতনার ঐতিহাসিক পটভূমি পাক-ভারত পরিপ্রেক্ষিতে আজ তার দ্বিতীয় পর্ব শুরু করছি। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো জাজিরাতুল আরব বর্তমান সৌদি আরব ইসলামের আবির্ভাব হয় তখন সেখানকার অধিবাসীরা যে ধর্ম পালন করত তা হলো পৌততলিক ধর্ম এবং পবিত্র কাবা শরীফে 360 টি মূর্তি ছিল বলে জানা যায়। তবে মূল কাবার ভিতরে বর্তমানে যে অবস্থান দেখা যায় তাতে 360 টি মূর্তি অবস্থান কিভাবে ছিল ইতিহাসে তা জানা যায় না তবে হয়তো আশেপাশে বিভিন্ন জায়গায় থাকতে পারে । ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব এর সময়আরবে কিতাবী ধর্ম খৃষ্টান এবং ইহুদিরা বসবাস করত। ইহুদীরা বেশিরভাগ বর্তমানে মদিনায় পূর্ব নাম ইয়াসরিব অবস্থান করতো। কিছু কিছু খ্রিস্টান মক্কা শরীফের আশপাশে অবস্থান ছিল কারণ নবীজির প্রথম স্ত্রী খাদিজাজার চাচা বোহরা খ্রিস্টান ধর্ম অনুসারী ছিল। হেরা গুহায় ইসলামের নবী যখন স্বর্গীয় দুত জিব্রাইল কর্তৃক ওহী লাভ হয় প্রথম অবস্থায় ভয় পেয়েছিলেন তখন তার স্ত্রী মা খাদিজা তাকে নিয়ে তার সেই বৃদ্ধ চাচার কাছে যান। তিনি তখন প্রায় বৃদ্ধ হয়ে গেছেন খাদিজা র কাছে সবকিছু শুনে ভবিষ্যৎবাণী করেন তার কাছে যে দুত এসেছি পূর্বে নবীদের কাজে তিনি এসেছেন। পুরাতন ধর্মগ্রন্থে শেষ যে নবীর কথা বলা হয়েছিল তিনি তোমার স্বামী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম। তিনে নির্যাতিত হবেন এবং স্বদেশ থেকে বিতাড়িত হবেন। কিন্তু সমস্যা হলইতিহাসে দেখা যায় তখন সনাতন ধর্ম হিসেবে বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা বা উপাসনা পাক-ভারত উপমহাদেশ তথা আফগানিস্তান প্রচলিত ছিল। সৌদি আরবে যে পৌত্তলিক ধর্ম ছিল তার কোন ধর্মগ্রন্থ ছিল না যেভাবে সনাতন ধর্মে হিন্দুস্তানে ছিল তাদের ধর্মীয় গ্রন্থ বেদ গীতা উপনিষদ। বেদ উপনিষদ এ সমস্ত কিতাব পৃথিবীর শেষ সময়ে একজন অবতারের আবির্ভাব এর কথা জানা যায়। সুতরাং ইসলামের ইতিহাসে আরবে ৩৬০টি মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা হয় এবং তাদের প্রধান দেবতা ছিল লাভ মানত উজজা। কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় ইব্রাহিম আলাই সালাম এর জমানায় মূর্তিপূজার কথা এবং ইব্রাহিম কর্তৃক সেই মূর্তি ভাঙ্গা এবং এইভাবে একটি বিপুল মুসলিমজনগোষ্ঠীর মধ্যে এটি ধারণা জন্মে যদি ইহজন্মে যত বড়ই পাপ করা হোক না কেন মূর্তি ভাঙ্গলে আল্লাহ খুশি হয় এবং সোয়াব আছে এই ধরনের মানসিকতা শিশুকাল থেকে মুসলিম ছেলেদের মনে গড়ে ওঠে। আবার গ্রীক দর্শন বিভিন্ন দেব দেবতার কথা জানা যায় সেখানে দেবতার রাজা জিউস প্রেমের দেবতা কিউপিড এবং সুন্দরের দেবতা নার্সিসাসের সন্ধান পাওয়া যায়। তাদের উপলক্ষ করে গ্রীক পুরাণ উপকথা রচিত হয়। কালক্রমে খ্রিষ্টধর্মের প্রভাবের ফলে গ্রিক দেবতা গ্রিসের ইতিহাস থেকে আস্তে আস্তে বিলুপ্তির পথে চলে যায়। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্য হল পাক-ভারতের সনাতন ধর্ম যা আমরা হিন্দু ধর্মাবলি বৈদিক ধর্ম বলি সংঘাতে সে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বৌদ্ধ ধর্ম প্রবক্তা ভারতে জন্ম একসময় বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব প্রতিপত্তি ছিল ভারতে এবং সংঘটিত হয় অশোকের কলিঙ্গ যুদ্ধ। রক্তাক্ত দাঙ্গা চলে ভারতবর্ষে ব্যাপী এবং অহিংসা পরম ধর্ম থেকে আস্তে আস্তে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জাপান এবং চীন এখানে জনপ্রিয়তা লাভ করে। মুসলমান ধর্মের আবির্ভাব এদেশের যারা নিম্নশ্রেণির হিন্দু ছিল বা জাতপাতের দ্বন্দ্বে যারা ক্ষতবিক্ষত হচ্ছিল এবং সিন্ধু অববাহিকায় দেবলে ইবনে কাসেম এর সাথে রাজা দাহিরের যুদ্ধ এবং মুসলমান ধর্মের রাজা প্রজা একসাথে মিলে জাতপাতের ব্যবস্থা না থাকায় এদেশের নির্যাতিত হিন্দুরা সেই ধর্মেরপ্রতি আকৃষ্ট হয় সেই সাথে ভারতের সুফিজমের প্রভাব ইসলাম ধর্মের প্রচার একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা অবদান রাখে। কালক্রমে উভয় ধর্ম পাশাপাশি চলতে থাকে। মুসলিম শাসনামলে হিন্দুত্ববাদের পুর্নজন্ম হয় এবং বিভিন্ন সংস্কার আন্দোলন হিন্দুধর্মকে আস্তে আস্তে অনেক সংশোধন হয় তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে এরমধ্যে স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। স্বামী বিবেকানন্দ এবং রাজা রামমোহন রায়ের ব্রাহ্মসমাজ এদের চেষ্টার ফলে অন্য দেশ থেকে সনাতন ধর্মের আড়ালে যে সমস্ত ধর্ম ছিল যাদের উপাসনা প্রতিমা বিহীন হয়না তারা পাক-ভারত উপমহাদেশে টিকে রইল যদিও মুসলিম সম্প্রদায় কাউকে জোর করে মুসলিম ধর্মে যোগদান বাধ্য করেনি ইউরোপে খ্রিস্টানরা যা করেছে এবং স্পেনে মুসলিম এখানে 700 বছর রাজত্ব করেছে এবং স্পেনের কর্ডোভা মুসলিম সভ্যতা গড়ে উঠেছিল খ্রিষ্টান রানী ইসাবেলা সময়ে মুসলিম নিধন হয় এবং তার শূন্যের কোটায় চলে আসে। যাভারতে মুসলিম শাসকরাকরে নি। গজনীর সুলতান মাহমুদ ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেছে সোমনাথ মন্দির লুট করেছে কিন্তু এখানে কোন সাম্রাজ্য স্থাপন করেনি। মুসলমানদের হাত থেকে ব্রিটিশরা পাক ভারত শাসনের দায়িত্ব নেওয়ার পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রধান শত্রু হয়ে দাঁড়ায় মুসলমানেরা এবং যা ছিল স্বাভাবিক। পরবর্তীকালে বাহাদুর শাহ নেতৃত্বে 1857 সালের সিপাহী বিদ্রোহ প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ নামে পরিচিত তখন বৃটেনের বোধোদয় হয় এখানে কোম্পানির শাসন অবসান ঘটে এবং রাণী ভিক্টোরিয়ার শাসন জারি হয়। এবং বিভিন্ন রাজ্যে স্থানীয় প্রশাসনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসনকার্য চালু করা হয়। সেখানে মুসলমানদের জন্য কোটা রাখা হয়। সহজ পন্থায় স্বর্গলাভ বিষয়টি প্রাধান্য পায় তুমি অন্য ধর্মের উপাসনা ভেঙে দাও এতে অনেক পূর্ণ এরমধ্যে প্রতিমা ভাঙ্গা একটি,। যা ইসলামের মূল চেতনার পরিপন্থী। এখানে জোরজবরদস্তি মুলক ধর্ম প্রচারে নিষেধ করা হয়েছে এবং আল্লাহর রাসূলকে বলেছে তুমি শুধু উপদেশ দিবে বা সতর্ক করবে।সুরা ইয়াসিন দ্রষ্টব্য। আল্লাহ বলেছেন সৎ পথ দেখাবো আমি। ধর্ম যখন রাজনীতির সাথে সংযুক্ত হলো তখন আল্লাহু আকবর অথবা হর হর মহাদেও ইদানিংকালে শ্রীরাম আবির্ভাব হয়। ভারতে বিজেপির উত্থান ছিল ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির তীর্থস্থান নামে পৃথিবীতে পরিচিত ছিল সেই ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির উপর একটি কলঙ্ক টিপ। যেখানে নেহেরু মিশরের জামাল আব্দুল নাসের এবং যুগোস্লাভিয়ার মার্শাল টিটো একত্রিত হয়েছিলেন জোট নিরপেক্ষ রাজনীতি নিয়ে। পৃথিবীর ইতিহাসে উসমানীয় সাম্রাজ্য ধ্বংস করে দেয় আরব জাতীয়তাবাদের উন্মেষ যেখানে জামাল আব্দুল নাসের বলতো আমার প্রথম পরিচয় আমি আরব তারপর আমি মুসলমান এইভাবে পৃথিবীতে একটি ধর্মনিরপেক্ষ বলয় গড়ে ওঠে শুভবুদ্ধির পরিচায়ক এবং ধর্মের ঊর্ধ্বে ছিল মানুষ। কিন্তু আমাদের উপমহাদেশের ভৌগলিক পরিবেশ এবং রাজনীতি এদেশের মানুষের ধর্মের প্রতি অন্ধ আনুগত্য প্রবল এবং স্বার্থান্বেষী রাজনীতিকরা এটাকে ক্ষমতা গ্রহণের সিঁড়ি হিসেবে অবলম্বন করে বসে। জনগণের জন্য যে গণতন্ত্র সেটা প্রতিষ্ঠার জন্য অযোধ্যা রাম জন্মভূমি এবং এবং অপর অংশের জনগণ আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বিধানে প্রতিষ্ঠা করে মানুষের ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে অথচ পাকিস্তান আমলে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র রবিবার সাধারণ ছুটি ছিল বাংলাদেশ আমরা ধর্মীয় অনুভূতি র শুক্রবার করে দিয়েছি এবং এদের বিরুদ্ধে কোন সুশীল সমাজ কিছু বললে তারা হয়ে যেত ভারতের দালাল অথবা ইসলাম গেল। সংবিধানে বিসমিল্লা সংযোজন ধর্মীয় রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ যেটা পরে আলোচনা করা হবে আলোচনা শেষ করার পূর্বে মুসলমানদের বিখ্যাত হাদীস গ্রন্থ বুখারী শরীফ সবাই রাসূলের বাণী সত্য বলে জানে সেই হাদিস শুরু করার পূর্বে কোথাও বিসমিল্লাহ সংযোজন করে নি। এতে ইসলাম ধর্মের কোন ক্ষতি হয়নি বা বুখারী শরীফ থেকে মাওলানাদের উদ্ধৃতি প্রদান থমকে দাড়ায় নি। দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িকতার উত্থান সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। আপনাদের মতামত আশা করি। দ্বিতীয় পর্ব সমাপ্ত।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com