মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
আনোয়ারা উপজেলায় পিস প্রকল্পের উগ্রবাদ প্রতিহতকরণে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ” বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত পুলিশ কমিশনারের সাথে ডা.শাহাদাত হোসেনের সাক্ষাৎ মৎস্যজীবী লীগের স্বীকৃতি প্রদানের ২য় বর্ষপূর্তির আলোচনা সভা চসিক মেয়রের সাথে সিএমপি কমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাত খালেদা জিয়ার অসুস্থতার জন্য বিএনপিই দায়ী ওমিক্রনের কারণে এইচএসসি পরীক্ষা বন্ধ হবে না-দীপু মনি বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগ বান্ধব দেশ: আইনমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল রিপোর্ট বিদেশে পাঠানো হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিডিয়া অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু বিটিভি চট্টগ্রামের ধারাবাহিক ‘জলতরঙ্গ’ চট্টগ্রামে গণপরিবহনে হাফ পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

টরন্টোর চিঠি:সরকারের বিধি-নিষেধ পালনে কোন ঘাটতি নেই বরঞ্চ সবাই সজাগ

টরেন্টো থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী

আমরা কখন সুনাগরিক উপনীত হব তা বোধ হয় স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা জানেন না। দ্বিতীয়বারের মতো কানাডায় এসেছিএখন প্রায় এক বছর হতে চলল। এদের যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে তা হল পরিবেশ এবং শব্দ দূষণ সম্পর্কে এরা যথেষ্ট সজাগ। মজার বিষয় হলো বাংলাদেশ ঢাকা ইস্কাটন আমাদের বাসা। খুব ভোরে কাকের কর্কশ আওয়াজ এবং একসাথে মসজিদের শহর ঢাকা আমাদের নিউ ইস্কাটনের আশেপাশে নতুন-পুরাতন মিলিয়ে ৬ টি মসজিদ মসজিদের মিনারের উপর তিনটি মাইক তাহলে এক মাইলের মধ্যে খুব ভোর সকালে আঠারোটি মাইক একসাথে আজানের জন্য বেজে ওঠে তখন বুঝতে পারেন খুব সকালে কি অবস্থা হয়। রোগীর শিশুদের এবং পরিবেশের উপর এবং অসুস্থ লোকদের জন্য কি অসহনীয় শব্দ দূষণ আর আছে কাকের কর্কশ আওয়াজ । আর একটি কাক ভুলক্রমে বিদ্যুতের শক পায় এবং তার আওয়াজ সাথে সাথে শত শত কাকদের কর্কশ আওয়াজ বুঝতে পারেন কি অবস্থা। আশ্চর্যের বিষয় হলো আমি কানাডায় যে এলাকায় আছি এটার নাম ডেন ফোর্থ বাংলা ভাষাভাষীদের প্রাধান্য,। অল্প বিস্তর ব্যবধান বেশ কয়টি মসজিদ আছে। এখানে আজান হয় কিন্তু তা মসজিদের ভিতরে আওয়াজ সীমাবদ্ধ। তারপর ও যথানিয়মে জামাতে নামাজ হয়। মুসল্লিও উপস্থিতির হার সন্তোষজনক। সরকারের বিধি-নিষেধ পালনে কোন ঘাটতি নেই বরঞ্চ সবাই সজাগ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোথাও দেখবেন না। রবীন্দ্রনাথের রাজা নাটক রাজার মতো। রাজাকে কেউ দেখেনা কিন্তু রাজার অস্তিত্ব সবাই টের পায়। এখানেও তাই মনে হল। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় এদের সরকার চালায় কে ? কিন্তু টের পাবেন যখন কোন অপরাধ সংঘটিত হয় সাথে সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী হাজির। শব্দদূষণ এখানে নেই বললেই চলে। মজার ব্যাপার আজকে দেড় বছরে কানাডার কোন জায়গায় একটি কাকের দেখ আমি পাইনি।রাস্তা দিয়ে হাজার হাজার গাড়ি চলছে মনে হয় ছোটবেলায় আমাদের বাড়ির জঙ্গলের আসে পাশে নিরব পিঁপড়া দলবদ্ধ সারি কোন আওয়াজ নেই এখানেও সেই রকম। আমার এমনি রাত্রিতে ঘুম কম হয়। মাঝে মাঝে 37 তলার এপার্টমেন্টে হতে গভীর রাতে রাজ পথের দিকে চেয়ে থাকি। এখানে আপনি রাস্তাঘাটের লোক দেখা যায় না রাত্রি তো আর প্রশ্নই উঠে না। তবু দেখি লালবাতির সামনে গভীর রাত্রে বা শেষ রাত্রি রাস্তার দিকে চেয়ে থাকি কিভাবে চলমান গাড়ি সমূহ ট্রাফিক আইন মেনে চলছে। এখানে সাড়ম্বরে দুর্গাপূজা হয়েছে কিন্তু বিসর্জন এত বড় অন্টারিও হ্রদ তাতে ফেলতে পারবে না বাধ্য হয়ে সুইমিংপুলে বিসর্জন দিতে হয়। বুঝতে পারেন পরিবেশ সম্পর্কে এরা কত সচেতন। বড় ছেলে অস্ট্রেলিয়া আছে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছে, সস্ত্রীক অস্ট্রেলিয়া থাকে। ছেলের সাথে প্রায় রাত্রে কথা হয়। সিডনি শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে তাদের বাস। সে বলল আব্বা আমাদের বাসার পাশেই যে রাস্তা আছে তা মেরামতের কাজ চলতেছে। সে দেশের সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রত্যেক বাসায় চিঠি দিয়েছে যে রাস্তায় কাজকর্ম চলাকালে কিছু শব্দ হতে পারে এবং এতে আপনাদের নাগরিক জীবনের অসুবিধা হতে পারে। আপনারা যদি এই সামান্য শব্দ দূষণ থেকে বাঁচতে চান তবে সবাইকে তিন দিনের জন্য ফাইভ স্টার হোটেলে ব্রেকফাস্ট সহ দেওয়া হবে যদি কেউ যেতে না চায় তবে তাদের প্রত্যেককে বাজার খরচ দেওয়া হবে এবং একটি তারিখ দেওয়া আছে এত তারিখের মধ্যে অনলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। ছেলে বলল আব্বা আমি ডাকবাক্স খুলে দেখি নি। যখন দেখেছি টাইম চলে গেছে। অনেকে সে সুযোগ গ্রহণ করেছে। এখন দেখুন এদের সমাজ ব্যবস্থা এবং নাগরিকদেরসুযোগ-সুবিধার জন্য তারা কত সচেতন এই ঘটনা দিয়ে বোঝা যায়। আমাদের বাংলাদেশ ধর্ম যার যার উৎসব সবার এই কথা বললে নাকি ঈমান চলে যায়। আমার গিন্নী ডায়াবেটিস রোগী এবং প্রায় সকালে বিকেলে হাঁটতে যায়। গতকাল দেখি তার শীতকালীন জোব্বা দুই পকেট লজেন্স এবং ক্যান্ডি পরিপূর্ণ। বাসায় ফিরে নাতি নাতনির জন্মএর জন্য একে একে পকেট থেকে এইসব বাচ্চাদের খাবার জিনিস বের হচ্ছে। আমি বললাম তুমি এগুলো কোথায় পেলে? আর তোমার পকেট কোন ডলার ছিলনা। বল্লো আজকে নাকি এদের হলোজোন উৎসব প্রত্যেক বাসার সামনে সাদা কাপড়ে মূর্তি অথবা বড় বড় মিষ্টি কুমড়া রেখে দিয়েছে। আর বাসার বুড়ো-বুড়িরা সবাই রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাচ্চাদের বা বাচ্চার মা দের সমস্ত উপহার সামগ্রী বিলি করছে। আর জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবাই তা গ্রহণ করছে। আমার বড় নাতনিসোফিয়া বয়স 9 বছর চলছে নানীর দেয়া লজেন্সপরীক্ষা করলো বেশি কিছু ফেলে দিল এইগুলির উপাদান পড়ে বলল না না এইগুলি হারাম,। এত ছোট বয়সে সে হারাম-হালাল চিনে ফেলছে। এখানে পণ্য ভেজাল এবং ওজনে কম দেওয়ার প্রশ্ন কেউ চিন্তা করতে পারে না। দামি দামি গাড়ি রাস্তায় পড়ে থাকে। কোন পার্টস চুরি হতে এ পর্যন্ত শোনা যায়নি। অনেকে বলে থাকে ইউরোপ আমেরিকায় মুসলমান নেই তবে ইসলাম আছে এই কথাটা এখানে এসে অনেকাংশে বুঝতে পারলাম। ভাল থাকবেন সবাই। টরেন্টো রাত্রি সাড়ে 10 ঘটিকা।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com