শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন

ছোট বেলায় পড়েছিলাম সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ

টরেন্টো থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী

আমি মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই। ছোট বেলায় পড়েছিলাম সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। শেখ সাদীর একটি বিখ্যাত কবিতা আছে হাম্মাম খানা অর্থ যাএখন ওয়াশরুম বা টয়লেটে গিয়ে সে একদিনদেখল একটি মাটির ঢেলা য় গোলাপের গন্ধ। শেখ সাদী অবাক হয়ে গেল সে জিজ্ঞেস করল তুমি মাটির ঢেলা তোমার গায়ে এতো গোলাপের সুগন্ধি কেন। মাটির ঢেলা উত্তর দিলো আমার সাথে একটি গোলাপ ফুল ছিল আমি তারই সংস্পর্শে গোলাপ এর সুগন্ধে আমিও সুগন্ধ হয়ে গেছি। আজকে মাগরিবের নামাজ কানাডার টরন্টো র বাঙালি অধ্যুষিত ডেনফোরথ মার্কেটের চারতলায় একটি ছোট্ট মসজিদে আদায় করলাম যথাবিধি স্বাস্থ্যনীতি পালন করে। সালাত আদায় করে আসার সময় গেটে মুসল্লিদের জন্য রাখা একটি কমলা আমাকে দেওয়া হল। আমি ছোটো কমলা টি হাতে নিয়ে বাইর হইয়া আসলাম। বাহিরে আমার স্ত্রী আমার জন্য অপেক্ষা করছিল।
ছোট কমলা টি হাতে নিয়ে স্ত্রীকে অনুরোধ করলাম কমলা খাবে কিনা কিন্তু তার নিষেধ আছে বিধায় আমি খেয়ে নিলাম। কমলার খোসা আমার হাতে। বাংলাদেশের মগবাজার ইস্কাটন হলে আমি কমলার খোসা টি এক মুহূর্ত চিন্তা না করে রাস্তায় ফেলে দিতাম। কিন্তু ছোট কমলার খোসা হাতে নিয়ে আমি কোনমতেই রাস্তায় ফেলতে পারলাম না আর ফেলল ও কেউ দেখত না কারণ এখানে রাস্তাঘাটে মানুষ এমনি কম থাকে। আমি প্রায় অর্ধ কিলোমিটার হেঁটে রাস্তার পাশে একটি ডাস্টবিনে কমলার খোসাটি ফেলে দিলাম। বাংলাদেশে আমার নৈতিকতাবোধ কোথায় ছিল যা এখানে হলো। সেই প্রশ্নের জবাবে আমি আসছি। কথায় কথায় আমরা বাংলাদেশকে বলি 90% মুসলমানের দেশ। সকাল-বিকাল মসজিদেপাঁচ ওয়াক্ত আযান হচ্ছে যেখানে বলা হচ্ছে সালাতের জন্য আসো এবং কল্যাণের জন্য এসো। ওয়াজ মাহফিল এবং আমাদের মাওলানা সাহেবদের লাফালাফি আর আমরা উচ্চস্বরে প্রতি কোথায় ঠিক ঠিক বলেই যাচ্ছি। কখনো কখনো মাটির গভীরে সাতটি দেশ আবিষ্কার হচ্ছে। করোনার সাথে কথা বলছি। কতে কোরআন। র রোজা না নামাজ বানিয়ে মহামারী করোনা রোগ কে ইসলামীকরণ করে ফেলছি। করো না আমাদের সাথে কথা বলে এবং ভবিষ্যদ্বাণী করে একমাত্র বাংলাদেশেই শ্রেষ্ঠ ইসলামিক দেশ। অথচ এই দেশে শিশু বলাৎকার। নারী ধর্ষণ। মানুষের টাকা ধোঁকাবাজি দিয়ে নেয়া ই-কমার্স আবার সেটাকে ইসলামীকরণ ।বেহেশতের টিকেট প্রাপ্তির জন্য হাজার হাজার গরীব মানুষের টাকা আত্মসাৎ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতি সবকিছু সমানতালে চলছে। অথচ গতকাল কানাডার একটি বড় মার্কেট lkea নামে একটি সুইডিশ সুপার মলে উপস্থিত হলাম। গতবছরও আমার বিয়াই এবং মেয়ে এখানে ব্রেকফাস্ট করার জন্য নিয়ে এসেছিল। এখানকার ব্রেকফাস্ট আভিজাত্য ব্রেকফাস্ট হিসেবে টরোন্টোতে বেশ সুপরিচিত। করোনা মহামারী দরুন এটি প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল সম্প্রতি রোগের প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ায় খোলা হয়েছে। এটা একটি ফার্নিচারের মার্কেট চোখে না দেখলে আপনারা বুঝতে পারবেন না কত বড় বিশালত্ব। একদিকে ঢুকলে অন্যদিক দিয়ে বের হতে হয়। একটি ঘরের যা কিছু প্রয়োজন সব কিছু এখানে পাওয়া যাবে। বেডরুম অফিস রুম কিচেন সবগুলির রুমের মডেল দেওয়া আছে তাতে ফার্নিচার রাখা আছে আপনার পছন্দমত ফার্নিচার অর্ডার দেবেন ওর আপনার বাসায় পৌঁছে দেবে। এখানে খাওয়া-দাওয়ার দোকান আছে এবং চকলেট কেক ছোটখাটো জিনিস এখানে পাওয়া যায়। আমার সবচেয়ে আশ্চর্য লেগেছে এখানে বিল পেমেন্ট। কোন নগদ ডলারএখানে গ্রহণ করা হয় না। সবাই কার্ড ব্যবহার করে। কিন্তু আপনার বিল আপনি জমা দেবেন মেশিনে। বিল গ্রহণ করার জন্য কোন কর্মচারী এখানে নেই। সবাই লাইন ধরে বোতাম টিপাটিপি করে জিনিসপত্রগুলো মূল্য সেখানে তুলে ধরে তারপর কার্ডে পেমেন্ট করে ক্রয় কৃত জিনিসপত্রগুলো নিয়ে বাহির হয়ে যাচ্ছে। আমি আমার জামাইকে বললাম যেখানে তো মানুষ ফাঁকি দিতে পারে। আমি দশটা জিনিস কিনলাম দুইটার মূল্য দিলাম না কে দেখবে। আমার মেয়ে এবং আমার জামাই বাবাজি হেসে উঠলো বলল আব্বা এগুলিকে এখানে কেউ কল্পনা করে না। অনেক সময় ভূলে কোন আইটেমযদি বাদ পড়ে যায় তাহলে আবার ফিরে এসে দাম দিয়ে যায় সে উদাহরণ এখানে আছে। আমি চিন্তা করলাম আমার দেশের কথা হায়রে আমরা কোথায় আছি? কথায় কথায়কাউকে বেহেশত দিচ্ছি কাউকে দোজখেদিচ্ছি। কাউকে কাফের বানাচ্ছি। কাউকে নাস্তিক বানাচ্ছি কিন্তু নিজেরা মানুষ হতে পারলাম না। আর আমরা এখানে মানুষ দেখলাম। আসুন না আর একবার চেষ্টা করে দেখি মানুষ হতে পারি না কারণ আমাদের বাংলাদেশে সত্যি কারের মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com