শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন

আতাউর রহমান কায়সার বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও আদর্শের প্রশ্নে বেঈমানী করেনি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেছেন, আতাউর রহমান কায়সার বঙ্গবন্ধু, জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আদর্শের প্রশ্নে বেঈমানী করেনি। সামরিক শাসকরা তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিল। তিনি আপোষ করলে সে সময় মন্ত্রী হতে পারতেন। আওয়ামী লীগের কাছ থেকে তিনি যা পেয়েছেন তা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন। কোন সময় তার মধ্যে না পাওয়ার বেদনা প্রকাশ পায়নি। ১/১১ এর সময় তিনি সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। চট্টগ্রামের গৌরব ছিলেন আতাউর রহমান খান কায়সার। আওয়ামী লীগের মত দেশপ্রেমিক দলই আতাউর রহমান খান কায়সারের জন্ম দিয়েছে।” আজ ৯ অক্টোবর (শনিবার) সকাল ১০টায় নগরীর রীমা কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রয়াত আতাউর রহমান খান কায়সারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।
তিনি আরো বলেন, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আতাউর রহমান কায়সার রাজনীতি থেকে শিল্পে, সাহিত্য সর্বত্র সৃজনশীতার পরিচয় দিয়েছেন। সত্যের পক্ষে তার ছিল কঠোর আস্থা। বার বার কারা নির্যাতিত হয়েও তিনি আপোষ করেন নি। এক সুন্দর মননের মানুষ আতাউর রহমান কায়সার মানুষকে ভালোবাসতেন অপরীসীমভাবে। এটি ছিল রাজনীতির মূল গুন, অভিজাত্য বোধের সাথে সাধারণ মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছিল তার বিরল ভালো মনের পরিচয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি বলেন, আতাউর রহমান খান কায়সার একজন অকুতভয় নিবেদিত প্রাণ রাজনীতিবিদ ছিলেন। বঙ্গবন্ধু দেশ ও জনগনের স্বার্থে কিছু বাস্তব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেই সিদ্ধান্তের ফলে কিছু প্রথিতযশা পরিবারের সন্তানরা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এসেছিল, তারা বিশ্বস্ত থেকে দলের জন্য অশেষ অবদান রেখেছেন, সফল হয়েছেন, আওয়ামী রাজনীতিতে পরিপূর্ণতা এনেছেন। জনমনে তারা অমর হয়ে রয়েছেন। আতাউর রহমান খান কায়সার তাদেরই একজন। তিনি বিশেষ কোন গ্রæপ বা কোন্দলে কোন সময় লিপ্ত ছিলেন না। অত্যন্ত সদালাপী, বিনয়ী ছিলেন একই সাথে আদর্শের প্রশ্নে অনমনীয়ভাবে আপোষহীন ছিলেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে অনেকেই দুঃসময়ে বেঈমানী করেছে কিন্তু আতাউর রহমান কায়সার কোনদিন নীতি আদর্শের প্রশ্নে বেঈমানী করেন নি। জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে দলের সর্বোচ্চ ফোরাম প্রেসিডিয়ামে স্থান করে দিয়েছিলেন। রাজনীতিবিদ এবং কুটনীতিক হিসেবে তিনি সাফল্য দেখিয়েছিলেন। তাঁর সমস্ত পরিবার আওয়ামী লীগের সুখ ও দুখের সাথে জড়িয়ে ছিল। আতাউর রহমান খান কায়সার ভাই আমাদের অকৃত্রিম সুহৃদ ছিলেন। তার মৃত্যুতে যে শূণ্যতা তৈরী হয়েছে তা আর পূরণ হয়নি। কায়সার ভায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করলে দলের জন্য সুফল বয়ে আসবে।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপি বলেছেন, মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর অনুসারী হিসাবে কায়সার ভাই আজীবন যে অবদান রেখেছেন তাতে তিনি একটি বাতিঘরে পরিনত হয়েছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কাজ করতে গিয়ে বহুবার মৃত্যু ঝুঁকি নিয়েছেন। খুব বড় মানের অধিকারী ছিলেন কায়সার ভাই। রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি তিনি মহত্ব দেখিয়েছেন। বিপদে কর্মীদের পাশে দাঁড়াতেন তিনি। নিখাদ ভদ্র লোক ছিলেন আতাউর রহমান খান কায়সার। আওয়ামী পরিবারের একজন নির্ভরযোগ্য অভিভাবক হিসাবে তিনি আমৃত্যু দেশের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি বিভিন্ন সংগ্রামে সাধারণ মানুষের সাথে ছিলেন। আত্মপ্রচার নয় বরং সেবা’র মনোবৃত্তি তাঁর সমগ্র মানসকে অধিকারী করেছিল। নিজেকে তিনি বিতর্কের উর্দ্ধে রাখতে পেরেছিলেন। তিনি তাঁর কর্মের মাঝে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন।
শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি বলেন, আওয়ামী লীগে আতাউর রহমান খান কায়সারের ভূমিকা অপরীসীম। তিনি তাঁর মেধা দিয়ে দল ও দেশের জন্য কাজ করে গেছেন আজীবন। রাজনীতিতে এখন যে দুর্বৃত্তায়ন ঘটেছে তা থেকে যদি আমরা উত্তরণের পথ খুঁজি তাহলে এই প্রজন্মের কাছে আতাউর রহমান খান কায়সারদের মতো রাজনীতিবিদদের অবদান তুলে ধরতে হবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক, মরহুমের কন্যা ওয়াসিকা আয়েশা খান এম.পি বলেন, রাজনীতি সবাইকে নিয়ে করতে হয়। রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেম না থাকলে, সাধারণ মানুষের প্রতি দরদ না থাকলে, লোভ পরিহার করতে না পারলে রাজনীতি হয়না। আমার পিতা সেই শিক্ষা আমাকে দিয়ে গেছেন।
সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, আজকে যখন আদর্শহীনতা রাজনীতিকে গ্রাস করে ফেলছে এই সময়ে কায়সার ভাইকে বেশী বেশী স্মরণ করতে হবে। তিনি আমাদের শিখিয়ে গেছেন রাজনীতিতে নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধ কতখানি দরকার। বড় মাপের একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন কায়সার ভাই। বাংলাদেশের ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে কায়সার ভাইয়ের ভ‚মিকা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।


চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আতাউর রহমান খান অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর মধ্যে চর্চাজাত এক স্বাভাবিক আভিজাত্য ছিল। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিকে তাঁর উপস্থিতি দিয়ে প্রকৃত অর্থেই সমৃদ্ধ করেছিলেন।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম এ সালাম বলেন, রাজনীতি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জ্বীবিত হয়ে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে দেশ ও দলের কল্যাণে কাজ করেছেন তিনি। কায়সার ভাইয়ের মত মহান নেতা বর্তমান সমাজে বিরল। তিনি কায়সার ভাইয়ের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, মানুষ হিসেবে আতাউর রহমান খান কায়সার গৌরবোজ্জ্বল অঙ্গীকার পালন করে গেছেন। লোভকে সম্বরণ করতে পেরেছিলেন তিনি। নানা সময়ে নানা দল থেকে সরকারী উচ্চ আসনের অনেক অফার মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব পেয়েও তিনি তা নির্মোহ মানুষের মতো এড়িয়ে যেতে পেরেছেন। বৈভবহীন গৌরবের প্রতি তাঁর এ আকর্ষণ আজকের সমাজে বিরল।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, লোভ মোহ ত্যাগ করে দূর্যোগ সময়ে শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন কায়সার ভাই। সারাজীবন সততার রাজনীতি করে তিনি পথিকৃৎ হয়ে আছেন। তিনি গণমানুষের রাজনীতি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ হতে তিনি কোনদিন বিচ্যুত হন নি।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক, মরহুমের কন্যা ওয়াসিকা আয়েশা খান এম.পি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ ছালাম, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি, নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, এড: সুনীল দাশ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, আবুল কালাম চৌধুরী, এড. একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, এস এম আবুল কালাম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, কাউন্সিলল হাসান মাহমুদ হাসনী, দক্ষিণ জেলা আইন বিষয়ক সম্পাদক এড: মির্জা কছির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এড: জহির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, দপ্তর সম্পাদক আবু জাফর, শ্রম সম্পাদক খোরশেদ আলম, শিক্ষা সম্পাদক বোরহান উদ্দিন এমরান, তথ্য সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, ধর্ম সম্পাদক আবদুল হান্নান চৌধুরী মঞ্জু, কৃষি সম্পাদক এড: আবদুর রশিদ, বন সম্পাদক এড: মুজিবুল হক, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিজয় কুমার বড়–য়া, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান, চন্দন ধর, হাসান মুরাদ বিপ্লব, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা দেবাশীষ পালিত জসীম উদ্দিন শাহ, মহিউদ্দিন বাবলু, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য সৈয়দুল মোস্তফা চৌধুরী রাজু, মোস্তাক আহমদ আঙ্গুর, মাহবুবুল আলম সীবলী, ছিদ্দিক আহমদ বি.কম, এ কে আজাদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা, ছাত্রলীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, মহানগর যুবলীগ আহবায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, সাতকানিয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল মোতালেব, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তানভীর আহমেদ তপু, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর প্রমুখ।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com