বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন

১৫ অক্টোবর বিকল্প শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ শুরু

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী মূল নকস্া ও অবয়ব অনুযায়ী চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংস্কার, বিন্যাস, সম্প্রসারণ ও গুরুত্ব বর্ধিত করণে চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা নিরসন নিশ্চিত করে আগামী ৯ মাসের মধ্যে বর্তমান স্থানে বাঙালির আবেগ অনুভূতি ও ঐতিহ্যের স্মারক এই স্থাপনাটির যাতে পূর্ণাঙ্গ অবয়ব দৃশ্যমান হয় সে ব্যাপারে উদ্যোগী হতে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষকে কোন কালক্ষেপন না করে এখন থেকেই কাজ শুরু করার নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সংস্কার কাজ চলাকালীন সময়ে ২১শে ফেব্রæয়ারীসহ অন্যান্য জাতীয় দিবসের কর্মসূচী পালন যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য চসিক পরিচালিত মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে একটি বিকল্প স্থাপনাটির নির্মাণের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নকারীকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। তিনি এই স্থাপনা নির্মাণের কাজ আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে শুরু করার নির্দেশ প্রদান করে বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সংস্কার কাজ শেষ হবার পর বিকল্প শহীদ মিনার স্থাপনাটিও থেকে যাবে এবং সেইভাবেই এর স্থায়ী রূপ দেয়া হবে। তিনি আজ রোববার সকালে এতদ সংক্রান্ত বিষয়ে শহীদ মিনার সংলগ্ন মুসলিম ইনস্টিটিউট হল চত্ত¡রে নির্মিতব্য চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক বলয় কেন্দ্রে তাঁর আহŸানে সংস্কৃতিকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষের প্রতিনিধিদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক বলয় প্রকল্প বাস্তবায়নকল্পের পথে যখন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রসঙ্গটি আসে তখন থেকেই মনস্থির করেছিলাম সবার সাথে বসে মতামত নিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। আমি শহীদ মিনারের সংস্কার চাই, মূল নকশানুযায়ী বিন্যাস ও সম্প্রসারণ চাই। তবে এটা ভাঙ্গা বা সরিয়ে ফেলতে মন সায় দেয়নি এবং দেবেও না। তিনি আরো বলেন, বাস্তবায়নাধীন সাংস্কৃতিক বলয় প্রকল্প চট্টগ্রামের সংস্কৃতিকর্মীদের দীর্ঘদিনের চাওয়া-পাওয়ার স্বপ্ন। এই স্বপ্নের শতভাগ পূরণ হলে চট্টগ্রামের শিল্প-সংস্কৃতির চাকা গতিশীল হবে। এই প্রকল্প একটি বহুমাত্রিক নন্দিত স্থাপনাই হবে না, এর সঙ্গে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নানান তথ্য-উপাত্ত, উপাদান, নিদর্শন এবং নানান প্রামাণ্য শিল্পিত উপস্থাপনার সংযোজন হবে। তিনি মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহনকারীদের বাস্তবায়নাধীন বলয়ের সাথে বিভিন্ন সংযোজন ও প্রস্তাবণার সাথে সহমত প্রকাশ করে বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের নানামুখী ঘটনার স্মৃতি চিহ্ন, সংরক্ষণ বিট্রিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের কীর্তিগাথা ধারণ ও স্মরণের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নাগরিক সমাজের সহযোগিতা চাই।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত প্রকৌশলী ওম প্রকাশ নন্দী। মতবিনিময়ে অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান, নাট্য ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইকবাল হায়দার, চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সচিব অভিক ওসমান, চসিক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, চসিক সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন আহমেদ সাকী, চবি সিনেট সদস্য মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু, শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির, দেওয়ান মাকসুদ আহমেদ, আব্দুল হালিম দোভাষ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার মো. শহীদুল হক চৌধুরী, নাট্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক সঞ্জীব বড়–য়া, গ্রæপ থিয়েটার সমন্বয় পরিষদের শেখ শওকত ইকবাল, শহীদ পরিবারের প্রদীপ বড়–য়া, জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা ইন্দু নন্দন দত্ত, নুরুল আলম মন্টু, জাসদ মহানগর নেতা জসিম উদ্দিন বাবুল, সিপিবি নেতা অশোক সাহা, গণতন্ত্র পার্টির তাজুর মুল্লুক, ন্যাপের মিঠুন দাশগুপ্ত, দীপেন চৌধুরী, ছড়াকার মোদাচ্ছের আলী, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের রাশেদ হাসান, ২২ মহল্লা সর্দার কমিটির মো.ইউসুফ সর্দ্দার, প্রকৌশলী মো. হারুণ, উদিচি শিল্পীগোষ্ঠির শীলা দাশ, সংরক্ষিত কাউন্সিলর রুমকী সেনগুপ্ত, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী শিল্পী কল্পনা লালা, শ্রমিক লীগের বখতেয়ার উদ্দিন খান, বোধন আবৃত্তি পরিষদের প্রণব চৌধুরী, রাজনীতিক বেলায়েত হোসেন, মাহবুর রহমান মাহফুজ, মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক কর্মী সজল দাশ প্রমুখ।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com