শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন

মুসলিম লীগকে মরহুম আহসান উল্লাহ চৌধুরী একাই বীরত্বের সাথে মোকাবিলা করেন

টরেন্টো থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী

৭০ এর নির্বাচনের আগেই প্রথম মোবারক খান খীল আওয়ামী লীগ কমিটি গঠন করা হয়। সত্তরের নির্বাচনে চট্টগ্রাম রাউজান উপজেলার গহিরা ইউনিয়নের অন্তর্গত ছোট মোবারক খীল গ্রামের তরুণ সমাজ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।। সমগ্র রাউজান থানায় যাদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে সেসময়কার পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ তাদের মধ্যে শহীদ নাজিম উদ্দিন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সফিকুল আলম খান, মোহাম্মদ মারুফ শাহ চৌধুরী,কে এম কামাল উদ্দিন প্রকাশ কামাল মিয়া প্রাক্তন চেয়ারম্যান গহিরা ইউনিয়ন,মরহুম তৈয়ব মিয়া, মরহুম সিরাজউদ্দৌলা খান, মরহুম আহসান উল্লাহ চৌধুরী, আক্তার মিয়া, নওশের আলী খান,ছাত্রনেতা বক্তিয়ার উদ্দিন খান,শাহে এমরান, মরহুম মহিউদ্দিন,গোলাম মহিউদ্দিন যাকে আমরা সুলতান বলে ডাকতাম, হুমায়ুন কবির কোহিনুর,সাইফুদ্দিন খালেদ খান,আনসার আলী খান,মাস্টার খোরশেদ আলম খান,নাজিম উদ্দিনও অন্যান্যরা। এবং আমাদের সিনিয়র মরহুম এটিএম নুরুল আমিন চৌধুরী,

আনোয়ার উদ্দিন খান,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা নুরুসসাফা চৌধুরী উল্লেখযোগ্য। আমাদের মুরুব্বিদের মধ্যে প্রায় সকলেই শেষ সময় মুসলিম লীগ সাপোর্টটার ছিল। সেসময় মোবারক খীলের ছাত্রসমাজ মোবারকের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ তারাবির নামাজ পড়ে সত্তরের নির্বাচনী মিছিল বের করতাম। গভীর রাত্রে কিভাবে স্লোগান দিতে হয় আক্তার মিয়া আমাদের শিক্ষা দিত। এরকম একটি রমজানের রাত্রে ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে আমরা গহিরা চৌমুহনীতে উপস্থিত হয় তখন কনভেনশন মুসলিম লীগ এর বিরাট মিছিলের মুখোমুখি হয়। শেষ সময় মুসলিম লীগের নির্বাচনী প্রতীক ছিল বাইসাইকেল আর আওয়ামী লীগের নৌকা। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মরহুম আহসান উল্লাহ সেদিন একাই বীরত্বের সাথে সেই মিছিলের মোকাবিলা করে।সত্তরের নির্বাচনের ডামাডোলে মধ্য দিয়ে আমরা মোবারক খীল জামতলায় প্রথম আওয়ামী লীগের জনসভা থেকে আওয়ামী লীগ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয় খালদার খান চৌধুরীর বাড়ির আমাদের জ্যাঠা মাওলানা হাবিবুর রহমান চৌধুরী মরহুম কে সভাপতি এবং চৌধুরী বাড়ির মরহুম সলিমুল্লাহ খান চৌধুরী বাহাদুর খান কে সাধারণ সম্পাদক করে প্রথম মোবারক খীলের আওয়ামী লীগ কমিটি গঠন করা হয়। অন্যান্য সদস্যদের নাম মনে নাই। তবে মনে হয় আবু তাহের চাচা। আনোয়ারুল আলম খান। মাস্টার খোরশেদ এদের নাম ছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে গহিরা হাই স্কুল তৎকালীন ইপিআরদের সীমান্ত থেকে এসেছিল তাদের রসদ এই কমিটি থেকে কিছু সরবরাহ করা হয়। মরহুম মাওলানা হাবিবুর রহমান সাহেব মাথায় বহন করে চাউল ডাল গহিরা হাই স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হয়। আজকের এই প্রতিবেদনের শেষে মরহুম মাওলানা হাবিবুর রহমান সাহেব মরহুম সলিমুল্লাহ খান এবং অন্যান্য যারা চলে গেছেন তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। এখানে উল্লেখ্য মুক্তিযুদ্ধের সময় আনোয়ার খান যাকে আমরা মানিক বদ্দা বলতাম তিনি আমাদের অর্থনৈতিক সাহায্য ও উৎসাহ দিয়েছেন সেই সাথে বকতিয়ার উকিলের বাড়ির মরহুম আবুল কালাম সাহেব সাহায্য করতেন। তাদের সবাইকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com