বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

অন্য নারীর পোশাকের ব্যপারে তার মতামত কল্পনাতীত লিবারেল ছিল

সৈয়দা সাজিয়া আফরিন

আমাদের আরবি পড়াইছিলেন একটা আপা ছিলেন। তিনি তরুণী আমরা কিশোরী। এটুকুই পার্থক্য বয়সের। তিনি কালো একজাতীয় কাপড় দিয়ে পুরা মুখ ঢেকে রাখতেন। ভ্রু থেকেও নিচে ওই নিকাব থাকায় তার চোখ দেখাও ছিল বেশ মুশকিলের। তার উপর শাল টাইপ বড় ওড়না দিতেন। সেটার রংও হত কালোই। কালো হাত মোজা ও পা মোজা। তীব্র গরমেও উনি এই পোশাক পরতেন। উনার ব্যক্তিত্বে কিছু একটা ব্যপার ছিল যে কারণে আমি তাকে বাড়তি সমীহ করতাম।

সমীহ কোন লেভেলের একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝাই। তার সাথে একবার রাতে ঘুমাইছিলাম যে রাতে আমি একবারও এপাশ ওপাশ করিনাই বেয়াদবি হবে এজন্য। এমনকী দুইবার বাথরুম আসছিল যাইনাই। ভয়ে ও ভক্তিতে।

এর আগে আমার প্রায় মনে হইত উনি কোন ধর্ম রাজনীতির সাথে জড়িত হইতে পারেন। উনার বাসায় যাওয়ার সুযোগ হতেই আমি উনার ব্যক্তিগত লাইব্রেরি দেখি জিহাদি টাইপ বই আছে কী না? কিন্তু ছিল না। নিদেনপক্ষে কাশেম বিন আবুবাকারকেও দেখলাম না। ক্বারি করে কুরআন পড়ার বই, কিছু ফারসি ভাষার বই আর উনার একাডেমিক বই ছাড়া আর কোন বই ছিল না।

উনার নারীদের প্রতি খুব ভালবাসা ছিল। অন্য নারীর পোশাকের ব্যপারে তার মতামত কল্পনাতীত লিবারেল ছিল। ওই সময় ঝুল দেওয়া ফ্রকে একটা ওড়না কোনমতে চাপাই আরবি পড়তাম। এছাড়াও আমি অন্তত তার আইডোলজির ছিলাম না। সেটা বোঝা তার জন্য কঠিন না। তবুও তিনি সম্পর্কে থাক্লেন ভালবাসলেন। তার এরকম কিছু বিষয় আমাকে তার প্রতি শেষ পর্যন্ত আকৃষ্ট রেখেছিল। আরও একটা অদ্ভূত গুণ ছিল তার তিনি একেবারেই অপিনিয়ন দিতেন না এবং উপদেশ দিতেন না। কাউকেই। আপন ছোটবোনদেরও না।

অনেক বছরের সম্পর্কে যথেষ্ট খুটায়ে দেখে একটা দোষ পাইলাম তার, সেটা হল তার অসুখ বিসুখে আপনি যতক্ষণ বলছেন না যে জ্বীন এসে তাকে জাদু করেছে ততক্ষণ উনি সুখী বোধ করেন না। এবং পানি পরা খাওয়ার পর সুস্থ বোধ করেন।

তাকে যদি আপনি ব্যখ্যা করেন কুসংস্কার বলতে পারবেন বাট ভণ্ড বলতে পারবেন না।

তার বিয়ে হয়েছে যথেষ্ট বয়স বেড়ে। এই ব্যপারটা তার চরিত্রের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং। বিয়ের জন্য যে চামড়ার বাজার সেখানে তার কালো ত্বকের কদর ছিল না। তার উপর তার একটা শর্ত থাকতো তিনি নিকাব খুলে মুখ দেখায়ে বিয়ে করবেন না। তাকে মুখ না দেখেই বিয়ে করতে হবে। একটু দেরিতে কিন্তু তার বিয়ে তার শর্তেই হয়েছিল।

এখন মালয়েশিয়া থাকেন। এখনও নিজের পছন্দের জীবন যাপন করেন। অন্য কারও শর্তে না।

বোরখা চয়েস হতেও পারে। কিন্তু কার ক্ষেত্রে ঢং কার ক্ষেত্রে লোক দেখানো সেটা খুব সহজ চোখে ধরা পড়ে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমি শিখেছি সেটা হল অনেক উন্মুক্ত পোশাক পরেও মানুষের মন অন্ধকার ও পুরুষতান্ত্রিক হতে পারে আবার খুব রেস্ট্রিক্টেড আচরণ করা মানুষটা ভীষণরকমের লিবারেল হতে পারে।

নাম উল্লেখ করা ঠিক না। অনুমতি ছাড়া তো নয়ই। আমার শ্বশুর পরিবারে মায়ের পক্ষের ঘনিষ্ট আত্মীয়। মানে একেবারে পরিবারের সদস্য ভাবা যায় এত কাছের। তিনি সারাজীবন নিরিশ্বরবাদী ছিলেন। বোঝার ভাষায় বললে নাস্তিক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাই চর্চা করেছেন। অথচ উনি ছিলেন সবচেয়ে বেশি সামাজিক, সবার চেয়ে বেশি পরোপকারী। এবং তার ব্যক্তিজীবনও ছিল একেবারে পরিচ্ছন্ন। অথচ দেখেন তাদের নিয়ে কতরকমের অপপ্রচার আছে।

সহজ কথাটা হল পোষাক না পোষাকের ভেতরে থাকা মানুষটা কেমন সেটাই আলোচ্য। যদিও বলব ওই আপুর মত লম্বা করে সালাম দিয়ে একগাল হেসে বেপর্দা নারীর সাথে খুব ঘনিষ্টতার সম্পর্ক রাখতে পারা মানুষের সংখ্যা হাজারে দুজন নাই।

সেটাই কারণ যে কারণে আমি ভাবতে পারি না হিজাব চয়েস। কারণ দলে দলে নিজের গু ঢেকে অন্যকে নিয়ে সমালোচনা করা পাবলিকই বেশি। যা বেশি, আলোচনা হয় তা নিয়ে। এক্সেপশন উদাহরণ না।

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com