বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন

গহিরা কলেজ সম্ভবত রাউজান এবং হাটহাজারী থানার মধ্যে দ্বিতীয় কলেজ

টরেন্টো থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী

চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরা কলেজ সম্ভবত রাউজান এবং হাটহাজারী থানার মধ্যে দ্বিতীয় কলেজ। প্রথম কলেজ রাউজান কলেজ। প্রথম প্রিন্সিপাল নেপাল দস্তিদার অকৃতদার বিপ্লবী সূর্য সেন এর অনুশীলন দলের সদস্য। অত্যন্ত সাদাসিধা। তাকেআমরা দেখেছি। ১৯৬৭ সালে গহিরা মাল্টিলেটারাল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মরহুম তোফায়েল আহমেদের একক প্রচেষ্টায় গহিরা

কলেজের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোগ নেন।। সে সময় এগিয়ে আসেন দানবীর দিদারুল ইসলাম চৌধুরী প্রাক্তন চেয়ারম্যান গহিরা ইউনিয়ন কাউন্সিল। আবদুল্লাহ আল-হারুন পরিবার। দানবীর নতুন চন্দ্র সিংহ। সাহিত্যিক মাহবুবুল আলম প্রমূখ। সে সময় নতুন একঝাঁক তরুণ অধ্যাপক সেসময় গহিরা কলেজে যোগদান করেছিলেন। পরবর্তীকালে তাদের মধ্যে অনেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি কলেজে যোগদান করেছিল। সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র। ইংরেজিতে আব্দুল বারিক সর্দার তিনি পরে সরকারি কলেজে যোগদান করেছেন। বাংলায় শামসুল আলম। তিনি একজন কৃতি ছাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা প্রফেসর নিযুক্ত হন। পদার্থবিদ্যায় আনন্দমোহন পালিত। রসায়নে সুনীল গুপ্ত। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে শিব শঙ্কর চৌধুরী। ইতিহাসে নূরল আলম। হিসাববিজ্ঞানে রবীন্দ্রনাথ মোহন পালিত। এবং অমৃতচক্রবর্তী
উনার হাতের লেখা খুব সুন্দর ছিল। আমার ইন্টারমিডিয়েট এর মার্কশিট তিনি লিখে দিয়েছিলেন এখনো সেই স্মৃতি আছে। তিনি পরে চট্টগ্রাম সরকারি বাণিজ্যিক কলেজে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেন। অর্থনীতিতে বাবু পরিতোষ বোস অত্যান্ত সুদর্শন এবং অমায়িক ব্যবহার গহিরা আপামর জনসাধারণের মন কেড়ে নিয়েছিলেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক সেনাবাহিনী তাকে মর্মান্তিক ভাবে হত্যা করে। গহিরা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক জনাব তোফায়েল আহমেদ এবং শিক্ষানুরাগী তিনি পরিণত বয়সে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বা ইংরেজিতে মাস্টার্স এ ভর্তি হয়েছিলেন ডবল এম এ করার জন্য। করোনারি থ্রম্বোসিস রোগের তিনি মৃত্যুকালে পতিত হন। গহিরা হাই স্কুলের বিরাট জানাজা হয়। তার বড় মেয়ে নার্গিসের তার বাবার অকাল মৃত্যু সেসময়ের অশ্রুসজল কান্না এখনো আমাদের মনে গভীর রেখাপাত কাটে।। পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক শামসুল আলমের তিনি ঘরনী হন এখন কোথায় আছে জানিনা। অধ্যাপক শামসুল আলম আমাকছঅত্যন্ত স্নেহ করতেন। পরে গহিরা কলেজ এর হাল ধরেন পরিতোষ বোস। গহিরা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা লগ্নে এসএসসির 67 ব্যাচ অবদান ভূলার নয়। সেসময় গহিরা কলেজ সরকারিভাবে এমপিওভুক্ত হয় নাই তবু অনেক কৃতি ছাত্র সেই ব্যাচের অনিশ্চয়তার মুখে গহিরাকলেজে ভর্তি হয়েছিল। তাদের মধ্যে শহীদ নাজিম উদ্দিন খান। শহীদুল আমিন। শফিকুল আলম খান। জামাল হোসেন। হাবিবুর রহমান চৌধুরী। তাজুল ইসলাম। আরো অনেকেই ভর্তি হয় যারা অতি সহজে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হতে পারতেন। শুধুমাত্র তাদের প্রাণ প্রিয় শিক্ষক জনাব তোফায়েল আহমেদের অনুরোধে তারা গহিরা কলেজে ভর্তি হয় পরবর্তীকালে অনেকেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অনার্সে ভর্তি হবার সুযোগ লাভ করে এবং পরবর্তীকালে সরকারি উচ্চ পদে অনেকে অধিষ্ঠিত ছিলেন। আমি দ্বিতীয় ব্যাচ প্রথম ছাত্র ভর্তি হই। সে সময়ে আষট্টি সালে এসএসসি পরীক্ষার

গহিরা হাই স্কুলের নির্বাচনী পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ আমি প্রথম স্থান লাভ করি। জনাব আব্দুল করিম সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব। এনবিআর চেয়ারম্যান। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম এবং মোহাম্মদ হারুন রশিদ মেম্বার অর্থ চট্টগ্রাম বন্দর বাণিজ্যিকভাবে প্রথম হয়। জেকে গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান জনাব জাহাঙ্গীর আলম খান একজন কৃতি ছাত্র তিনি গহিরা কলেজ থেকে বাণিজ্যিক বিভাগ হাজার 72 সালে 12 তম স্থান লাভ করেন।। মানবিক বিভাগে আমি একমাত্র সব বিষয়ে পাস করি তখন স্কুলে যারা সব বিষয়ে পাস করত তাদেরকে
A গ্রুপে পাস বলা হত। আমি একমাত্র মানবিক বিভাগ এ গ্রুপে পাশ করেছিলাম। যার জন্য আমাকে প্রধান শিক্ষক তোফায়েল আহমদ একটু দেখতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে আমি কাস্টমস সার্ভিসের যোগদান করি এবং সহকারী কমিশনার হিসেবে অবসর গ্রহণ করে বর্তমানে কানাডা টরোন্টোতে প্রথম মেয়ের সাথে অবস্থান করে আল্লাহর রহমতে অবসর জীবনযাপন করছি। এসময় গহিরা কলেজ ছাত্র ভর্তি দিক দিয়ে হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা মাদ্রাসা অবদান কম নয়। সেখান থেকে যারা ভর্তি হয়েছে তাদের মধ্যে মরহুম আব্দুল ওহাব। রাজা। শফিকুল আলম। যিনি পরে গড়দুয়ারাস্কুলের শিক্ষক ছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মো জাহের। মোরশেদুল আলম বাদল বর্তমানে কুয়েত প্রবাসী। মোহাম্মদ নুরুল আমিন। মোঃ কামাল উদ্দিন। নুরুল আলম। আরো অনেকে অনেকের নাম ভুলে গেছি। জনাব আব্দুল করিম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব একসময় এ কলেজে খন্ডকালীন অধ্যাপনা করতেন। অনেক আগেই গহিরা কলেজের 50 বছর হয়ে গেছে। আমরা ভুলে গেছি তোফায়েল আহমেদ এবং শহীদ পরিতোষ বোস এবং এই কলেজের ছাত্র শহীদ নাজিম উদ্দিন খান

প্রথম নির্বাচিত ভি
পি মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সিরাজউদ্দৌলা খান এবং প্রথম নির্বাচিত জিএস বীর মুক্তিযুদ্ধা মরহুম আহসান উল্লা চৌধুরীর কথা। নতুন প্রজন্মের অবগতির জন্য স্মৃতিচারণ যদি কারো কাজে লাগে তবে আনন্দিত হবো। ধন্যবাদ সকলকে। আরও উল্লেখ্য সে সময় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগের সংগ্রামী প্রচার সম্পাদক শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু স্বপন চৌধুরী বড় ভাই বাবু রুপেন চৌধুরী প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ এবং বিডিআর স্কুলের দীর্ঘদিনের প্রধান শিক্ষক পরে আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন। অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুর পর গহিরা কলেজের অধ্যক্ষ পদে কিছুদিনের জন্য রুপেন বাবু যোগদান করেন। তিনি আমাকে গহিরা কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত করেন ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে। তিনি অত্যন্ত সাহসী ছিলেন। তিনি ক্লাসের মধ্যে ঢুকে জিজ্ঞেস করতেন তোমাদের মধ্যে ছাত্রলীগকে কে করে। সেসময় অবশ্য পাকিস্তানি আমল। আমি দাড়িয়ে বললাম আমি করি। তিনি বললেন তুমি ভিপি। তুমি সংসদের কাজকর্ম চালাবে। সেই পাকিস্তান আমলে তিনি শহর থেকে বেবী করে আসতেন সেই দশটায় এবং একই বেবি টেক্সি রেখে দিতেন এবং বিকেল চারটায় কলেজ ছুটি হলে শহরে চলে যেতে ন। জানিনা তিনি এখনো বেঁচে আছেন কিনা। আরো অনেকের অবদান আছে অনেকের নাম বাদ পরে যেতে পারে তার জন্য আমি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি প্রার্থনা করছি। সে সময় আমাদের আইকন গহিরা ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান জনাব মোফাচেছল আহমদ চৌধুরী। কাজী আবদুল ওহাব। কাজী আবু জাফর বাবু প্রফুল্ল রঞ্জন সিংহ। ন্যাপ নেতা আব্দুল হাই কাজী ফরিদ আরো অনেক সার্বিক সহযোগিতা করেছে কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্নে। সবার অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি।। গহিরাকলেজের বিজ্ঞান ভবনের ভিত্তিস্থাপন করেন সেই সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো খোরশেদ আলম চৌধুরী পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়েছিলেন আর সে ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে মানপত্র পাঠ করেছিলাম আমি। একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মানপত্র পাঠ এর জন্য আমি নির্বাচিত হয়েছিলাম।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com