শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৯:১৪ অপরাহ্ন

নজরুল প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ত্রিতরঙ্গের আয়োজন “আমারে দেবনা ভুলিতে”

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৬তম প্রয়াণ দিবস স্মরণে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ত্রিতরঙ্গ ৩১ আগস্ট ‘২১ “আমারে দেবনা ভুলিতে ” শিরোনামে অনলাইনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন । ত্রিতরঙ্গের প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব শাওন পান্থের সভাপতিত্বে নজরুল ইসলামের জীবনী বিস্তারিত আলোচনা করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নজরুল গবেষক কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ডঃ সাহাবউদ্দিন বাদল । উদ্বোধনী বক্তব্যে ডক্টর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন কাজী নজরুলকে সাম্যের কবি, প্রেমের কবি, দ্রোহের কবি, বিপ্লবের কবি, বিদ্রোহের কবি যে নামেই ভূষিত করা হোক না কেন তিনি মূলত মানুষের কবি। তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন মানুষের মধ্যে বিভেদ ও দূরত্ব কমাতে।
জীবনের প্রতিটি দিক নিয়ে তিনি কবিতা লিখেছেন, গল্প লিখেছেন, উপন্যাস লিখেছেন, এবং গান রচনা করেছেন। প্রায় এক হাজার কবিতায় তিনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। সাড়ে তিন হাজারের ঊর্ধ্বে তিনি গান রচনা করেছেন এবং সুর করেছেন। তিনি আমাদের জাতীয় কবি। তাঁর জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। ডক্টর সাহাবউদ্দিন বাদল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজনের জন্য অভিনন্দন জানান ত্রিতরঙ্গ কে। ডঃ বাদল বলেন রবীন্দ্রযুগের রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে এসে কাজী নজরুল ইসলাম একটি নতুন ধারার সৃষ্টি করেন। তাঁর রচনা বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
সংগীতের সংযুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। নতুন নতুন রাগ সৃষ্টি এবং রাগ ও বাণীর অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছেন তাঁর গানে।
শাওন পান্থ কবির উদ্ধৃতি টেনে বলেন বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু এই দেশের এই সমাজেরই কবি নন তিনি সমগ্র বিশ্বের, সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের জন্য মানবতার কবি!
বিশ্বে এমন কবির নজির খুবই কম যিনি কবিতা লেখার জন্য বারংবার কারাবরণ করেছেন এবং যার এত অধিক সংখ্যক বই সরকার বাজেয়াপ্ত করেছে। কাজী নজরুল ইসলাম সাম্যের কবি, তিনি দ্রোহের কবি, তিনি প্রেমের কবি, তিনি মানবতার কবি এবং তিনি আমাদের বাঙালির প্রাণের কবি। প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি কাঁপাতেই তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন।
স্মরণানুষ্ঠানে বিশিষ্ট মনিপুরী নৃত্য শিল্পী ও কোরিওগ্রাফার শান্তনা দেবীর পরিচালনায় কবিকে নিবেদিত বৃন্দনৃত্য পরিবেশন করেন মনিপুরী শিল্পীবৃন্দ। আলেখ্যানুষ্ঠান পরিবেশন করেন ভারতের বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী পার্থ বসু ও রাতুলা বসু, নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন কোলকাতার বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ১মুকুল চক্রবর্তী, শিল্পী রাখি সিনহা (আমেরিকা), মোঃ হেলাল উদ্দিন শিল্পী, বিজয়া সেন গুপ্তা (আমেরিকা), আল ইমরান ও নৈঋতা মন্ডল দেয়া। নজরুলের কবিতা আবৃত্তি ও প্রবন্ধ পাঠ করেন ভারতের জয়িতা বন্দোপাধ্যায়। নজরুলের লেখা চিঠি থেকে পাঠ করেন বাচিক শিল্পী জাবেদ হোসেন।
শাওন পান্থ এবং শিল্পী সুবর্ণা রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটির স্টিমইয়ার্ডে কারিগরি নিয়ন্ত্রণে ছিলেন অনিমেষ শর্মা এবং মনিরা সুলতানা মিলি (কানাডা) ।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com