মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ১০:৫৩ অপরাহ্ন

বাবলারা বাংলাদেশে পারে না, এখানে কেমন করে ভদ্র সুনাগরিক হয়ে যায়

টরন্টো থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী

মাঝে মাঝে আশ্চর্যান্বিত হয়ে যায় এটা কেমন করে সম্ভব আমরা মানুষ এরাও মানুষ। ঢাকা সদরঘাট এর যে বাবলা মতিঝিলে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকে রাস্তার পাশে ছুঁড়ে ফেলে দিত কলার খোসাটা অবলীলাক্রমে ছুড়ে ফেলেছে ফুটপাতের উপর সেই বাবলা ইউরোপের একটি দেশে পা দিয়ে কেমন যেন সভ্য হয়ে যায়। সিগারেট ফুঁকে হাতে রেখে দে য়। কলা খেয়ে রাস্তায় ফেলে না। সারিবদ্ধ ডাস্টবিনে ফেলে দে য়। দোকানে ঢোকার সময় কোন ঠেলাঠেলি নেই বাবলা সর্বশেষ ব্যক্তিটির পিছনে দাঁড়ায়। পথে-ঘাটে ফলের দোকান রাত্রে খোলা অবস্থায় পড়ে থাকে বাবলা ফিরেও তাকায় না কিন্তু মগবাজার দিয়ে রাস্তায় হাঁটার সময় ফুটপাতের ফেরিওয়ালা বাদামওয়ালা থেকে বাদাম বুট ওয়ালা থেকে কিছু বুট হাতে নিয়ে খেতে খেতে হাটা শুরু করে দে য়। মনে হয় তার বাপের সম্পত্তি। আর এখানে সে ভূলেও হাত বাড়ায় না পথে ফেলে রাখার জিনিস গুলো দিকে। রাস্তাঘাটে অনেক বাসা বাড়ির সামনে তাদের পরিতক্ত ব্যবহৃত জিনিসপত্র রেখে দে কেউ যেননেওয়ার জন্য কেউ নেয়কেউ নেয় না। পরিচ্ছন্ন কর্মী এসে এইগুলো একসময় নিয়ে নে য়। ঢাকায় মগবাজারের অ্যাপার্টমেন্টে থাকার সময় বাবলার স্ত্রী অ্যাপার্টমেন্টের ময়লা বাইরের দিকে জানলার দিকে ছুড়ে মারে কিন্তু এখানে এসে পলিথিনের বন্দী করে নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। এখানে বাবলা যতক্ষণ রাস্তায় পথচারী পারাপারের সংকেত ট্রাফিক বাতির মধ্যে ফুটে না উঠবে ততক্ষণ সে দাড়িয়ে থাকবে কিন্তু ঢাকার মগবাজারের চৌরাস্তায় দুইহাত দুইদিকের দিয়ে বাবলা রাস্তা পার হয়ে যেত কোথায় পথচারী পারাপার। বাবলারা বাংলাদেশ পারে না কিন্তু এখানে কেমন করে ভদ্র সুনাগরিক হয়ে যায়। আমি মাঝে মাঝে আশ্চর্য হয়ে যায় এত বড় বড় রাস্তাঘাট ওরা কখন করলো। মাঝে মাঝে দেখি বড় বড় মেশিন নিয়ে গলিতে ফুটপাতের স্লাব এবং রাত্রের মধ্যে কাজ কর দেয়। এখানে শ্রমের মজুরি অনেক বেশি। রাস্তায় ঠিকাদার কাজ করার সময় গ্যারান্টি নেয়া হয়। সবার বেতন সপ্তাহিক ভিত্তিক। পত্রিকায় চাকুরির বিজ্ঞাপন প্রতি ঘন্টা হিসাবে অথবা বৎসরে এত ডলার। এখানে শ্রেষ্ঠ ধর্মের অনুসারীরা নেই। বেহেশত ও দোযখ এর সার্টিফিকেট কেউ দেয় না্। তবু মানুষ মানুষকে দেখলে ধন্যবাদ এবং দেশের জন্য মানুষের জন্য সেবা করা কে নিজেদের ধর্মবলে মনে করে। কানাডা বিরাট দেশ। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর লোক আসে দেশে নাগরিকত্ব নেয়ার জন্য। কেউ কারো বিরুদ্ধে লাগেনা। এখন সামার। রাস্তাঘাটে স্বল্প বসনা নারী শর্ট এসকট পরি ধান করে কুকুর নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে কেউ কারো দিকে তাকায় না আর আমাদের দেশে হলে যে সমস্ত হুজুররা নারীর স্বল্পবসনা দেহের বর্ণনা দেন এখানে দেখলে ওরা পাগল হয়ে যেত। ওরা মানুষ আমরাও মানুষ। কেউ বলবে আমাদের দেশে মানুষ বেশি। এখানে যেখানে মানুষ বাস করে সেখানে আমাদের দেশের মতই মানুষ যেখানে নেই একেবারেই নেই। এদের প্রেসিডেন্ট বা মন্ত্রী করোনার ভয়ে ঘরের মধ্যে আবদ্ধ নেই। তারা যেখানে যখন প্রয়োজন সেখানে চলে যায়। আমি অন্য কোন ইউরোপীয় দেশে যায়নি তবে কানাডা এবং আমেরিকায় দেখেছি তাদের দেশ রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত নাটক রাজার মতো। রাজা নাটকের রাজা কি কেউ দেখতে পায়না কিন্তু সবাই উপলব্ধি করে রাজা আছে। এদেশে নাটকের সেই বিখ্যাত গান আমরা সবাই রাজা এই রাজার রাজত্বে তাই মনে হয়। ধন্যবাদ সবাইকে। টরন্টো থেকে ্।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com