মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ১০:১৪ অপরাহ্ন

অল্পদৃষ্টি

খালেদ মহিউদ্দিন

ঢাকা ভার্সিটিতে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি তখন বা মাত্রই থার্ড ইয়ারে উঠছি। মানে ১৯৯৫ বা ৯৬।

কেন যেন ক্লাস বন্ধ। পরীক্ষা বা এরকম কিছুর জন্য সকাল সকাল রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে গেছি, খুব তাড়াতাড়ি কাজ শেষ হয়ে গেছে।

বৈশাখী বা চৈতালী বাস দুপুর একটার আগে নাই, হাতে তিন চার ঘণ্টা সময়। ভাবলাম ডিপার্টমেন্টে যাই সেমিনার ঘরে বসে পেপার টেপার পড়া যাইব। আকাশে খটখটে সূর্য আর পকেটে টাকা ছিল বলে বিরাট নবাবী করে রিক্সা নিলাম।

কলাভবনের সিঁড়ির কাছে আসতেই দেখলাম, একটা মেয়ে বসে আছে, কেমন পুকুর পাড়ে গাছের ছায়ার মত। দূরে দেখতে কম পাই বলে মেয়েটা খানিক ঝাপসা কারণ বরাবরের মতই চশমা পকেটে।

আমি রিক্সা থেকে নামলাম, বার কয়েক অকারণেই ঘাড় ঘুরিয়ে উত্তর দক্ষিণ দেখলাম, তারপর যতটা লুকানো সম্ভব কতটা লুকিয়ে পকেট থেকে চশমা বার করে পরলাম।

ভাড়া চুকিয়ে আড়চোখে অনেক কসরত করে মানে মেয়েটা যেন টের না পায় সেরকম করে এক ঝলকের ভগ্নাংশ মেয়েটার দিকে তাকালাম। তারপর চোখ ফিরিয়ে নিয়ে গম্ভীরমুখে সিঁড়ি ভাঙতে থাকলাম।

নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বেশ স্পষ্ট গলায় মেয়েটা জানতে চাইল, কি ভাইজান দেখা হইছে ঠিকঠাক চশমা চোখে দিয়া? এক পলকের দেখা মুখটা আর মনে নাই, কিন্তু ওই কথা শুনে হনহন হেঁটে স্থানত্যাগ যাকে বলে আমার স্মৃতির পাতায় জ্বলজ্বল করছে!

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com