বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন

নাঙ্গলকোট সাব রেজিষ্ট্রি অফিস: দেদারছে চলছে এখনও অতিরিক্ত টাকা আদায়


জামাল উদ্দিন স্বপন :

নাঙ্গলকোট সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে এখনও চলছে অতিরিক্ত টাকা আদায়। গত কয়েকদিন আগে সবুজপত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর টাকা আদায়ে কিছুটা গোপনীয়তা অবলম্বন করলেও এখন পূণরায় প্রকাশ্যে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। সংবাদ প্রকাশের পর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মোঃ সোলায়মান অত্র পত্রিকার সম্পাদককে মোবাইল ফোনে জানতে চান, আপনাকে এই তথ্যগুলি কোন ব্যক্তি দিয়েছে। তার নাম বলুন। আর নতুন লেখকদের টাকা দেয়া হয়েছে। অথচ কয়েকজন নতুন লেখককে জিজ্ঞাসা করলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, আমাদের কয়েক জনকে সামান্য টাকা দেওয়া হলেও অনেককেই মোটেই টাকা দেওয়া হয়নি। যারা সমিতির সদস্যভুক্ত আছে তারা ২০-৩০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন এবং আমাদেরকে ১-২ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। আমরা দলিল প্রতি যে হারে সমিতিকে টাকা প্রদান করি, তা বছরে প্রায় ১-২ লাখ টাকা হয়। তিন বছর বা ৫ বছর পরে সদস্য হতে হবে এই দোহাই দিয়ে আমাদের টাকাগুলো তারা আত্মসাত করিতেছে। সদস্যভুক্ত হওয়ার জন্য ব্যাংকে জমাকৃত মূল টাকার সদস্য হারে ভাগ করে সেই পরিমান টাকা একাউন্টে জমা দিয়ে সদস্যভুক্ত হতে হয়। দলিল লেখকগণ অফিসের অতিরিক্ত টাকা দিতে দিতে অসহায় হয়ে গেছে। দলিল লেখক সহিদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসা করা হয়-আপনারা একটা হেবার ঘোষণা দলিলে অফিসে কত টাকা দিতে হয়। তিনি জানান, একটা হেবার ঘোষণা দেিলল অফিসেই ৩০০০/- টাকা দিতে হয়। ৬-৭ হাজার টাকার কম নিলে আমাদের সাথে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি/সেক্রেটারী বাড়াবাড়ি করে। আর অফিসকে ৩০০০/- টাকার কম দিলে হয় না। কম দেওয়ার চেষ্টা করলে সাব রেজিষ্ট্রার ও কেরানী হুমকি ধমকি দিয়ে বলে, আগামী দিন থেকে দলিল নিয়ে আর অফিসে আসবেন না। তাই আমরা যেভাবে অফিস ৩০০০-৩৫০০ টাকা দাবি করে সেভাবেই পরিশোধ করা লাগে। আমাদের নাঙ্গলকোটে হেবা দলিলে যে পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়, পাশ^বর্তী অফিসগুলো তাঁর অর্ধেক নেওয়া হয়। আমাদের দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ কর্তৃক অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। দলিল লেখক সমিতির কয়েকজন কর্মকর্তা অফিসে সুবিধা ভোগ করছে। সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারীর অফিসে যেন ‘সাত খুন মাফ’ অবস্থা। প্রবীণ দলিল লেখক আবুল বসর বলেন, চৌদ্দগ্রাম ও গুণবতী সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে একটা হেবা দলিলে ১৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। আমাদের সমিতির নেতা ও অফিসের কর্মকর্তাগণ সিন্ডিকেট করে আমাদের মতো নিরীহ লেখকদের থেকে অতিরিক্ত টাকা নিতেছে। আমাদেরকে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার কোন সুযোগ নাই। আমরা সমিতির সভাপতি, সেক্রেটারী ও কেরানীর নিকট জিম্মী। সমিতির সভাপতি, সেক্রেটারী এবং কয়েকজন দাপুটে দলিল লেকক অফিসের টাকা পয়সা কম দেওয়া থেকে শুরু করে প্রভাব খাটিয়ে সকল ভাতা আদায় করে নেন। দলিল লেখক সহিদুল ইসলামের গ্রাম বেরলা ও আবুল বসরের গ্রাম বায়েরা। এ সকল অতিরিক্ত টাকা পয়সা আদায়ের মূল হোতা হিসেবে সমিতির সভাপতি, সেক্রেটারী ও অফিস সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দলিল লেখক ছৈয়দ আহাম্মদকে জিজ্ঞাসা করা হয় ২৫ শতক জমি হেবা করলে কত টাকা লাগবে? তিনি বলেন, ১০ হাজার টাকা লাগবে। পরে আবার বলেন যে, ৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাবে। অফিস এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাবে। একটা হেবা দলিলে অফিসে ৩৮০০ টাকা দিতে হয়।
অভিযোগের বিষয়ে নাঙ্গলকোট সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের কেরানী আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ‘আমাদের এখানে দুর্নীতি হয় না। কে বা কারা সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি করছে, তা আমাদের বোধগ্য নয়’।
নাঙ্গকোট সাব রেজিষ্টার আবু বক্তর ছিদ্দিক বলেন, ‘আমি এখানে আর বেশি দিন নাই। শেষ মুহুর্তে ওদের কন্ট্রোল করতে পারছি না। আমি যাওয়ার পর নিউজ করার অনুরোধ করেন তিনি’।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com