বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন

আমি তিনবার শিক্ষকের হাতে মার খেয়েছিলাম

টরন্টো থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী:

আমার শিক্ষা জীবন পঞ্চাশ দশক থেকে শুরু সেই প্রাইমারি থেকে অনার্স এবং পরে মাস্টার ডিগ্রি অর্জন সুদীর্ঘ তিন দশকে আমি তিনবার শিক্ষকের হাতে মার খেয়েছিলাম। এই তিন দশকে প্রাথমিক বিদ্যালয় একবার এবং হাই স্কুল ২বার বেতের বাড়ি সহ্য করতে হয়েছিল। গহিরা ইস্কুলে দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় গণিত শিক্ষক অনিল বাবুর জ্যামিতি না পারার গণপিটুনির হাত থেকে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যাই। শুধু জ্যামিতির উপপাদ্য শিখে এসেছিলসাবেক মুখ্য সচিব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী র জনাবআব্দুল করিম যিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। অনিল স্যার সেদিন খুব রাগান্বিত ছিলেন এবং সবাইকে তাও আবার দশম শ্রেণি একে একে সবাইকে পড়া জিজ্ঞেস করছিলেন আর না পারলে সপাং সপাং করে বেত মেরে ছিলেন। আমিও সেদিন সেই উপাদ্যশিখিনাই এবং রাত্রিতে আমার দাঁতের ব্যথার জন্য আমি ঘুমোতে পারিনি তাই সেদিন আমি পড়া শিখি নাই। মনে মনে আমার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ডাকছি এই বয়সে বেতের বাড়ি হজম করা একটি প্রেসটিজের ব্যাপার। তিনি আমার কাছে আসলেন জিজ্ঞেস করলেন পড়া শিখেছ আমি নির্ভয় বললাম স্যার রাত্রে আমার প্রচন্ড দাঁতের ব্যথা হয়েছিল আমি পড়তে পারিনি। আল্লাহর রহমত আমি সেই সময় নতুন দশম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছি কিভাবে হোক তিনি আমাকে মারলেন না। আমি হাঁপ ছেড়ে বেঁচে গেলাম এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম। আমি চতুর্থ শ্রেণীতে আমার গ্রামের মোবারক কিয়া ফ্রী প্রাইমারিতে পড়তাম। পিতার সরকারি চাকুরির সুবাদে কয়েকটি স্কুলে পড়ার সুযোগ হয়েছিল। তৃতীয় শ্রেণি পাশ করেছি সুদূর রাজশাহী মোহনপুর থানা হাটরা প্রাইমারি স্কুল থেকে,। রাজশাহীতে আমরা এক বছর ছিলাম। আমার মা কোনমতেই নির্জন পুরী রাজশাহীতে হাটরা গ্রামে থাকবে না। সেসময় চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহী হাটতলা যেতে দুই দিন দুই রাত লাগত এক রাত শুধু গরুর গাড়িতে কাটাতে হতো।চলে আসলাম আবার চট্টগ্রামে। আমার গ্রামের বাড়ি থেকে সামান্য দূরে মোবারক খীল সরকারি প্রাইমারিতে চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি হলাম। প্রধান শিক্ষক ছিল খুবই রাগী। বয়স্ক রমণীমোহন বড়ুয়া। পাশে বিনাজুরী গ্রাম হতে তিনি আসতে ন। ছাত্রদের হাতের কাছে যা কিছু পেতেন তা দিয়ে মারতেন সেই চক ডাস্টার হোক হাতের পাশে যা-কিছু পেতেন তাই দিয়ে মারতে ন মাঝে মাঝে লেখার জন্য ছাত্রদেরআনীত কাঠের সিলেট ব্যবহার করতেন। আমি সেই সময়ে ক্লাস মনিটর ছিলাম। বাস্তব জীবনে যেভাবে হোক না নেতৃত্ব টা আমার হাতে চলে আসতো সেটাও একটা আল্লাহর রহমতে ব্যাপার। কাস্টমস একাডেমিতে বেসিক ট্রেনিং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ের উপর যখন ট্রেনিং হত মাসব্যাপী বা পক্ষকালব্যাপী তখনই আমার সহকর্মীরা মনিটরের দায়িত্ব আমার উপর এসে পড়তো। সেজন্যই আমার চাকরি জীবনে অনেকেই আমাকে মনিটর বলে অভিহিত করতো আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্ররাজনীতিতে বাঙালি অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সোচ্চার ছিলাম বলে আমার বন্ধুরা আমাকে বাঙালি বলে ডাকত। যারা আমাকে বাঙালি বলে ডাকত তার মধ্যে অন্যতম সাবেক জ্বালানি সচিব আ,ম, ম,নাছির উদ্দিন বায়রা সভাপতি বীর মুক্তিযুদ্ধা রোটারিয়ান গোলাম মোস্তফা প্রমূখ। যাক যা বলছিলাম চতুর্থ শ্রেণীর পড়ার সময় প্রধান শিক্ষক রমনীমোহন বড়ুয়া আমাদের ক্লাশে ঢুকলেন। তখন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের আগে বাড়ির কাজের খাতা সমূহ টেবিলের উপর রাখতে হতো। আমি বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ অক্ষর গ শব্দটি সহজে লিখতে পারতাম না রমণী বাবু আমাকে প্রথমে অংকে ১ লিখতে বলতেন তারপর ওটাকে আকার দিয়ে হাত ঘুরিয়ে গ শব্দটি শিখান। যাক আমি খাতা পত্র ওনার টেবিলে রেখেছি তারপর স্যারের পিছনে দাঁড়িয়ে রইলাম এবং তিনি সবার খাতা দেখছিলেন তিনি বললেন তোর বাংলা বানানে কোন ভুল হয় না। সমস্ত খাতা দেখা হওয়ার পর তিনি হঠাৎ আমাকে কঞ্চি দিয়ে পাঁচটি বাড়ি দিলেন। আমি অবাক হয়ে গেলাম। আমি পড়া পেরেছি বাড়ির কাজ করেছিআবার মারো খেলাম। মারেরশেষে পর তিনি আমাকে বললেন তুই জানিস তোকে কেন মারলাম। আমি বললাম না স্যার আমি জানিনা আমি তো পড়া পেরেছি। তিনি বললেন তোকে পড়ার জন্য মারি নাই তোকে মারলাম তুই যখন আমার পিছনে দাঁড়িয়েছিস তোর হাতটি ছিল আমার পিছনে আমার বসার চেয়ার এর উপর। এটা বেয়াদবি। তাই তোকে শিক্ষাটা দিলাম। আমার সেই সময় ছোট বয়স হয়ত অবচেতন মনেই স্যার এর পিছনের চেয়ারে আমার হাতে চলে গিয়েছিলো। এটা যে একটা বেয়াদবীসেটা পরে বুঝতে পেরেছিলাম। সেজন্য জীবনে এমন ভুল আর হয়নি।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com