বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন

আমার আব্বার আজ দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী

২০১৯ সালের ১৬ই মার্চ বিকেল ৪ঃ৫৮ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ইন্তেকাল করেন… ১৯৬০ সালে পাকিস্তান আর্মির কমিশন রেংকে চাকুরী জীবন শুরু করে ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে ভারতের বিরুদ্ধে অসীম বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করার পর ১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ বংগবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনে অনুপ্রাণিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পাকিস্তান আর্মি গ্যারিসন থেকে পালিয়ে এসেছিলেন… মুক্তিযুদ্ধের সূচনা লগ্নে রাউজান এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংঘঠক হিসেবে মহান দায়িত্ব পালন করেছিলেন, পরবর্তীতে আমিরহাটের সর্ত্তা পারে পাকিস্তান আর্মির বিরুদ্ধে ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন…. মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীতে আর্মিতে যোগদান না করে শিক্ষকতার মহান পেশা শুরু করেন ১নং হলদিয়া প্রাইমারি স্কুলে… পরবর্তীতে চিকদাইর আজিজিয়া স্কুল হয়ে যোগ দেন ২৬নং গহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যাতে এক নাগাড়ে বিরতিহীনভাবে ৩২ বছর শিক্ষকতা করে পরপর দুবার রাউজানের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন… সরকারি চাকুরী করেও মমনেপ্রাণে ভালবাসতেন আওয়ামিলীগ ও বংগবন্ধুকে… রাউজানের সেসময়কার পরিস্থিতি ছিল সম্পুর্ন আওয়ামিলীগ বিরোধী এবং আওয়ামিলী বা বংগবন্ধুর নাম নেওয়া ছিল সমূহ বিপদ…. গহিরা ছিল তখনকার জাতীয় রাজনীতিক নেতাদের (আওয়ামিলীগ বিরোধী) শক্তিশালী ঘাটি… এমনকি সরকারের যেকোনো মন্ত্রীসভায় তখন গহিরা বা রাউজানের যেকোনো একজন প্রতিনিধি থাকতোই.. ভয়াবহ রাজনৈতিক গন্ডগোল ছিল নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার… সেরকম বিপদজনক পরিবেশে বাবা সরকারি চাকুরী করেও আওয়ামিলীগ ও বংগবন্ধুকে লালন করতেন মনেপ্রাণে…. সেসময়ে গহিরায় যারা জাতীয় পর্যায়ের নেতা ছিলেন,তাঁদের কাছে আব্বার রাজনৈতিক দর্শনের ব্যাপারে অনেক অভিযোগ গিয়েছিল… এমনকি জবাবদিহির জন্য ডেকেও পাঠিয়েছিলেন তাঁরা…. কিন্তু বাবার শিক্ষকতার সুনামের জন্য তেমন সমস্যা তাঁরা করেননি…. ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্টের কালরাত্রিতে বংগবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় বাবা স্কুল অফিসে স্থানীয় কিছু নেতাদের সাথে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়ে সমূহ বিপদে পরেছিলেন…. যাইহোক,সেই অনেক ইতিহাস… বটবৃক্ষ সমতুল্য প্রিয় আব্বাজানকে হারিয়ে আমার আম্মাকে নিয়ে অনেকদিন খুবই চিন্তিত ছিলাম, আমার আম্মা প্রায় এক বছর বাকরুদ্ধ ছিলেন… যা ছিল আমার জন্য অত্যন্ত আতংকের,যেহেতু আমি একমাত্র সন্তান হওয়াতে বাবার অবর্তমানে আমার মায়ের অসুস্থতায় আমিও মুষড়ে পরেছিলাম…. যাইহোক মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আমার আম্মাজান এখন মোটামুটি ভালো আছেন।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com