সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন

ফিরিয়ে দাও আমার হারানো ১২

মারুফ শাহ চৌধুরী

টরন্টো থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী:

ফিরিয়ে দাও আমার হারানো ১২ বছর এটা ছিল ৬০ দশকের ভারতীয় বাংলা হিট ছবি সবার উপরে ছায়াছবি উপমহাদেশের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা ছবি বিশ্বাসের মুখের সংলাপ এক সময় মানুষের মুখে মুখে ফিরত। করোনা সংকটে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে এক বছর হারিয়ে গেছে তাদের এই জীবন আমরা ফিরিয়ে দিতে পারবো না। আর তাদের কাছ থেকে আমরা কিছু নিতে পারিনি এবং তাদের তারুণ্যকে আমরা ব্যবহার করতে পারিনি যেভাবে ৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পেরেছিল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয়েছে তখন পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের জীবন থেকে একটি বছর চলে গিয়েছিলা কিন্তু এটা ঐতিহাসিক সত্য যে আমরা সে সময় আপামর ছাত্র সমাজ আমাদের সেই অবসরজনিত তারুণ্যকে আমরা কাজে লাগিয়ে ছিলাম যদিও সেসময় স্কুল কলেজ নামেমাত্র খোলা ছিল। এ দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ সমাজ সেদিন কেউ ঘরে বসে ছিল না কৃষক-শ্রমিক ছাত্র-জনতা যেইভাবে হোক মুক্তিযুদ্ধে পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষভাবে অনেকে যোগদান করেছিল মাত্র কিছু অংশ ব্যতীত শতকরা ২০% হতে পারে। সেদিনকার তারুণ্য কেউ অস্ত্র ধরেছিল কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পথপ্রদর্শক এবং নিরাপদ আশ্রয় তৈরিতে ব্যস্ত ছিল। এটা একটি দুঃসাধ্য কাজ। মুক্তিযুদ্ধ এত সহজ ব্যাপার নয় ভারত থেকে ট্রেনিং গ্রহণ করলাম আরসোজা বুক ফুলিয়ে বাংলাদেশের প্রবেশ করলাম বর্ডারে পাকসেনাদের দৃষ্টি এড়িয়ে রাজাকারের পাহাড়া এড়িয়ে বাংলাদেশের প্রবেশ করা এইটার পেছনে ছিল এ দেশে অবস্থানরত হাজার হাজার তরুণেরা আত্ম ত্যাগ যাদের ভূমিকা মুক্তিযুদ্ধাদের চেয়ে কম নয়। সুতরাং৭১ তরুণ সমাজ তথা ছাত্রগণ লেখাপড়া একবছর ক্ষতি করলেও তারা জাতিকে দিয়েছে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড এবং একটি পতাকা একটি জাতীয় সংগীত এবং পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকার জন্য একটি স্বাধীন সত্তা বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন-সার্বভৌম ভূখণ্ড। এখন মূল প্রসঙ্গে আসি এবারকার করোনায় স্কুল কলেজ কে আমরা এক বছর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছীএই অলস তরুণ সমাজ কে আমরা কাজে লাগাতে পারিনি যার জন্য দুর্ভাগ্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা। আমরা এই তরুণ সমাজকে করোনাকালীন সময়ে সামাজিক আন্দোলন জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা পরিষ্কার পরিছন্নতা গ্রামে নিরক্ষরতা দূর করনের নানা কাজে লাগানো যেত। যদি কোনো সুষ্ঠু পরিকল্পনা থাকতো। তাদের সমাজকল্যাণ কাজেরউপর ভিত্তি করে প্রেকটিকেল পরীক্ষার মতো একটি মানদণ্ড নির্বাচন করেযদি অটো পাস দেওয়া হতো তবে ছাত্র-ছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকগণ একটি আত্মপ্রসাদ লাভ করত। এখনগড়ে অটো পাস এবং জ্যামিতিক পদ্ধতিতে জিপিএ 5 দেওয়া এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং বিপুল সংখ্যক অনু উত্তীর্ণ জন্য একটি অভিশাপ হয়ে থাকবে। দীর্ঘ এক বছর লেখাপড়া থেকে দূরে থাকার ফলে গ্রামীণ সমাজে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বেড়ে গেছে একটি সামাজিক জরিপ গণমাধ্যমে আমরা দেখেছি। বাংলাদেশের শহর অঞ্চল ব্যতীত গ্রামে করোনা প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি শহরে দেখা গিয়েছে। বহু লোক এই রোগের জন্য শহর থেকে গ্রামে চলে গেছে আর গ্রাম হল বাংলাদেশের ভূখন্ডের 80%। সেখানেই স্কুল-কলেজ আমাদের চলতে পারতো। লেখাপড়ায় ব্যস্ত না থাকার কারণে তৈরি হয়েছে কিশোর গ্যাং সমাজে বেড়ে গেছে যৌন নির্যাতন ইভটিজিং বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম। মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী আপনার মন্ত্রণালয় দূরদর্শিতা র পরিচয় দিতে পারেনি। আশা করব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর বন্ধ না রেখে আল্লাহর ওয়াস্তে খুলে দিন। যত তাড়াতাড়ি স্কুল-কলেজ খুলে দেবেন ততই দেশ এবং জাতির মঙ্গল হবে। দয়াকরে প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝবেন না।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com