বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
বোর্ডের সনদ পাবে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিন নগর  মৎস্যজীবী লীগের উদ্যেগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫ তম  জন্মদিন উদযাপন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মবার্ষিকীতে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ভার্চুয়াল সম্মেলনে মেয়র শেখ হাসিনা বাঙালীর আস্থা ও বিশ্বাসের ঠিকানা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনাকে অমৃত্য ক্ষমতায় দেখতে চাই – খোকন চৌধুরী গোলাম আকবর খোন্দকারের নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনসমূহের নেতা কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ড্রেনে পড়ে নিখোঁজ সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার রেল কারখানায় টেন্ডারের আড়ালে দ্বিগুন স্ক্র্যাপ ভাগিয়ে নিচ্ছেন এসএ করপোরেশন শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ

গহিরা কলেজের প্রথম সফল অধ্যক্ষ শহীদ পরিতোষ বোস

মারুফ শাহ চৌধুরী


মারুফ শাহ চৌধুরী

যে মানুষের কথা আমরা ভুলে গেছি। আমি যারকথা বলছি তিনি আমার শ্রদ্ধেয় স্যার রাউজান গহিরা কলেজের প্রথম সফল অধ্যক্ষ শহীদ পরিতোষ বোস। প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিল গহিরা প্রবীণ শিক্ষাবিদ গহিরা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং গহিরা এ, জে ওআইএমএস মডেল হাই স্কুলের দীর্ঘদিনের প্রবীণ শিক্ষক জনাব তোফায়েল আহমেদ। তিনি একজন রাশ ভারি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন শিক্ষক ছিলেন। তাকে আমি বেশিদিন পাইনি কারণ আমি গহিরা স্কুলে দশম শ্রেণীতে ৬৭ সনে ভর্তি হয়েছিলাম কলা বিভাগে। গহিরাস্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার নির্বাচনী পরীক্ষায় আমি দশম শ্রেণীতে কলা বিভাগের প্রথম হয়।বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম হয়আব্দুল করিম প্রধানমন্ত্রী প্রাক্তন মুখ্য সচিব। বাণিজ্য বিভাগের হারুনুর রশিদ সদস্য অর্থ চট্টগ্রাম বন্দর। সেসময় কলা বিভাগে তথা মানবিক বিভাগে আমি ছাড়া কেউ সব বিষয়ে পাস করেনি। তোফায়েল স্যার সেই হিসেবে আমার নাম জেনেছেন এবং তিনি ছাত্রদের দিয়ে গহিরা হাই স্কুলের বিভিন্ন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাজ করাতেন। নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের দিয়ে মাঠে বাটালি গাছ পরিষ্কার পরিষ্কার করার ছিলেন। এগুলো একপ্রকার আগাছা গাছ ওই গুলির মধ্য দিয়ে হাঁটলে কাপড়ে ওদের ফুলগুলো লেগে থাকে যা পরে পরিষ্কার করতে কষ্ট হয়। যাক আমরা কাজগুলো করে ফেলছিলাম তোফায়েল স্যার আমার পাশে এসে দাড়ালেন আমি তখন ভয়ে একেবারে ভয়ে জড়সর সেসময় গহিরা হাইস্কুলের সব ছাত্র উনাকে ভয় পেতেন সন্ধ্যার পর গহিরা চৌমুহনীতে কেউ থাকত না। এখন স্কুলের উত্তর পাশে যে সমস্ত দোকান বা মার্কেট আছে সে সময়টা ছিল না। লম্বা বাউন্ডারি ওয়াল ছিল কোন প্রীতি ফুটবল খেলা হলে দর্শকেরা সেখানে বসে মাঠের খেলা দেখত। তোফায়েল স্যার পরিবার-পরিজন নিয়ে স্কুল ক্যাম্পাসে থাকতেন এবং স্কুল ছুটির পর বিকেলে সামনে যে বাড়তি বারান্দা টুকু আছে সেখানে বসে লম্বা হূকোতে তামাক টানতে ন এবং চারি দিকে নজর রাখতেন আর স্কুলের ছেলেরা উনার ভয়ে বাউন্ডারি নিচে মাথা নিচু করে করে স্কুলের সীমানা পার হতো তিনি সন্ধ্যার পর ছাত্রদের অহেতুক আড্ডা দেওয়া সেটা পছন্দ করতেন না। সেইরকম জাদরেল শিক্ষক আমার পাশে এসে দাঁড়ালেন অবস্থা তো বুঝতে পারছেন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন তোমার নাম কি। আমি নাম বললাম গম্ভীর কণ্ঠে বললেন হু। তোমার বাড়ি কোথায় এবং বাপের নাম কি। আমি বাড়ির নাম বললাম কিন্তু বাপের নাম বললাম না কারনআব্বা সব সময় মফস্বলের সরকারি চাকুরি করতেন তাকে যদিও তিনি চিনতে না পারেনআমি আমার চাচার নাম বললাম আমি উমুকের ভাইপো তিনি আমার চাচাকে চিনতে পারলেন। বলেন তুমি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছ না।। আমি বললাম হাঁ স্যার। বললেন প্রথম হলে চলবে না মাঠে ভালোমতো কাজ করো। এই উনার সাথে আমার প্রথম ও শেষ কথা। এর পরপরই তিনি কয়েক মাস পর করোনারি থ্রম্বোসিস না ফেরার দেশে চলে যান। গহিরা স্কুলের মাঠে বিরাট জানাজা হয়েছিল। তখন তিনি নবগঠিত গহিরা কলেজের অধ্যক্ষ। কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরেই তিনি ইন্তেকাল করেন। তখন তিনি গহিরা কলেজ এর জন্য সেই সময় যে শিক্ষকবৃন্দ নিয়োগ দিয়েছিলেন সেগুলো ছিল সবগুলা অত্যন্ত চট্টগ্রামের ভাষায় যা বলে বাছা বাছা। বাংলায় দিয়েছিলেন জনাব শামসুল আলমতিনি পরে চট্টগ্রাম কলেজ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ইংরেজিতে আব্দুল বারিক সর্দার তিনি এরপর গভমেন্ট কলেজে যোগদান করেন। অর্থনীতি ছিল সুদর্শন পরিতোষ বোস। রসায়নে বাবু সুনীল কান্তি পদার্থবিদ্যায় আনন্দমোহন পালিত।। হিসাববিজ্ঞানের বাবু অমিত পুরো নামটি এখন ভুলে গেছে তিনি সরকারের বাণিজ্য কলেজে পরে যোগদান করেছিলেন তার হাতের লেখা খুব সুন্দর ছিল। আমার আই এপরীক্ষার মার্কশীট তিনি লিখেছিলেন।যাক মোটামুটি আমাদেরকে যারা পড়েছেন তারা খুবই ভালো শিক্ষক ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র অর্থনীতি বাবু পরিতোষ বোসতার ব্যক্তিত্ব এবং সুন্দর অমায়িক ব্যবহার কলেজ কমিটি থাকে কলেজের অধ্যাপক রুপে নির্বাচিত করে। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। তারা সবাই এখন যেখানে এমপি ফজলে করিম চৌধুরী তার বাড়ির রাস্তার দিকে গিয়েছে অথবা বিশ্বাস বাড়ির রাস্তা যেখানে শুরু হয়েছে সেখানে একটি পরিতক্ত বালিকা বিদ্যালয় ছিল স্কুটি প্রতিষ্ঠা করেছিল বেলজিয়ামের অধিবাসী শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফাদার পিরযিনি গহিরায় শান্তির দ্বীপ স্থাপন করেছিলেন। সে অন্য এক ইতিহাস। সেই পরিত্যক্ত বিদ্যালয় গহিরা কলেজের অধ্যাপক বৃন্দ সেখানে তারা বসবাস করতেন। তার পাশ দিয়ে আমাকে চলাফেরা করতে হতো। ওখান দিয়ে মোবারক খীলগ্রামে যেতে হয়। অধ্যক্ষ পরিতোষ বোস আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন অন্যান্য ছাড়াও আমাকে বেশ ভালো জানতেন। পরিতোষ বোস আমাদের অর্থনীতি পড়াতেন। সেসময় 68 69 70 সন । বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সেসময় অগ্নিগরভা। বাংলাদেশ স্বাধিকার আন্দোলন জন্য ছাত্র-জনতা ভাই আন্দোলনের মিছিলে থাকতো। সত্তরের নির্বাচন সেই সময়।আমি গহিরা কলেজের ছাত্রলীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক প্রথম সভাপতি ছিল শহীদ নাজিম উদ্দিন খান। শহীদ নাজিম উদ্দিন খান চলে গেলে আমি ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়। সেসময় ছয় দফার আন্দোলন তুঙ্গে। গ্রামেগঞ্জে আমরা তখন 6 দফা বাংলার মুক্তির সনদ ব্যাখা করতাম। ফাঁকে ফাঁকে চলত লেখাপড়া। অর্থনীতি অনার্স নেয়ার জন্য স্যার আমাকে উৎসাহ দিতেন এবং ছুটির পর মাঝে মাঝে তাদেরআবাসিক ভবনে আমাকে যেতে বলতেন সেখানে তিনি আমাকে আরো বিস্তারিত পড়াতেন। সে সময় গহিরা কলেজ ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপ এবং ছাত্রলীগের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা বিরাজ করতো। পরিতোষ বোস ঠান্ডা মাথায় উভয়পক্ষকে সামাল দিতেন। এক সময় ছাত্র ইউনিয়নের মূল টার্গেট হয়ে পড়ি আমি আমাকে মারার জন্য বহু প্রচেষ্টা চলে কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে যায়। অবশ্য পরবর্তীকালে তাদের সাথে আমাদের বন্ধুত্ব হয়ে যায় স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়। 26 শে মার্চের পর গহিরা কলেজ এবংস্কুলে আমরা বিডিআরদের আশ্রয় প্রদান করি।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কুন্ডেশ্বরী তে আশ্রয় নেয়। সে সময় আমি দেখছি রাঙ্গামাটি রোডে আমাদের কলেজের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ডঃ এ আর মল্লিক স্বাধীন বাংলাদেশের যিনি অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন। সৈয়দ আলী আহসান। জনাব মাহবুব তালুকদার সময় শেষ সময় ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন পাকিস্তান আর্মি দের হাতে গহিরা পতন হলে তারা আগরতলা চলে যান। আমাদের পরিতোষ বোস এর বাড়ি ছিল শহরের চন্দনপুরা নবাব সিরাজদৌলা রোডে। সেটা বোধহয় তার পৈতৃক বাড়ি ছিল। তিনি সে সময় চাইলে পালাতে পারতেন কিন্তু তিনি যান নাই পাকিস্তান আর্মি দের হাতে তিনি ধরা পড়েন পরে কলেজের অধ্যক্ষ তারপর হিন্দু সুন্দর চেহারা তাকে ধরে নিয়ে একটি মাঠের মধ্যে গর্ত করে অর্ধেকপূতে ফেলে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। অনেকে বলে জীবন্ত মাটিতে জীবন্ত পুঁতে পেলে। এক হৃদয় বিদারক নির্মম হত্যাকান্ড। আমরা সে সময় ভারতে ছিলাম। আজ খুব দুঃখ লাগে কি সুন্দর গহিরা কলেজ।সেখানে অন্তত দুইটা ভবনের নাম করা উচিত ছিল জনাব তোফায়েল আহমেদ এবং বাবু পরিতোষ বোস এর স্মরণে। পরিতোষ বোস এর নাম আজকের প্রজন্ম হয়তো জানবে না কিন্তু তিনি যখন অধ্যক্ষ ছিলেন তখন বাহিরের বহু ছাত্র-ছাত্রী গহিরাকলেজে পড়তে আসত। আমি যখন প্রথম বর্ষ অনার্স অর্থনীতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হই তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন। এখনো তার চেহারা চোখের সম্মুখে ভাসে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায় নয়ন তোমারে পায়না দেখিতে রয়েছো তুমি নয়নে নয়নে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে তাদের জন্য স্মরণ করা হয় এই কামনা করছি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com