বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
বোর্ডের সনদ পাবে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিন নগর  মৎস্যজীবী লীগের উদ্যেগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫ তম  জন্মদিন উদযাপন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মবার্ষিকীতে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ভার্চুয়াল সম্মেলনে মেয়র শেখ হাসিনা বাঙালীর আস্থা ও বিশ্বাসের ঠিকানা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনাকে অমৃত্য ক্ষমতায় দেখতে চাই – খোকন চৌধুরী গোলাম আকবর খোন্দকারের নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনসমূহের নেতা কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ড্রেনে পড়ে নিখোঁজ সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার রেল কারখানায় টেন্ডারের আড়ালে দ্বিগুন স্ক্র্যাপ ভাগিয়ে নিচ্ছেন এসএ করপোরেশন শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ

বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ চৌধুরী আমাদের কমান্ডার


টরন্টো থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী:

বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ চৌধুরী আমাদের কমান্ডার। আহসানুল্লাহ ৭০ দশকের একটি প্রতিবাদ মুখী সাহসী তরুণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি খাপ খোলা তলোয়ার। জন্ম চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার গহিরা মোবারক খীল বকতিয়ার উকিল চৌধুরী বাড়ি। ৬৯/৭০ দশকে সে সময় অনেক সাহসী তরুণের ঠিকানা ছিল মোবারক খিল। দক্ষিনে তার হালদা নদী। পূর্বে সোনাইখাল। সেসময় এক ঝাঁক তরুণ সবাই ছিলো সেই ছোট্ট গ্রামের আমি ,শফিকুল আলম খান,শহিদ নাজিম উদ্দিন, কে এম কামাল উদ্দিন, বক্তিয়ার উদ্দিন খান, বর্তমানে শ্রমিকলীগ নেতা আহসানুল্লাহ, নওশের আলী খান, আমাদের সিনিয়র মরহুম ফজলুল বারী, ফজলুল কবির, সাইফুদ্দিন খালেদ, আক্তার মিয়া,হুমায়ুন কবির, মেহর আলী চৌধুরী বাড়ির নাজিম, ছাত্র ইউনিয়নের মোজাম্মেল হক চৌধুরী, মরহুম নাজিম উদ্দিন চৌধুরী,মন্দর বাড়ির রফিক মিয়া,প্রয়াত শ্রীমান বড়ুয়া, মাস্টার খোরশেদ আলম, সিরাজউদ্দৌলা খান রাউজান গহিরা ছাত্র রাজনীতি এরাই গহিরা চৌমুহনী,রাউজান রাজপথ স্লোগানে স্লোগানে এরাই মুখরিত রাখতো।

শহীদ নাজিমুদ্দিনের হাত ধরে আহসানুল্লাহ চৌধুরী ছাত্রলীগের রাজনীতির হাতেখড়ি। সত্তরের নির্বাচনে আহসানুল্লাহ নৌকার মিছিলে অগ্রভাগে থাকতো। সেসময় গহিরা মোবারক খীল আমাদের মুরুব্বীরা প্রায় ফজলুল কাদের চৌধুরীর সমর্থন করত। আমরা সেই সময়ে কয়েকজন তরুণ তুর্কি মুরুব্বিদের চোখের ঘুম হারাম করে দিয়েছিলাম। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিল আমাদের পরে আহসানুল্লাহ ইউসুফ খান মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার্থে ভারতে গমন করে। ট্রেনিং শেষে গ্রামে আমাদের সাথে মিলিত হয়। আহসানুল্লাহ ছিল বেশ সাহসী। তাদের বাড়ি ছিল রাস্তার পাশে সেজন্য আমাদের অপারেশন মুক্তিযুদ্ধের কাজ কর্ম আমাদের কাচারী ঘর চৌধুরী ভবন খালদার খান চৌধুরী বাড়ি ওখানে চলতো। আমাদের বাড়ির পূর্ব পাশে মাস্টার খোরশেদের কাচারী ঘর ছিল আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের শেল্টার সেখানে সাইক্লিস্টের মেশিন বসানো হয়েছিল এবং প্রবাসী সরকারের নির্দেশ নামা সেখান থেকে প্রচারিত হতো। আহসানুল্লাহ নেতৃত্বে আমাদের প্রথম অপারেশন হয় কাগতিয়া হাটে। ঠিক রাত দশটায় আহসানুল্লাহ ইউসুফ খান চিকদাইর চেয়ারম্যান দিদারুল আলম বলীর বাড়িরআখতার খান তাদের নিয়ে আমাদের কাছারি ঘরে উপস্থিত হয়। সাথে দুইটি স্টেনগান হল ও১৫টি হ্যান্ড গ্রেনেড ছিল। সাথে দিদার ও আক্তারকে দেখে আমি আহসানুল্লাহ কে জিজ্ঞেস করলাম ওদের কেন এনেছ ওরা তো আমাদের দল করেনা বা মুক্তিযোদ্ধা না। আমি আসানুল্লাহ দুই বছরের সিনিয়র ছিলাম। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবং ট্রেনিং দক্ষতায় তাকে আমরা কমান্ডার হিসেবে নির্বাচিত করেছিলাম। আহসানুল্লাহ আমাকে বলল আমি রাত্রে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তারা অস্ত্রশস্ত্রসহ আমাকে দেখে ফেলেছে সুতরাং এই কথাটা যেন বাইরে না যায় তার জন্য তাদেরকে অপারেশনের সঙ্গী করে নিলাম।এরমধ্যে দিদার রাত্রে ভাত খেয়ে আসে নাই, আমি আবার ঘুম থেকে আমার মাকে তুলে ভাত রান্না করে তাকে খাওয়ালাম। উক্ত অপারেশানে আমি এবং আহসান উল্লাহ ব্যতীত ছিলাম কে এম কামাল উদ্দিন প্রকাশ কামাল মিয়া শফিউল আলম ইউসুফ খান ওরফে চান্দু দিদার আক্তার ধন্যবাদ অন্য দুই জনের নাম মুহূর্তে মনে পড়ছে না। যাক আমাদের জীবনের প্রথম অপারেশন। আহসানুল্লাহ নেতৃত্বে কোরআন শপথ হলো। মুখোশ তৈরি করা হলো। পূর্বের দিন কাগতিয়া বাজার ক্যাপ্টেন করিমের নেতৃত্বে স্বঘোষিত টিক্কা খান কে হত্যা করেছে মুক্তিবাহিনী অন্য একটি দল। তারপরের দিন আমাদের অপারেশন। প্রথম অপারেশন জীবনের একটি মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ধাপ। কিছুটা ভয় ভীতি অবশ্য ছিল,। মোটামুটি কিছু গোলাগুলি হল। কিছু হইচই। আকাশের বিদ্যুৎ গর্জন। রাজাকারদের পলায়ন। তারপর আহসানুল্লাহর নির্দেশে আমরা অস্ত্র চালানো বন্ধ করে ঘরে ফিরে আসি তখন প্রায় শেষ রাত্রি। একমাস পর শহীদ নাজিম উদ্দিন ভারত থেকে চলে আসে এবং হালদা নদীর ওপারে গড়দুয়ারা আমাদের সাথে মিলিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের অক্টোবরে এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ আমাদের গ্রামে আসে আহসানুল্লাহ আমাদের খবর দেয়। ঈদুল পুর গ্রামে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করেন। সেই রাত্রে মদুনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র অপারেশন হয়। আহসানুল্লাহ সহ আমরা তাতে যোগদান করি। দেশ স্বাধীন হয়। গহিরা হাইস্কুলের মুক্তিযুদ্ধাদের ক্যামপ বসে। শওকত হাফিজ খাঁন রোশনী ক্যামপ পরিচালক ছিল। সেসময় রাজাকারদের সেখানে ধরে আনা হতো। উল্লেখ্য কারো প্রতি যেন অন্যায় অবিচার না হয় সেদিকে আহসানুল্লাহ দৃষ্টি ছিল। আমি একটি মানবিক গুন ও তার মধ্যে দেখেছি। আমি সিনিয়র ছিলাম বলে আমাকে মারুফ শাহ মিয়া বলে সম্বোধন করতো। সে গহিরা কলেজের প্রথম নির্বাচিত ছাত্র সংসদের জিএস। মুক্তিযুদ্ধের পর ছাত্রলীগ দ্বিধাবিভক্ত হলে আহসানুল্লাহ জাসদের যোগদান করে এবং ৭৩ সালে একটি মিছিলের সময় রক্ষী বাহিনীর হাতে ধৃত হয়। কিছুদিন কারাবরণ করে পরে মুক্তি পায়। সেসময় ছাত্র রাজনীতির তূখোর ছেলেগুলো জাসদের যোগদান করার ফলে আওয়ামী লীগ তারুণ্যের শক্তি ছিল অনেকাংশে ক্ষুন্ন হয়। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর আসানুল্লাহ সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে দে এবং ওয়াসা তে চাকুরীতে যোগদান করে। আমরাও সরকারি চাকরিতে যোগদান করি। আমাদের মধ্যে শেষ সময় কোন লোভ লালসা ছিল না আজকালকার মত টেন্ডারবাজি সেই সময় ছিল না। মাঝে মাঝে ঢাকা থেকে আসলে শহরে তার সাথে দেখা হতো একটা মোটরসাইকেল ছিল তার দেখলে মোটরসাইকেলে থেকে নেমে গিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করত। অনেক স্মৃতি তার সাথে জড়িয়ে আছে। পারিবারিকভাবে সে আমাদের খুব পরিচিত ছিল। বেশ কয়েক বছর হয় আহসানুল্লাহ না ফেরার দেশে চলে গেছে। শুনেছি তার দুই মেয়ে সরকারি ডাক্তার হয়েছে এবং খুব নাম করেছে। আহসানুল্লাহ বীর মুক্তিযুদ্ধাবাংলাদেশের স্বাধীনতা ইতিহাসে আমাদের একটি মূল্যবান এপিটাফ।তার জীবনের উদ্দেশ্য ছিল উদয়ের পথে শুনি কার বাণী, ভয় নাই ওরে ভয় নাই।নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই। জয় বাংলা।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com