শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রামগতি – কমলনগর নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন ও বর্তমান প্রাইভেট টিউশন নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা টিআই মামুনের প্রত্যাহারে দাবীতে শ্রমিকদের কমর্সূচী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে  তৃণমূল এনডিএমে অভিনন্দন চট্টগ্রামে ৪ দফা দাবীতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মানববন্ধন ও সমাবেশ   জাতিসংঘে যোগ দিতে রাষ্ট্রপ্রধানদের টিকার প্রমাণ দিতে হবে! ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কতৃক শিক্ষকদের সাথে মত বিনিময় ও উপহার সামগ্রী প্রদান এড ভিশন বাংলাদেশ এর উদ্যোগে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মডেল মেডিসিন শপ স্থাপন ও পরিচালনা বিষয়ক জুম ভারচুয়াল ট্রেনিং তামিমকে টি২০ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ফিরিয়ে আনার দাবীতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন

বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে বঙ্গবন্ধুর অবদান রয়েছে-ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেছেন, বাংলাদেশে ইসলামের প্রকৃত পরিচর্যাকারী ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের যথাযথ উন্নয়ন করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় কর্মকান্ডকে যথাযোগ্য মর্যাদায় আসীন করেছেন। ইসলাম ধর্মের প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের জন্য মুসলিম সম্প্রদায়কে উৎসাহী করার কৃতিত্ব সম্পূর্ণ তাঁর। উপরন্তু দেশের মধ্যে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গিপনা নির্মূলের সাফল্যও তাঁর সরকারের বড় অবদান।ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আজ (০৩ ফেব্রুয়ারি) বুধবার চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফলা জামে মসজিদে বাংলাদেশ ইসলামী ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্ম এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি রক্ষায় তাঁর অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ বিএম আজাদ এর সভাপতিত্বে এসময় প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. আ: হামিদ জমাদ্দার, ইসলামী ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম,চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান বক্তব্য রাখেন।ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান এমপি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, একটি নতুন মানচিত্রের অমর রূপকার। বড় বিচিত্র, বর্ণাঢ্য আর কীর্তিতে ভরা তাঁর সারাটা জীবন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন উদার চেতনার অধিকারী একজন খাঁটি ঈমানদার মুসলমান। তিনি কখনও ইসলামকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্যবহার করেননি। বাংলাদেশকে সকল ধর্মের সকল মানুষের জন্য শান্তির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি ছিলেন সদা সচেষ্ট। বঙ্গবন্ধুর স্বল্পকালীন শাসনামলে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণার্থে গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং ভৌত অবকাঠামোগত পদক্ষেপ যেমন ছিল, তেমনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধের বিষয়াদি বিবেচনায় রেখে তিনি ইসলামের প্রচার ও প্রসারে গ্রহণ করেছিলেন বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকরী নানা ব্যবস্থা। তিনি যেমন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের মহান স্থপতি, তেমনি বাংলাদেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলামের প্রচার-প্রসারের স্থপতিও তিনি। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসলামের প্রচার-প্রসারে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের অবদান অনেক। এ সরকার মসজিদ মন্দিরের যে  উন্নয়ন করেছেন তা কল্পনাতীত। ১০ হাজার কেটি টাকা ব্যয়ে ৫৬০ টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ প্রকল্প দ্বিতীয় বৃহৎ। করোনাকালীন মসজিদের ঈমাম ও মোয়াজ্জিনদের  জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।  কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকিতি দিয়েছে সরকার। ১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান  শেখ মুজিবুর রহমান এক অধ্যাদেশ জারি করে এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। বায়তুল মোকাররম সোসাইটি এবং ইসলামিক একাডেমি নামের তৎকালীন দুটি সংস্থার বিলোপ সাধন করে এই ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়। বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন এখন সরকারি অর্থে পরিচালিত অন্যতম একটি বৃহৎ সংস্থা হিসেবে বিশ্বেনন্দিত। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এ যাবৎ পবিত্র কুরআনের বাংলা তরজমা, তাফসির, হাদিস গ্রন্থের অনুবাদ, রাসূল (সা.)-এর জীবন ও কর্মের ওপর রচিত ও অনূদিত গ্রন্থ, ইসলামের ইতিহাস, ইসলামি আইন ও দর্শন, ইসলামি অর্থনীতি, সমাজনীতি, সাহাবী ও মনীষীগণের জীবনী ইত্যাদি নানা বিষয়ে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়সহ সারাদেশে ৬৪টি জেলা কার্যালয়, আর্তমানবতার সেবায় ২৮টি ইসলামিক মিশন, ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মাধ্যমে নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিকনির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় সিরাত মজলিশ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়। সিরাত মজলিশ ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে রবিউল আউয়াল মাসে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম বৃহত্তর আঙ্গিকে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল উদযাপনের কর্মসূচি গ্রহণ করে। সরকার প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধু বায়তুল মোকাররম মসজিদ চত্বরে মাহফিলের শুভ উদ্বোধন করেন।ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, পাকিস্তান আমলে হজযাত্রীদের জন্য কোনো সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা ছিল না। বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে প্রথম হজযাত্রীদের জন্য সরকারি তহবিল থেকে অনুদানের ব্যবস্থা করেন এবং হজ ভ্রমণ কর রহিত করেন। ফলে হজ পালনকারীদের আর্থিক সাশ্রয় হয়। বঙ্গবন্ধু শাহাদত লাভের পর যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা কথায় কথায় নিজেদের ইসলামের সেবক দাবি করলেও তাদের আমলে সরকারি অনুদান বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।ইসলামের প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যুগান্তকারী অবদানের কথা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বঙ্গবন্ধু তাঁর সাড়ে ৩ বছরের সংক্ষিপ্ত শাসনামল ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ইসলামের খেদমতে যে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন এবং রেখে চলছেন, গোটা পৃথিবীতে তার দৃষ্টান্ত বিরল।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com