শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:১৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

কিশোরদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন গুলিকে সক্রিয়  করব- বেলাল

কিশোরদের হাতে অস্ত্র ও মাদক তুলে দিয়ে চাদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারসহ রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে  ব্যবহার করলেও আমি এসব ভুলপথে চলা কিশোরদের  সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে এলাকা ভিত্তিক সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন গুলিকে সক্রিয়  করে তুলব।

আজ   সোমবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে  ১৪নং  লালখান বাজার ওয়ার্ডে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টিকারি ,সুদীপ্ত হত্যা মামলার আসামী ও সিএমপির তালিকাভুক্ত  দিদারুল আলম  মাসুম ও তার  ক্যাডারদের গ্রেপ্তার দাবিতে নবনির্বাচিত কাউন্সিলর  আবুল হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল সংবাদ সম্মেলনে  এইসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, আমি যখন প্রধানমন্ত্রীর  আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিদান ও মনোনয়নের  যৌক্তিকতা প্রমান করতে একের পর এক গণমূখী কার্যক্রম চালাচ্ছি ঠিক তখন মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার যাতনায় প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে চট্টএম মহানগর ছাত্রলীগের সহ – সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলার আসামী সিএমপির তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী , গডফাদার দিদারুল আলম মাসুম ও তার ক্যাডাররা আমাকে আমার পরিবারকে টার্গেট করে সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যমে হুমকী – ধমকী , অপপ্রচার চালানোসহ  একের পর এক নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হামলা করে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে । এসংক্রান্তে থানায় জিডি  , পুলিশ কমিশনার ও র‌্যাবের কাছে দরখাস্ত দিয়ে আমি ও আমার নেতা – কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আশংকার কথা জানায় ।

তিনি অভিযোগ করেন,  ২৭ জানুয়ারী ২০২১ নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষনার পর মাসুমের   আগ্রাসী পদক্ষেপ আরও  ভয়ংকর রুপ নেয় । তার নির্দেশে তার অনুগত বাহিনী আমার নেতাকর্মীদের ছুরিকাঘাত করে হত্যা চেষ্টাসহ নির্বাচনী কর্মকান্ডে আমাকে কর্মীশূন্য করতে নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে হামলা করে । এ সংক্রান্তে খুলশী থানায় বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর মাসুম ও তার ক্যাডার বাহিনী সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যম ও বিভিন্ন সভা সমাবেশে আমাকে উদ্দেশ্য করে আক্রামনাত্মক বক্তব্য প্রদান করে । এ সংক্রান্ত একটি জিডি করতে আমি খুলশী থানায় গেলে কোন এক অদৃশ্য কারণে তা গ্রহণ করা হয়নি । সুষ্ঠ নির্বাচনের স্বার্থে আইন – শৃংখলা পরিস্থিতি রক্ষায় আমরা নির্বাচন কমিশনকেও মাসুম ও তার বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করি ।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, আমার সকল আশংকাকে সত্য প্রমাণিত করে নির্বাচনের দিনে মাসুম ও তার ক্যাডার বাহিনীর নেতৃত্বে  বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহআলম , বিদ্রোহী প্রার্থী মানিক , টাইগার পাশের জোড়া খুন মামলার আসামী লিমন বাহিনী আমার নেতাকর্মীদের উপর বিভিন্ন কেন্দ্রে হামলা চালায়।  তাদের হামলায় আমার বিভিন্ন কেন্দ্র কমিটির আহবায়কসহ  ২২ জন নেতাকর্মী আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে । এসময় সব সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত সেই অস্ত্র উদ্ধারে ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি । আরো উদ্বেগ ও আশংকার  বিষয় হল যে কেন্দ্রটিকে চট্টগ্রামের  সবচেয়ে নিরাপদ কেন্দ্র বলে বিবেচনা করা হয় যেখানে পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়সহ অন্যান্য উর্ধতন কর্মকর্তার কার্যালয় আছে সেই পুলিশ লাইন কেন্দ্রে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শাহ আলম ও তার ছোট ভাই চিহ্নিত সন্ত্রাসী কামালের নেতৃত্বে দুই শতাধিক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের ছেলে তানভীর ফয়সাল ইভানসহ আমার ৪ জন নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করে এই চিহ্নিত তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী কামাল সম্পর্কে আমরা নির্বাচনের পূর্বে প্রশাসনকে অবহিত করলেও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে সে নির্বাচনের দিনে পুলিশ লাইন কেন্দ্রে হামলা চালাতে সাহস করে । সে শুধু হামলা চালায় ও কেন্দ্রের অভ্যন্তরে গুলিবর্ষণও করে ।

তিনি বলেন, মাসুমের নেতৃত্বে বিভিন্ন কেন্দ্রে যে যুগপথ হামলা চালানো  হয়েছিল। তা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ  করতে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ । সহিংসতার মাধ্যমে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম দেখিয়ে  বিশ্বের কাছে বিএনপি জামাত সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট  করান  যে প্রক্রিয়া গ্রহন করেছে এই এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাসুম বিএনপি জামাতের এজেন্টের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে । বিএনপি জামাতের এজেন্ট মাসুমের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে ও বিভিন্ন তদন্ত সংস্থাকে নির্বাচনের দিনে তার সরকার বিরোধী ভূমিকা তদন্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি । পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানায় । মাসুম নিজ সংগঠনের ৮ জন নেতাকর্মীর হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী ছিলেন । একটি মামলায় সে যাবতজীবন সাজাপ্রাপ্তও হয় । বাকি মামলায় প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে সে পার পেয়ে যায় । এই চিহ্নিত সন্ত্রাসী দলের সুসময়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আর দলের দু-সময়ে বিদেশে পাড়ি দেয় । বারবার হত্যা করে পার পেয়ে যাওয়ায় সে আজ  অপ্রতিরোধ্য  । তাঁর নির্দেশে ২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর মহানগর ছাত্রলীগের সহ – সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে হত্যা করা হলেও কোন অদৃশ্য শক্তির কারণে আজ  অবধি সেই মামলার চার্জশীট প্রদান করা হয়নি ।  ন্যায় বিচারের স্বার্থে অবিলম্বে সুদীপ্ত হত্যা মামলার চার্জশীট প্রদান করে মাসুম ও তার ক্যাডার বাহিনীকে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি।  পাশাপাশি লালখান বাজারের শান্তি শৃংখলা রক্ষায় অস্ত্রধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন,১৪, ১৫ ও ২১নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা, দেলোয়ার হোসেন দেলু, কাউসারুজ্জামান, আবু সায়েদ সুমন, নিজামুল বারী, মোজাম্মেল হোসেন সোহাগ, জামমেদ আলম, সৈয়দ শওকত হোসেন, শওকত আলম, নাজমুল হাসান রুমী, সীমা আহমেদ, রুমা ইসলাম, কুলসুম মজুমদারসহ প্রমুখ।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com