শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম
টিউশন ফি কিস্তিতে নেওয়া যেতে পারে: শিক্ষামন্ত্রী মোদীর জন্মদিনে শেখ হাসিনার ৭১টি লাল গোলাপ করোনায় আরও ৩৮ জনের মৃত্যু সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রামগতি – কমলনগর নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন ও বর্তমান প্রাইভেট টিউশন নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা টিআই মামুনের প্রত্যাহারে দাবীতে শ্রমিকদের কমর্সূচী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে  তৃণমূল এনডিএমে অভিনন্দন চট্টগ্রামে ৪ দফা দাবীতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মানববন্ধন ও সমাবেশ   জাতিসংঘে যোগ দিতে রাষ্ট্রপ্রধানদের টিকার প্রমাণ দিতে হবে! ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কতৃক শিক্ষকদের সাথে মত বিনিময় ও উপহার সামগ্রী প্রদান

স্বাগত নতুন মেয়র ; নাগরিকদের প্রত্যাশা পুরণই কামনা: রাইসুল উদ্দিন সৈকত

স্বাগত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র নগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী। চলমান করোনাকালের মতো চরম দুঃসময়ে নগরপিতার আসনের সিংহাসন আহরণ করলেন তিনি। সব সন্দেহ-সংশয় পেছনে ফেলে এই প্রথম ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর ভোটের ব্যবহারের মধ্য দিয়ে নির্বাচনে চট্টগ্রাম সিটির নাগরিকরা পেয়েছেন একজন নতুন নগরপিতাসহ ৪১ জন কাউন্সিলর ও ১৪ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর। নির্বাচিত এসব নতুন কাউন্সিলরদের জন্যও আমাদের শুভ কামনা। নতুন মেয়র-কাউন্সিলর সবার সাফল্য কামনা করি আমরা। আগেই বলে রাখি, ভোটের আগে নতুন মেয়র ও কাউন্সিলররা নগরবাসীকে নানা স্বপ্ন দেখিয়েছেন। দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতিও। এই প্রতিশ্রুতিতে সাড়া দিয়ে নগরবাসী তাদের পক্ষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। অতীতে নির্বাচনের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পরবর্তী সময় আর বাস্তবায়ন না হওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এবারকার নির্বাচনের আগে দেয়া জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি ও নাগরিকদের প্রত্যাশাগুলো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় নগরবাসী। রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়েই মেয়র-কাউন্সিলররা নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচন নিয়ে যে সব প্রশ্ন ও বিতর্ক উঠেছে সেগুলো মানুষের মনে স্থায়ী হবে না যদি নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা নির্বাচনের আগে যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেগুলো পালনে আন্তরিকতার পরিচয় দেন। তারা কী করবেন, কীভাবে করবেন সে সব পরিকল্পনার কথা নির্বাচনের আগে ইশতেহার প্রকাশসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নগরবাসীকে জানিয়েছেন। এখন নগরবাসী প্রতিদিনই মিলিয়ে দেখবেন নির্বাচনের আগের কথা এবং নির্বাচনের পরের কাজের মধ্যে সঙ্গতি আছে কিনা। সব প্রতিশ্রুতি একদিনে পূরণ করা কারো পক্ষেই কোনোভাবে সম্ভব নয়। তবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতিদিনের কাজকর্ম থেকেই নাগরিকদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে তাদের গতিমুখ ঠিক আছে কিনা।

ইতোমধ্যে আমারা জেনেছি যে, যেখানে ড্রেনের ওপরে রাস্তায় পানি জমবে না, যানজটে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হবে না, বাতাসে থাকবে না ধুলাবালি, মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হবে না নগরবাসী, গণপরিবহনে থাকবে শৃঙ্খলা, সেবা সংস্থাগুলোর থাকবে কার্যকর সমন্বয়, ফুটপাত হবে ব্যবহারের উপযোগী, গড়ে উঠবে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগরবাসী উপহার পাবে মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ। এমন অনেক প্রত্যাশাগুলোর বাস্তবায়নের অপেক্ষায় চট্টগ্রাম শহরবাসী।
আমরা আর চাইনা, জলাবন্ধতা, রাস্তা দখল, অপরিকল্পিত ও জরাজীর্ণ বাড়িঘর, চাঁজাবাজি, ফুটপাত দখল।
আমরা চাই পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, সঠিক নাগরিক সেবা প্রদান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষাব্যবস্থায় প্রবর্তন, সিটি করপোরেশনের জনবল ঘাটতি পূরণ করে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
আমরা জানি, ভোটার তাদের প্রাত্যহিক নাগরিক জীবনের যে সঙ্কটগুলো মোকাবেলা করে থাকেন এর অনেক কিছুই সমাধান করা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। তথাপি একান্তই তাদের এখতিয়ারভুক্ত যে দায়িত্বগুলো রয়েছে এগুলো যদি যথার্থভাবে পালিত হয়ে তাহলেও নগরবাসী অনেকটা পরিতৃপ্ত থাকবেন। বাস্তবে আমরা দেখি যখনই নির্বাচন সামনে আসে তখনই প্রার্থীরা এমন কিছু প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের সামনে গিয়ে হাজির হন, যা আসলে তাদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়।
এবারও নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটাররা প্রত্যাশা করছেন তাদের নিত্য সমস্যাবলি, যেমন গ্যাস সঙ্কট, যানজট, পানি সঙ্কট, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, মাদক ও সন্ত্রাস দমন, আবর্জনা ও মশা নিধন, বিলবোর্ড অপসারণ, সৌন্দর্যবর্ধন, অপরিকল্পিত ভবন চিহ্নিতকরণ এবং অপসারণ ইত্যাকার সমস্যাদি সমাধানে মেয়র এবং কাউন্সিলররা তাদের দেয়া সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করবেন।
কথায় আছে, মানুষ সত্য ও সুন্দরের পূজারী। তাই সত্য ও সুন্দরই পারে একজন ব্যক্তি এবং জাতিকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে। তাই কথামালার রাজনীতি নয়, ভোটের আগে দেয়া ওয়াদাগুলোকে প্রত্যেক বিজয়ী প্রার্থীকে অন্তরে গ্রথিত করে শুধু ব্যানার ফেস্টুনে আবদ্ধ না রেখে মেয়র ও কাউন্সিলরগণ সকলের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাসযোগ্য একটি আধুনিক চট্টগ্রাম গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করবেন- এটাই জনগণের চাওয়া।
আমরা জানি, এই নতুন মেয়রের মেয়াদকাল পাঁচ বছর; চট্টগ্রামের প্রতি এই নগরপিতার আন্তরিকতা থাকলে বিপুল পরিবর্তন সম্ভব হবে। পরিবর্তন আনতে হলে নতুন এই মেয়রকে কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে। মেয়রের সদিচ্ছা ও দক্ষতার পাশাপাশি পর্যাপ্ত উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটিকে অনেকটা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। উপহার দেওয়া সম্ভব পরিচ্ছন্ন একটি শহর। হে নতুন অভিভাবক, চট্টগ্রামকে সমৃদ্ধ নগরী গড়তে কাজ করবেন, এমন আশা নগরবাসীর।
লেখক : চেয়ারম্যান, এলবিয়ন গ্রুপ।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com