বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
বোর্ডের সনদ পাবে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিন নগর  মৎস্যজীবী লীগের উদ্যেগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫ তম  জন্মদিন উদযাপন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মবার্ষিকীতে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ভার্চুয়াল সম্মেলনে মেয়র শেখ হাসিনা বাঙালীর আস্থা ও বিশ্বাসের ঠিকানা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনাকে অমৃত্য ক্ষমতায় দেখতে চাই – খোকন চৌধুরী গোলাম আকবর খোন্দকারের নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনসমূহের নেতা কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ড্রেনে পড়ে নিখোঁজ সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার রেল কারখানায় টেন্ডারের আড়ালে দ্বিগুন স্ক্র্যাপ ভাগিয়ে নিচ্ছেন এসএ করপোরেশন শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ

আমাদের সোনার সেই ছোটবেলার দিনগুলো হারিয়ে গেছে

টরন্টো থেকে মারুফ শাহ চৌধুরী:
নাতনি সোফিয়া অনলাইন পড়াশোনা ব্যস্ত। ছোট পিচ্চি নাতি জায়ান সারাক্ষণ দুষ্টামিতে ব্যস্ত। একটা না একটা কিছু করবেই। তার জন্য রান্নাঘরের ড্রয়ার টয়লেটের সবগুলো তালা। যখনই কিছু লিখতে বসি তখনই রবীন্দ্রনাথের কাবুলিওয়ালা গল্পের ছোট মিনি আমার নাতনি সাফিয়া। হাজারো প্রশ্ন হাজার কৌতুহল তার। বিশেষ করে আমার মুখে শোনা নতুন বাংলা শব্দ সম্পর্কে। আর মাঝে মাঝে আমার ইংরেজি উচ্চারণের ভুল ধরা। স্কুলে পড়ার সময় রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প বলাই আমার খুব পছন্দের গল্প ছিল। আমি ছিলাম অনেকটা রবীন্দ্রনাথের ভাইপো বলাই এর মত। বলাই সবসময় নিশ্চুপ থাকতো কিন্তু প্রকৃতির সাথে তার খেলাধুলা। গাছের প্রতি ছিল তাঁর অকৃত্রিম ভালবাসা। মা মরা ছেলে কাকিমার কাছে থাকতো। কাকিমার ছিল সব অফার স্নেহ মায়া মমতা। বলাই যখন পিতার সাথে বিদেশে চলে যায় তখন সেই একটি বাড়ির সামনে একটি শিমুল গাছ রোপন করেছিল। আস্তে আস্তে সেই গাছ একদিন বড় হয়ে যায় কাকিমা সেই গাছের দিকে তাকিয়ে থাকতেন মনে পড়তো তার ছোট স্নেহ পুত্তলি বলাইয়ের কথা। বলাই বিলেত থেকে কাকিমার কাছে প্রায় চিঠি লিখতো আর জিজ্ঞেস করত সে শিমুল গাছের কথা। একদিন শিমুল গাছ বড় হল কাকিমার অজান্তে কাকার সেই গাছ কেটে ফেলল আর কাকির সে কি কান্না। বলাই বিলেত থেকে চিঠি লেখে শিমুল গাছের একটি ফটো পাঠাতে। কিন্তু কাকিমা সেই ফটো কিভাবে তুলে পাঠাবে। সেই গাছটি তো কাকা কেটে ফেলছে। গল্পের শেষে কাকিমার বলাইয়ের ভালোবাসা এবং শিমুল গাছের প্রেম এবং তার জন্য যে মর্মবেদনা বলাইচরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রকৃতির প্রেমের এমন সুন্দর গল্প আমি আর পড়িনি। কারণ ওই চরিত্রের সাথে আমার ছিল অদ্ভুত মিল। যদিও সে ধরনের স্নেহময় কাকিমা পাইনি কিন্তু যখন প্রাইমারি স্কুলে যেতাম তখন আমাদের সময়ে রাস্তার দু’পাশে অনেক বন ফুলের গাছ থাকতো। অজানা ফুল ফুটে থাকতো, সেই ফুলের উপর নানা রঙের প্রজাপতি নানা রঙের ফড়িং উড়ে বেড়াতো। অজানা গাছের সাথে কথা বলা মাঝে মাঝে ফড়িং ধরা স্কুলের আসা-যাওয়ার পথে ছিল নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। উড়ন্ত পাখি গুলোর দিকে সবুজ পাতা ছিড়ে দিতাম 2 একটি রাস্তার দুই পাশে বিলিয়ে দিতাম আর সবাইকে বলতাম তোমাদের নিমন্ত্রণ করলাম আমার বিয়েতে তোমরা অবশ্যই আসবে। তোমরা সবাই আসবে যদিও বিয়ে নামক বস্তুটা সেসময়ে রবীন্দ্রনাথের মিনির মত বোঝার বয়স হয়নি। কোথায় গেল সেই সুন্দর বনফুল।গ্রামে এখন কোন প্রজাপতি নেই কোন ফড়িং। এখন মাছ ধরার সময় গানচিলের আর আসে না। সুদূর প্রবাসে দেখছি নাতি-নাতনিরা টিভির সামনে বসে বসে কার্টুন দেখে। ছোট নাতিএখনো মুখ ফুটে কথা বলতে পারেনা। দুধের বোতল মুখে দিয়ে বলে লুলু লুলু অর্থাৎ সে কার্টুন লুলু দেখবে। সত্যি আমাদের সোনার সেই ছোটবেলার দিনগুলো হারিয়ে গেছে আর আমাদের নাতি-নাতনিরা লুলুর জগতে এসে গেছে। আসলে এই সুন্দর পৃথিবীতে আস্তে আস্তে লুলু দেরকাছে হারিয়ে যাচ্ছে,। আর আমরা বলাইরা আখেরি রাস্তা ধরে চলছে এবং পৃথিবীতে দিয়ে যাব নতুন লুলু দের কাছে। ধন্যবাদ

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com