সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ১২:০০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মধ্যরাতে প্রবাসীদের ভীড়:পদ্মা সেতু উচ্ছ্বাসের রঙ ছড়িয়েছে যুক্তরাজ্যেও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছেন তাদের স্মরণীয় করে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে চসিক আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চায় : প্রধানমন্ত্রী বিদেশী রাষ্ট্রের সহযোগিতা পেলে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব : দুদক মহাপরিচালক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় ইসি চেষ্টা চালিয়ে যাবে : সিইসি পদ্মা সেতু নির্মাণের সব কৃতিত্ব বাংলাদেশের জনগণের : প্রধানমন্ত্রী বিএনপি জনগণের বিষয় নিয়ে আন্দোলন করে না : তথ্যমন্ত্রী আওয়ামী লীগ জনকল্যাণের রাজনীতি করে : ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রাম ই-শপ বিজনেস কমিউনিটি উদ্বোধন কৃতী সম্পাদক অধ্যাপক মরহুম আফজল মতিন সিদ্দিকী

বন্যায় বিপর্যস্ত জীবনযাত্রা

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সারা দেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম- উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে চরের বিস্তীর্ণ এলাকা। লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। প্রবল স্রোতে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে অসংখ্য বাড়িঘর, সেতু, গাছপালা, বিভিন্ন স্থাপনা ও শত শত হেক্টর আবাদি জমি। গৃহহীন হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার।

 চট্টগ্রাম

টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণে ফের ডুবে গেছে চট্টগ্রাম নগরের একাধিক এলাকা। আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেটসহ নগরের নিম্নাঞ্চলে জমেছে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার (১৩ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৫১ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের আকাশ মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি, বজ্র এবং ভারী ও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ, দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে ১২-১৮ কিলোমিটার থাকবে। যা অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া আকারে ৪০-৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এদিকে চট্টগ্রামে শনিবার ভাটা শুরু হয়েছে সকাল ১০ টা ২৩ মিনিটে। জোয়ার শুরু হবে বিকেল ৪টা ৫৪ মিনিটে।

অপরদিকে টানা বর্ষণে পানিতে তলিয়ে গেছে সাতকানিয়ার বাজালিয়া, বড় দুয়ারা, ঘিলাতলী, মাহালিয়া এলাকা, লোহাগাড়ার বড়হাতিয়া, আমিরাবাদ ও লোহাগাড়া, পটিয়ার জুলধা, ডাঙ্গারচর, বড় উঠান, দৌলতপুর, শাহমীরপুর, বাঁশখালীর শেখেরখীল, বাহারছড়া, চাম্বল, গন্ডামারা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম। আনোয়ারার হাইলধর, জুইদন্ডী, বরুমচড়া, চন্দনাইশের দোহাজারী ইউনিয়নের চাগাচর দিয়াকুল, নয়াপাড়া, রায়জোয়ারা, খিল্লাপাড়া, বৈলতলী, ইউনিয়ন এবং হাটহাজারীর ফরহাদাবাদ, ধলই, নাঙ্গলমোড়া, গুমানমর্দন, ফতেপুর, মেখল, শিকারপুর ও আলমপুর এলাকা বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ফটিকছড়ির নারায়ণহাট, হারুয়ালছড়ি, ভুজপুর, লেলাং, ধুরুং, গজারিয়া ও বারোমাসিয়া, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালির নিম্নাঞ্চল ও সন্দ্বীপ উপজেলায় ডুবে গেছে কয়েকটি গ্রাম। ভেসে গেছে একাধিক মাছের ঘের। উপকূলবর্তী এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে ঢুকছে বন্যার পানি।

Image may contain: sky, outdoor, nature and water

রাউজান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোরশেদ জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে সর্তা খাল ও ডাবুয়া খালের কয়েকটি স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সায়েদুল আরেফিন বলেন, বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হালদার বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে অর্ধশত গ্রাম এখন পানির নিচে। বন্যাকবলিতদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, বন্যায় পানিবন্দি রয়েছে ৫০ হাজার পরিবার। বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন সরেজমিন পরিদর্শন করেছি এবং ত্রাণ তৎপরতা চালিয়েছি। এখানে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

পানি কমলেও বান্দরবানে সড়ক যোগাযোগ চালু হয়নি

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় জেলা সদর ও লামা উপজেলার কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতা কমতে শুরু করেছে।জেলার ৯২টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া প্রায় ১১শ’ পরিবারের মধ্যে কেউ কেউ শুক্রবার দুপুর থেকে তাদের বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছে।তবে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়ায় ডুবে থাকা সড়ক থেকে পানি না নামায়  জেলা শহরের সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটির যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ায় বন্ধ রয়েছে বান্দরবান-থানচি সড়ক। ঝুঁকি এড়াতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছেন বান্দরবান-রুমা সড়কের চালকরাও।

Image result for বান্দরবানে পানিবান্দরবান জেলা রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সেক্রেটারি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর জানান, ‘বান্দরবান পৌর এলাকায় নয় আশ্রয়কেন্দ্রে পৌরসভার পক্ষ থেকে দুই বেলা করে খিচুড়ি সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া অস্থায়ী সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

লামা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল জানান, ‘লামা পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা কমতে শুরু করেছে। কিছু কিছু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যাচ্ছে। যারা এখনো অবস্থান করছে তাদের উপজেলা পরিষদ এবং পৌরসভার পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে’।

বগুড়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার গোদাখালীতে নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ ভেঙে সারিয়াকান্দি ও ধুনটের প্রায় ১৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যমুনার পানি জনপদে ঢুকে নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উপজেলার কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মোখলেছার রহমান জানান, ভাঙন এলাকা দিয়ে পানি ঢুকে গোদাখালি, হাওরাখালি, দড়িপাড়া, বথুয়ার ভিটাসহ ১০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক পাট ক্ষেত, আউশ ধান, বর্ষালী ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধুনট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম তৌহিদুর রহমান মামুন জানান, বন্যার পানিতে ধুনটের চিকাশী, গজারিয়া, চুনিয়াপাড়া গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শনিবার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের চিফ ইঞ্জিনিয়ার এ কে মমতাজুর রহমান ও বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রুহুল আমিন জানান, পানি কমে গেলে ভাঙনকবলিত স্থান মেরামত করা হবে। সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিল মাহমুদ জানান, বন্যার পানিতে অন্তত এক হাজার পরিবার আক্রান্ত হয়েছে।

ভূঞাপুরে চার শতাধিক পরিবার গৃহহীন : ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক হুমকির মুখে
যমুনার পানি বৃদ্ধি ও ঘন ঘন ভারীবর্ষণে তিন দিনে উপজেলার কয়েকটি চার শতাধিক পরিবার নতুন করে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। আর এসব বাস্তু হারানো মানুষ কারো ঠাঁই হয়েছে আত্মীয়দের বাড়ি, কেউ বা সড়কের পাশে খুপড়ি তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভূঞাপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে নতুন করে যমুনার ভাঙন শুরু হয়েছে। অন্য দিকে ভাঙনের ফলে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক হুমকির মুখে রয়েছে। অথচ ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন ও পাউবো কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন উপজেলার অর্জুনা, গাবসারা, নিকরাইল ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, যমুনার ভাঙনে ঘরবাড়ি ছাড়াও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত লোকজন তাদের ঘরবাড়ি সরানোর কাজে ব্যস্ত। হুমকির মুখে রয়েছে চারটি ইউনিয়নের স্কুল, কলেজ, নৌপুলিশ ফাঁড়ি, মসজিদ, মন্দির, পোলট্রি খামারসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এ দিকে অব্যাহত ভাঙনে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। গত দু’বারের ভাঙনে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের যান চলাচল বন্ধ ছিল।
গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া গ্রামের শিক্ষক মজিদ সরকার জানান, দুই বছর ধরে যমুনা নদীতে ভাঙন শুরু হলেও তা ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। অর্জুনা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মকবুল খাঁ জানান, লিখিত আবেদনের পরও স্থানীয় প্রশাসন ও টাঙ্গাইল পাউবো ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সম্প্রতি এই গ্রামে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। অব্যাহত ভাঙন ও প্রবল বর্ষণে সে বাঁধও নদীতে চলে গেছে। গত বছর ভাঙন রোধে ৫০০ বস্তা জিও ব্যাগ বরাদ্দ হলেও অদৃশ্য কারণে সেগুলো না ফেলে ফেরত নেয়া হয়।
ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হালিম অ্যাডভোকেট বলেন, ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। টাঙ্গাইল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ জানান, ভাঙনের বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অনুমতি পেলে কাজ শুরু করা হবে।

কুড়িগ্রামের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী
জেলায় নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে শতাধিক চর ও দ্বীপচর। এসব এলাকার অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। কাঁচা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে ৫ হেক্টর জমির মওসুমি সবজি ক্ষেত ও আমন বীজতলা।
কুড়িগ্রাম সদরের ৩টি, উলিপুর উপজেলার ৪টি, চিলমারী উপজেলার ৫টি, রাজিবপুর উপজেলার ৩টি ও রৌমারী উপজেলার ৪টিসহ ১৯টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর পার্বতীপুর গ্রামের মোকছেদ আলী জানান, বাড়ির চার দিকে পানি ওঠায় রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। পানি আরো বাড়তে থাকলে বিপদে পড়ব। সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক শ্যামল দাস জানান, আমার এক একর জমির পটোল ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এতে আমার অনেক ক্ষতি হলো। সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল গফুর জানান, গত দুই দিনে তার ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপর দিকে নুন খাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৫ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে অপরিবর্তিত রয়েছে।

ধর্মপাশা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
সুরমা ও সুমেশ্বরী নদী দিয়ে বিপদসীমায় প্রবাহিত হয়ে উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ভারতের সীমান্তবর্তীসহ ১০টি গ্রামের চার শতাধিক পরিবার।
উপজেলার সীমান্তবর্তী রামসা টাঙ্গুয়ার হাওর তীরবর্তী বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের বাকাতলা গ্রাম, কান্দাপাড়া, ইছামারি, কাইতাকোনা, বাংঙ্গালবিটা ও কালাগড় গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে রয়েছে। ঢলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান মো: মোকাররম হোসেন তালুকদার বলেন, তার ইউনিয়নের দৌলতপুর,রাজাপুর, মিলনপুরসহ কয়েকটি গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সব রাস্তাঘাট ঢলের পানিতে তলিয়ে গছে। সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান মো: ফজলুর রহমান ফুল মিয়া বলেন, আমার ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কায়ুম মজনু বলেন, আমার ইউনিয়নের গলহা, নিয়ামতপুর, শালিয়ানী, হরিপুর, নয়াগাঁও ও গুচ্ছগ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের দেড় শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

চরভদ্রাসনে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত
এ উপজেলায় গত দুই দিনের প্রবল বর্ষণে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ধান, পাট, তিল ও সবজিমাঠ রয়েছে। উপজেলার চরঝাউকান্দা ইউনিয়ন, চরহরিরামপুর, গাজীরটেক ও সদর ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে আগামী দু-একদিনের মধ্যে ফসলি মাঠের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
চরহরিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল বারী দীপু জানান, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। গত দুই দিনের ভারী বর্ষণে উপজেলার শ্রমজীবীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে এবং জনভোগান্তি বাড়ছে।

ভুরুঙ্গামারীর সোনাহাট রেলসেতু হুমকির মুখে
কয়েক দিনের অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দুধকুমার নদের পানি আকস্মিক বৃদ্ধি পাওয়ায় সোনাহাট রেলসেতুটি হুমকির মুখে পড়েছে। নদীভাঙন রোধে পাউবো ও সড়ক বিভাগ সেতুটির পশ্চিম পাশে সংযোগ সড়কে বোল্ডার না দেয়ায় যেকোনো মুহূর্তে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, পাউবো নদী শাসন প্রকল্পে দুই ধারে বোল্ডার দেয়ার কাজ করে এলেও খুব ধীরগতিতে কাজ চলছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। পশ্চিম পাশের সেতুসংলগ্ন সড়কে ১৫-২০ ফুট জায়গায় পাউবো ও সড়ক বিভাগ সঠিক সময়ে বোল্ডার না ফেলার কারণে রেলসেতুটি হুমকির মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী সেতুটি রক্ষার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে, বাঁধ ভেঙে গেছে
তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে এ দিন সকাল থেকে কর্তৃপক্ষ দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে দিয়েছে।
ডালিয়া পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে তিস্তায় পানি বাড়তে থাকে এবং শনিবার সকাল ৬টা থেকে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ দিকে তিস্তার পানির চাপে শুক্রবার রাতে ডিমলা উপজেলার খালিশাচাপানী ইউনিয়নের সুপারীটারী ছোটখাতা এলাকায় ৬০০ ফিট দীর্ঘ একটি বালির ক্রসবাঁধ ভেঙে ছোটখাতা গ্রামের প্রায় ৪০ বাড়িতে তিস্তার পানি প্রবেশ করেছে।
এ ছাড়া তিস্তায় পানি বৃদ্ধির কারণে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলের ২৫টি গ্রাম প্লøাবিত হয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান ও উপসহকারী প্রকৌশলী সুরুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচ গেট খুলে রাখা হয়েছে।
ডিমলা উপজেলার খালিশাচাপানী ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল হক হুদা জানান, তিস্তা ব্যারাজের উজানে ছোটখাতায় নদীভাঙন রোধকল্পে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি শনিবার সকালে তিস্তা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ডিমলা উপজেলা কৃষি অফিসার হুমায়ুন কবির জানান, তিস্তাপাড় ও চরাঞ্চলের পাঁচ শতাধিক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়াসহ নিচু এলাকাগুলোর আমন বীজতলা ও মওসুমি শাকসবজি তলিয়ে গেছে বলে শুনেছি।

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ওপরে
গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্রের পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে শনিবার সকালে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধির ফলে সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও বিস্তীর্ণ চর এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। শত শত মানুষ এখন পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।
ফুলছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান এম এ সবুর জানান, তার ইউনিয়নের অনেক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি কোনো ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি।

সুন্দরগঞ্জে চরাঞ্চল প্লাবিত : ভেঙে গেছে ব্রিজ
সুন্দরগঞ্জের ৩০টি চরাঞ্চল বন্যায় প্লøাবিত হয়েছে। রামডাকুয়া তিস্তার শাখা নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজটি তীব্র স্রোতের কারণে ভেঙে পড়েছে। এতে ১০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আর পৌরশহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বন্যায় চরাঞ্চলে ২২ হাজার হেক্টর জমির তোষাপাট, ২২০ হেক্টর আমন বীজতলা, ৫৮০ হেক্টর বিভিন্ন প্রজাতির সবজি ক্ষেত ডুবে গেছে। ৪ শতাধিক পুকুরের পাড় উপচে পোনা মাছ বের হয়ে যাচ্ছে। সুন্দরগঞ্জ-হরিপুর পানি উন্নয়ন বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পৌরমেয়র আব্দুল্ল¬াহ আল মামুন জানান, ব্রিজটি সংস্কার এমনকি বিকল্প কোনো যোগাযোগব্যবস্থা চালু করার মতো কোনো পরিকল্পনা নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল হাই মিলটন জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে।

ফুলছড়িতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দু’টি অংশ ঝুঁকিতে
উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। পাউবোর গাইবান্ধা কার্যালয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেল থেকে গতকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ২৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বীজতলা ও শাকসবজির ক্ষেত। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উদাখালী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক নদীভাঙন শুরু হয়েছে। এসব গ্রামের প্রায় ৩৪৫টি পরিবারের বাড়িঘর ও গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে গৃহহীন পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ দিকে সিংড়িয়া-রতনপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের এক কিলোমিটার এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে দু’টি অংশ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি ও তাপবিদ্যুৎ : কেন্দ্র পর্যন্ত রেললাইন ডুবে গেছে
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি ও তার সংলগ্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, দুই প্রকল্পের মাঝখানে কয়েক দিনের অতি বৃষ্টির কারণে রেললাইনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে পার্বতীপুর থেকে ফুলবাড়ী পর্যন্ত রেল চলাচলে বিঘœ ঘটছে।

গোয়াইনঘাটে নতুন এলাকা প্লাবিত
পাহাড়ি ঢল আর অবিরাম বৃষ্টির পানিতে গোায়াইনঘাট উপজেলায় নতুন নতুন এলাকা প্লøাবিত হচ্ছে, অধিকাংশ এলাকার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ আবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কয়েক হাজার হেক্টর জমির আউশ-ইরি ও সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া জাফলং চা-বাগানের শ্রমিকদের বসতবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। দেশের বৃহত্তম দু’টি পাথর কোয়ারিসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকায় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। শ্রমিক ও অসহায় মানুষ তাদের পরিবারপরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। সারী-গোয়াইন ও সালুটিকর-গোয়াইনঘাট রাস্তার বিভিন্ন স্থানে সড়কের অংশ তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
অদিবাসী নেতা ও খাসিয়া পনরয় সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ওয়েলকাম লম্বা জানান, তিন দফা বন্যায় পুঞ্জি এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পান ও সুপারি বাগান তলিয়ে গেছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ানম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী জানান, এ পর্যন্ত ৪ টন ত্রাণ বরাদ্দ হয়েছে এবং বজ্রপাতে নিহত তিন ব্যক্তির পরিবারকে ৭৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যাকবলিত বিভিন্ন নতুন এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং সার্বক্ষণিক খোজখবর রাখছি।

পদ্মায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি : ফেরি চলাচল বিঘ্নিত
উজানের ঢল ও প্রবল বৃষ্টিতে পদ্মায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকটি ফেরি বিকল হয়ে থাকায় দৌলতদিয়ায় কয়েক শ’ যানবাহন আটকা পড়েছে। এ ছাড়া কয়েক স্থানে শত শত মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
দু’টি ফেরি বিকল দিনভর বৈরী আবহাওয়া ও পানি বৃদ্ধির ফলে পদ্মা-যমুনা নদীতে প্রচণ্ড স্রোতে নদী পারাপারে ফেরিগুলোর বেশি সময় ব্যয় হওয়ায় গতকাল দুপুর থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারের অপেক্ষায় আটকে পড়েছে পণ্যবাহী পাঁচ শতাধিক ট্রাক।
বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তা জানান, বর্ষা মওসুমের শুরুতেই নদীতে প্রচণ্ড স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে চলাচলকারী ফেরিগুলোকে উজানে অন্তত এক থেকে দেড় কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ২০-২৫ মিনিট সময় বেশি লাগছে। তিন কিলোমিটার দূরত্বের এ নৌপথ পার হতে ফেরিগুলো বাড়তি পথ ঘোরায় প্রতি ২৪ ঘণ্টায় প্রতিটি ফেরিতে চার-পাঁচটি করে ট্রিপ কমে গেছে। ফলে ঘাটে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া এ ঘাটের ফেরিগুলো ২৫-৩০ বছরের পুরনো। নতুন করে মেরামতের সময় নি¤œমানের পার্টস সংযোজন করায় অল্প সময়েই ফেরিগুলো আবার বিকল হচ্ছে। এতেও যানবাহন পারাপার ব্যাহত হয়।
গতকাল দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত মহাসড়কে প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে থাকতে দেখা যায়। এ ছাড়া দৌলতদিয়া ঘাটে পণ্যবাহী ট্রাকের চাপ কমাতে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ শত শত ট্রাক আটকে রেখেছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া অফিসের ম্যানেজার মো: শফিকুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ার নৌরুটে বর্তমানে ছয়টি রো রো, পাঁচটি ইউটিলিটি ও তিনটি কে-টাইপ ফেরি চলাচল করছে। এর মধ্যে ইউটিলিটি ফেরিগুলো প্রচণ্ড স্রোত ও ঝড়-বৃষ্টিতে চলাচল করতে পারে না। এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত শুক্রবার সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ও গতকাল শনিবার সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে কে-টাইপ ফেরি কপোতি ও একটি কে-টাইপ ফেরি মাওয়াঘাটে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
শিবালয় (মানিকগঞ্জ) 

উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বৃষ্টিতে পদ্মা-যমুনায় দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, আরিচা-কাজিরহাটসহ বিভিন্ন নৌরুটে ফেরি, লঞ্চ, কার্গো, নৌকা ইত্যাদি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে ঘুর পথে অতিরিক্ত সময় নিয়ে ফেরি, লঞ্চ চলাচল করায় উভয় ঘাটে দীর্ঘ যানজট ও যাত্রী ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। আরিচা পয়েন্টে যমুনার পানি গত ৪৮ ঘণ্টায় ৪৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল শনিবার ৭ দশমিক ৬৭ মিটার স্তরে প্রবাহিত হচ্ছিল। উল্লেখ্য, গত বছর এ দিনে আরিচা পয়েন্টে যমুনায় পানির স্তর ছিল ৬ দশমিক ২০ মিটার।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর, ঘিওর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভাঙনে নতুন নতুন এলাকা বিলীন হচ্ছে। বাঘুটিয়া, বাচামারা, চরকাটারী, জিয়নপুর, তেওতা, শিবালয়, আরুয়া, কাঞ্চনপুর,বাল্লা, রামকৃষ্ণপুর প্রভৃতি ইউনিয়নের পদ্মা-যমুনা তীরবর্তী এলাকায় নতুন করে ভাঙনের শিকার অন্তত ৫০০ পরিবার খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। এসব এলাকার প্রায় দুই হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, ভাঙনপ্রবণ শিবালয়ের জাফরগঞ্জ, গোয়াড়িয়া, মালুচি, তেওতা, নিহালপুর, এলাচিপুর, দাশকান্দী, নয়াকান্দী, কাঁঠালিয়া প্রভৃতি এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টির আশঙ্কায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আরুয়া ইউপি চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান খান মাসুম জানান, গত বর্ষায় কুষ্টিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন ১৫-২০টি বাড়ি পদ্মায় বিলীন হয়। এ স্কুলসংলগ্ন বিরাট পুকুর রক্ষায় সরকারি বরাদ্দ না থাকায় এ বছর যেকোনো সময় তা পদ্মায় বিলীন হলে গোটা এলাকা নিশ্চিহ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া গোয়াড়িয়া দ্বিতল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা যমুনার ভাঙনের মুখে পড়েছে।
শিবালয় উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আকবর জানান, নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে বহু জায়গা-জমি ও স্থাপনা বিলীন হবে। এ বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

, প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দুই দিন ধরে শিমুলিয়া-কাওরাকান্দি নৌরুটের পদ্মায় অস্বাভাবিকহারে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে শিমুলিয়া ও চরজানাজাত ফেরিঘাটের ছয়টি লো ওয়াটারঘাট উঁচুতে স্থানান্তর করা হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় মাওয়া পয়েন্টের পদ্মায় ৪২ সেন্টিমিটার ও ভাগ্যকুল পয়েন্টের পদ্মায় ৪০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৯০ ও ৫.১৪ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ দিকে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, ঝড়ো বাতাস ও স্রোতের তীব্রতায় বিঘিœত হচ্ছে এ নৌরুটের ফেরি চলাচল। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় শিমুলিয়া নৌরুটের মধ্যনদীতে লৌহজং চ্যানেলে যাত্রীবাহী রো রো ফেরি কেরামত আলী, ডাম্প ফেরি লেংটিং ও রামশ্রী ঝড়ো বাতাস ও স্রোতে নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে উজানের দিকে ভেসে যায়। একপর্যায়ে ফেরিগুলো আধা ঘণ্টা পর মূল পদ্মার নৌরুটে আসতে সক্ষম হয়। বিআইডব্লিউটিসির মেরিন অফিসার আহমেদ আলী জানান, গত কয়েক দিনের ধরে নৌরুটের পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মধ্যনদীতে ঝড়ো বাতাস ও স্রোতে ফেরি চলাচলে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শিমুলিয়া ও চরজানাজাতে পর্যায়ক্রমে ছয়টি ঘাট লো ওয়াটার থেকে হাই ওয়াটার ঘাটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com