শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৩০ অপরাহ্ন

আমার সন্তান শিগগিরই সব পেয়ে যাবে, যা পৃথিবীতে ছিল নিষিদ্ধ

চিঠি, ছোট্ট পাতায় কালির কয়েকটি আঁচড়। বিনা আঁচড়ের চিঠিও অনেক সময় হয় অর্থবোধক। গভীর তার ভাষা। প্রাপক মাত্রই বুঝতে পারেন।

উড়ে আসা চিঠিতে চোখ বুলিয়ে যেমন কারও ভিজে যায় নেত্র। হৃদয় মুচড়ে ওঠে। ভেঙে দেয় মন। তেমনি কোনো চিঠি হাতে পেয়ে চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ে পানি, আনন্দের! চিকচিক পানিতে ঝিলিক দেয় খুশির বন্যা, ভাসিয়ে নিতে চায় সব, সবকিছু!

টগবগে তরুণ মাহমুদ আল-আহমাদি ঠিক চিঠি লিখেননি। ফাঁসি কার্যকরের আগ মুহূর্তে মায়ের সঙ্গে আবেগঘন কথা বলেছেন। পরে সেটিই ছেলের জানাযায় বলেছেন মা।

মিশরে গত ২০ ফেব্রুয়ারি আরও ৮ তরুণের সঙ্গে মাহমুদ আল-আহমাদির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেশটির সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হিশাম বারাকাতকে খুন করেছেন।

দীর্ঘদিন এই ৯ তরুণ কারাবন্দি থেকেছেন। যতবার আদালতে হাজির করা হয়েছে, তারা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। কিন্তু, তাদের আকুতি স্বৈরশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির আজ্ঞাবহ বিচার প্রশাসনের কানে ঢোকেনি।

বিচারকরা তাদের দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির রায় কার্যকর করেন। এরপর তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন এই রায়ের কড়া সমালোচনা করেছেন। তারা এটিকে রাষ্ট্রীয় মদতে ‘হত্যা’ বলে সরকারের নিন্দা করেছেন।

কাতারভিত্তিক আল-জাজিরা আরবি অন্তিম মুহূর্তে লেখা এসব তরুণের চিঠি প্রকাশ করেছে, যা পড়ে কাঁদছে পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ।

মাহমুদ আল-আহমাদি গড়নে দুর্বল। কিন্তু, সঙ্কল্পে সুদৃঢ়। ফাঁসির পর জানাযায় তার মা অংশ নেন। সন্তানকে জানাযায় তিনি একেবারেই শুকনো চোখে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান।

মাহমুদ আল-আহমাদির মা সবার উদ্দেশে বলেন, ‘নিশ্চয় আমার সন্তান সবকিছু শিগগিরই পেয়ে যাবে, যা তার পার্থিব জীবনে নিষিদ্ধ ছিল। আর সে বিচার দিবসে পুরো পরিবারের জন্য সুপারিশকারী হবে। নিশ্চয় সে শহীদ।’

মৃত্যুদণ্ড দেয়া বিচারকের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতে আল-আহমাদি বলেন, কারাগারে তাকে ইলেকট্রিক শক ও নানা নির্যাতন করা হয়েছে। আমাদের নির্যাতনে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যয় করা হয়েছে, তা মিশরে আগামী ২০ বছরের জন্য যথেষ্ট হতো।

আহমাদি তার অনিবার্য ভাগ্যের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন, যখন তিনি তার গুম হয়ে যাওয়া ভাইয়ের রিপোর্ট করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল বিভাগে যান। তখন তাকেই গ্রেপ্তার করা হয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেল হিশাম হত্যার মিথ্যা অভিযোগ চাপানো হয় তার ওপর।

মাহমুদ আল-আহমাদি ছাড়াও যাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়, তারা হলেন, আহমাদ ত্বহা ওয়াহদান, আবুল কাসিম আহমাদ, আহমাদ জামাল হিজাযী, আবু বকর আস-সাইয়্যেদ, আব্দুর রহমান সুলাইমান, আহমাদ মুহাম্মাদ আহমাদ মাহরুস সাইয়্যেদ ও ইসলাম মুহাম্মাদ।

তারা প্রত্যেকেই আল-আযহারসহ দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com