শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৩০ অপরাহ্ন

আজ উদীচী ট্র্যাজেডির ২০ বছর

আজ বুধবার ৬ মার্চ, উদীচী ট্র্যাজেডির ২০ বছর পূর্তি। এখন পর্যন্ত বিচার হয়নি এ হত্যাকাণ্ডের।  দীর্ঘ সময়ে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার না পেয়ে হতাশ হতাহতদের পরিবারসহ যশোরের সংস্কৃতি কর্মীরা। বর্তমান সরকারের আমলেই পুনঃতদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত এবং বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ রাতে যশোরের টাউন হল মাঠে উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়। এতে ১০ জন সাংস্কৃতিক কর্মী নিহত হন। আহত হন শতাধিক মানুষ।

অভিযোগ রয়েছে, দুর্বল তদন্তের কারণে ২০০৬ সালের ৩০ মে খালাস পেয়ে যায় এ মামলার সব আসামি। পরে ২০১০ সালে উদীচী ও ২০১১ সালে সরকারের পক্ষ থেকে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। সেই থেকে মামলাটি পরবর্তী আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। ২০০৬ সালে খালাস পাওয়া ২৩ আসামির মধ্যে ৫ জন এরই মধ্যে মারা গেছেন। ১৭ আসামি উচ্চ আদালতের নির্দেশে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে ২০১১ সালের ২৪ জুলাই থেকে জামিনে আছেন। একজন আসামি মালয়েশিয়াতে রয়েছেন।

উদীচী ট্র্যাজেডিতে পা হারানো সাংস্কৃতিককর্মী সুকান্ত দাস বলেন, ‘অদ্ভূত ব্যাপার! এত বড় একটা ঘটনা একজন  মানুষকেও বিচারের আওতায় আনা গেল না। এই মামলাটা এখন কোর্টে আছে কিনা, তাও আমরা জানি না। এটা নিয়ে প্রশাসন বা সরকার কারও মাথাব্যাথা আছে বলেও আমরা লক্ষ্য করি না।’

তিনি বলেন, ‘শুরুর দিকে এই ঘটনার বিচারের দাবিতে সংস্কৃতি কর্মীদের মধ্যে যে একতা ছিল এখন সেটাও দেখছি না। সারাদেশের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের জন্য উদীচী হত্যাকাণ্ডের বিচার অপরিহার্য ছিল। কিন্তু বিচার আমরা পাইনি। এটা আমাদের যেমন ব্যর্থতা, তেমনি দেশের সচেতন মানুষ, প্রশাসন, যারা সরকারে ছিলেন, তাদের ব্যর্থতা।’

ক্ষোভের সঙ্গে সুকান্ত বলেন, ‘আমরা সব সময় উদীচীসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছি। ১৯৯৯ সালের অনেক পরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। তারও বিচার হয়ে গেছে। সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, উদীচী হত্যাকাণ্ডের যদি সুষ্ঠু বিচার করতে চান তাহলে বিচার প্রক্রিয়া  শুরু করেন। আমরা হতাশ, এই হতাশা কাটানোর দায়িত্ব সরকারের।’

উদীচী হত্যাকাণ্ডে নিহত তপনের বোন নাজমুন সুলতানা বিউটি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। আবারও ক্ষমতায় এসেছেন। আমরা তার কাছে উদীচী হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি। আমার মা এখনও বেঁচে আছেন। মরার আগে ছেলের হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে চান।’

যশোর শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু বলেন, ‘২০ বছরেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। যেভাবে এই মামলাটির তদন্ত ও উপস্থাপিত হয়েছে, তাতে মনে হয় বিচারের নামে প্রহসন হয়েছে। এসব ঘটনায় আমরা মর্মাহত ও বিক্ষুব্ধ।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোরের সাবেক সভাপতি হারুণ-অর-রশিদ বলেন, ‘আমরা যশোরের সংস্কৃতি কর্মীরা ক্ষুব্ধ ও শঙ্কিত। ২০ বছর আগে সন্ত্রাসীরা উদীচী হত্যাকাণ্ড দিয়ে সারাদেশে হত্যাকাণ্ড শুরু করে। দেশে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল-এটা সবাই জানে। আমরা জানি, পুলিশ যদি ইচ্ছা করে তাহলে যেকোনও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারে। কিন্তু এখনও তারা তা করছেন না। এর মানে হলো সরকারের সদিচ্ছা নেই। এখন পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানও সরকার সন্ধ্যার মধ্যে শেষ করতে বলে। তার মানে সরকারও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধকে সহায়তা করছে। আমরা মনে করি, উদীচী হত্যাকাণ্ডের বিচারের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম মুক্তি পাবে।’

যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর রফিকুল ইসলাম পিটু বলেন, ‘যশোরের মানুষ হিসেবে আমরাও চাই উদীচী হত্যাকাণ্ডের বিচার হোক। বিষয়টি যেহেতু উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় আছে, আমি ব্যক্তিগতভাবে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করবো। তিনি তৎপর হলে মামলাটির শুনানি হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

কর্মসূচি

দিনটি উপলেক্ষে বুধবার বিকালে যশোরে আলোচনা সভা, শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, শহীদ স্মারকে আলোক প্রজ্জ্বলন ও প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কমসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। নিহত তপনের পরিবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরে দ্রুত বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করবে।

খবরটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved dainikshokalerchattogram.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com